'বাবা, আমি মরতে চাই না, বাঁচাও!' নয়ডার যুবরাজের আর্তি থেমে গেল ২ ঘণ্টায়, এত চেষ্টা করেও কেন বাঁচানো গেল না ইঞ্জিনিয়ারকে?

Last Updated:
গ্রেটার নয়ডায় নির্মীয়মাণ একটি প্রকল্পস্থলে জলভরা গভীর গর্তে গাড়ি পড়ে যাওয়ার ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ২৭ বছরের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার Yuvraj Mehta-র। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাঁর গাড়ি ওই গর্তে পড়ে যায়। ঘটনার পর ছেলেকে বাঁচাতে না পারার অসহায়তা ও জনতার নিষ্ক্রিয়তা নিয়েই ক্ষোভ উগরে দেন শোকস্তব্ধ বাবা।
1/12
গ্রেটার নয়ডায় নির্মীয়মাণ একটি প্রকল্পস্থলে জলভরা গভীর গর্তে গাড়ি পড়ে যাওয়ার ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ২৭ বছরের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার Yuvraj Mehta-র। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাঁর গাড়ি ওই গর্তে পড়ে যায়। ঘটনার পর ছেলেকে বাঁচাতে না পারার অসহায়তা ও জনতার নিষ্ক্রিয়তা নিয়েই ক্ষোভ উগরে দেন শোকস্তব্ধ বাবা।
 নয়ডার সেক্টর ১৫০-তে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় এক তরুণ সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের মৃত্যু ঘিরে সামনে এসেছে চরম অব্যবস্থা ও প্রশাসনিক গাফিলতির ছবি। ঠান্ডা, ঘন কুয়াশাচ্ছন্ন রাতে সাহায্যের জন্য বাবাকে ফোন, জলের মধ্যে ডুবে যাওয়া গাড়ি, টর্চের আলো জ্বালিয়ে বাঁচার শেষ চেষ্টা—সব মিলিয়ে মৃত্যু পর্যন্ত শেষ ৯০ মিনিট কার্যত এক অসহায় লড়াইয়ে পরিণত হয়েছিল যুবরাজ মেহতার। ঠিক কী ঘটেছিল? জেনে নিন বিশদে। 
advertisement
2/12
ঘটনাটি ঘটে গভীর রাতে গ্রেটার নয়ডার সেক্টর ১৫০-র টি-পয়েন্টে। ২৭ বছরের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার যুবরাজ মেহতা তাঁর গ্র্যান্ড ভিটারা গাড়ি চালিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। ঘন কুয়াশা ও অতিরিক্ত গতির কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়িটি রাস্তার ক্ষতিগ্রস্ত ব্যারিকেড ভেঙে একটি গভীর, জলভরা নির্মাণ গর্তে পড়ে যায়। অভিযোগ, ওই গর্তের আশপাশে কোনও সতর্কতামূলক ব্যারিকেড, রিফ্লেক্টর বা সতর্ক আলো ছিল না, যদিও আগে থেকেই ওই জায়গা বিপজ্জনক বলে অভিযোগ উঠেছিল।
ঘটনাটি ঘটে গভীর রাতে গ্রেটার নয়ডার সেক্টর ১৫০-র টি-পয়েন্টে। ২৭ বছরের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার যুবরাজ মেহতা তাঁর গ্র্যান্ড ভিটারা গাড়ি চালিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। ঘন কুয়াশা ও অতিরিক্ত গতির কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়িটি রাস্তার ক্ষতিগ্রস্ত ব্যারিকেড ভেঙে একটি গভীর, জলভরা নির্মাণ গর্তে পড়ে যায়। অভিযোগ, ওই গর্তের আশপাশে কোনও সতর্কতামূলক ব্যারিকেড, রিফ্লেক্টর বা সতর্ক আলো ছিল না, যদিও আগে থেকেই ওই জায়গা বিপজ্জনক বলে অভিযোগ উঠেছিল।
advertisement
3/12
গাড়িটি জলভরা গভীর গর্তে পড়ে যাওয়ার পর সাঁতার না জানা যুবরাজ মেহতা কোনওভাবে গাড়ি থেকে বেরিয়ে ছাদের উপরে উঠে বসেন। সেই অবস্থাতেই তিনি তাঁর বাবা ও এক বন্ধুকে ফোন করেন। বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় আতঙ্কিত কণ্ঠে তিনি বলেন, “বাবা, আমি ডুবে যাচ্ছি, প্লিজ আমাকে বাঁচাও। আমি মরতে চাই না।” 
গাড়িটি জলভরা গভীর গর্তে পড়ে যাওয়ার পর সাঁতার না জানা যুবরাজ মেহতা কোনওভাবে গাড়ি থেকে বেরিয়ে ছাদের উপরে উঠে বসেন। সেই অবস্থাতেই তিনি তাঁর বাবা ও এক বন্ধুকে ফোন করেন। বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় আতঙ্কিত কণ্ঠে তিনি বলেন, “বাবা, আমি ডুবে যাচ্ছি, প্লিজ আমাকে বাঁচাও। আমি মরতে চাই না।” 
advertisement
4/12
“আমার ছেলে নিজেকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করছিল। সে বারবার ‘হেল্প’ বলে চিৎকার করছিল, আশায় ছিল কেউ না কেউ এগিয়ে আসবে। কিন্তু সেখানে উপস্থিত বেশিরভাগ মানুষই শুধু দাঁড়িয়ে দেখছিল”—এই আক্ষেপ রাজকুমার মেহতার। 
“আমার ছেলে নিজেকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করছিল। সে বারবার ‘হেল্প’ বলে চিৎকার করছিল, আশায় ছিল কেউ না কেউ এগিয়ে আসবে। কিন্তু সেখানে উপস্থিত বেশিরভাগ মানুষই শুধু দাঁড়িয়ে দেখছিল”—এই আক্ষেপ রাজকুমার মেহতার। 
advertisement
5/12
 ছেলের ফোন পেয়ে মিনিটের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছন বাবা রাজকুমার মেহতা, যিনি নয়ডার টাটা ইউরেকা পার্ক সোসাইটিতে থাকেন এবং স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার অবসরপ্রাপ্ত ডিরেক্টর। তিনি সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ও জরুরি পরিষেবায় খবর দেন। পুলিশ ও দমকল বাহিনী প্রথমে ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। পরে স্টেট ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স (SDRF) এবং আরও পরে ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স (NDRF) পৌঁছয়। কিন্তু ঘন কুয়াশা, তীব্র ঠান্ডা এবং গর্তের গভীরতার কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হয়।
ছেলের ফোন পেয়ে মিনিটের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছন বাবা রাজকুমার মেহতা, যিনি নয়ডার টাটা ইউরেকা পার্ক সোসাইটিতে থাকেন এবং স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার অবসরপ্রাপ্ত ডিরেক্টর। তিনি সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ও জরুরি পরিষেবায় খবর দেন। পুলিশ ও দমকল বাহিনী প্রথমে ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। পরে স্টেট ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স (SDRF) এবং আরও পরে ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স (NDRF) পৌঁছয়। কিন্তু ঘন কুয়াশা, তীব্র ঠান্ডা এবং গর্তের গভীরতার কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হয়।
advertisement
6/12
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, দড়ি ছোড়া হলেও তা যুবরাজের কাছে পৌঁছয়নি। ক্রেন ও মই ব্যবহার করা হলেও কার্যকর উদ্ধার সম্ভব হয়নি। অভিযোগ, জলের নীচে লোহার রড এবং বিপজ্জনক পরিস্থিতির কথা বলে উদ্ধারকর্মীরা বরফঠান্ডা জলে নামতে অস্বীকার করেন। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে যুবরাজ আলো দেখিয়ে ও চিৎকার করে সাহায্য চাইতে থাকেন। রাত আনুমানিক ১টা ৪৫ মিনিট নাগাদ তাঁর আর্তনাদ হঠাৎ থেমে যায়। উদ্ধার পৌঁছনোর আগেই ডুবে মৃত্যু হয় যুবকের।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, দড়ি ছোড়া হলেও তা যুবরাজের কাছে পৌঁছয়নি। ক্রেন ও মই ব্যবহার করা হলেও কার্যকর উদ্ধার সম্ভব হয়নি। অভিযোগ, জলের নীচে লোহার রড এবং বিপজ্জনক পরিস্থিতির কথা বলে উদ্ধারকর্মীরা বরফঠান্ডা জলে নামতে অস্বীকার করেন। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে যুবরাজ আলো দেখিয়ে ও চিৎকার করে সাহায্য চাইতে থাকেন। রাত আনুমানিক ১টা ৪৫ মিনিট নাগাদ তাঁর আর্তনাদ হঠাৎ থেমে যায়। উদ্ধার কর্মীরা পৌঁছনোর আগেই ডুবে মৃত্যু হয় যুবকের। 
advertisement
7/12
এই সময়েই এক ডেলিভারি এজেন্ট মোনিন্দর পরিস্থিতি দেখে আর অপেক্ষা না করে নিজেই ঝাঁপিয়ে পড়েন। কোমরে দড়ি বেঁধে তিনি বরফঠান্ডা জলে নেমে প্রায় ৩০ মিনিট ধরে যুবরাজ ও ডুবে যাওয়া গাড়ির খোঁজ করেন। যদিও জীবিত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি, তবু তাঁর এই উদ্যোগ প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তাকে সামনে এনে দেয়।
এই সময়েই এক ডেলিভারি এজেন্ট মোনিন্দর পরিস্থিতি দেখে আর অপেক্ষা না করে নিজেই ঝাঁপিয়ে পড়েন। কোমরে দড়ি বেঁধে তিনি বরফঠান্ডা জলে নেমে প্রায় ৩০ মিনিট ধরে যুবরাজ ও ডুবে যাওয়া গাড়ির খোঁজ করেন। যদিও জীবিত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি, তবু তাঁর এই উদ্যোগ প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তাকে সামনে এনে দেয়।
advertisement
8/12
CNN-News18-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মোনিন্দর জানান, পুলিশ ও দমকল দ্রুত এলেও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম থাকা সত্ত্বেও কেউ জলে নামেনি। তাঁর দাবি, দমকল বাহিনী যখন ঘটনাস্থলে পৌঁছয়, তখন যুবরাজ জীবিত ছিলেন এবং তাঁকে নিশ্চিতভাবেই বাঁচানো যেত।
CNN-News18-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মোনিন্দর জানান, পুলিশ ও দমকল দ্রুত এলেও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম থাকা সত্ত্বেও কেউ জলে নামেনি। তাঁর দাবি, দমকল বাহিনী যখন ঘটনাস্থলে পৌঁছয়, তখন যুবরাজ জীবিত ছিলেন এবং তাঁকে নিশ্চিতভাবেই বাঁচানো যেত।
advertisement
9/12
সংবাদ সংস্থা ANI-কে দেওয়া বক্তব্যে যুবরাজের বাবা রাজকুমার মেহতা বলেন, তাঁর ছেলে সাহায্যের জন্য কাঁদছিল, কিন্তু অনেকেই শুধু দাঁড়িয়ে ভিডিও করছিলেন। তাঁর অভিযোগ, উদ্ধারকাজে কোনও প্রশিক্ষিত ডাইভার ছিল না এবং গোটা ঘটনায় প্রশাসনের চরম অবহেলা রয়েছে।
সংবাদ সংস্থা ANI-কে দেওয়া বক্তব্যে যুবরাজের বাবা রাজকুমার মেহতা বলেন, তাঁর ছেলে সাহায্যের জন্য কাঁদছিল, কিন্তু অনেকেই শুধু দাঁড়িয়ে ভিডিও করছিলেন। তাঁর অভিযোগ, উদ্ধারকাজে কোনও প্রশিক্ষিত ডাইভার ছিল না এবং গোটা ঘটনায় প্রশাসনের চরম অবহেলা রয়েছে।
advertisement
10/12
যুবরাজের দেহ উদ্ধার করা হয় ভোর আনুমানিক সাড়ে চারটে নাগাদ, দীর্ঘ তল্লাশি অভিযানের পর। ঘটনার পর ওই নির্মাণস্থলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাব নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। পুলিশ সংশ্লিষ্ট বিল্ডারদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে।
যুবরাজের দেহ উদ্ধার করা হয় ভোর আনুমানিক সাড়ে চারটে নাগাদ, দীর্ঘ তল্লাশি অভিযানের পর। ঘটনার পর ওই নির্মাণস্থলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাব নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। পুলিশ সংশ্লিষ্ট বিল্ডারদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে।
advertisement
11/12
এদিকে Noida Authority জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ট্রাফিক তদারকিতে গাফিলতির অভিযোগে এক জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ারকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং একাধিক আধিকারিককে শোকজ করা হয়েছে। সংস্থার সিইও লোকেশ এম নির্দেশ দিয়েছেন, জমি বরাদ্দ ও নির্মাণ সংক্রান্ত বিষয় খতিয়ে দেখে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে হবে। পাশাপাশি নিরাপত্তা বিধি মানা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও আলাদা করে তদন্ত শুরু হয়েছে।
এদিকে Noida Authority জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ট্রাফিক তদারকিতে গাফিলতির অভিযোগে এক জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ারকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং একাধিক আধিকারিককে শোকজ করা হয়েছে। সংস্থার সিইও লোকেশ এম নির্দেশ দিয়েছেন, জমি বরাদ্দ ও নির্মাণ সংক্রান্ত বিষয় খতিয়ে দেখে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে হবে। পাশাপাশি নিরাপত্তা বিধি মানা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও আলাদা করে তদন্ত শুরু হয়েছে।
advertisement
12/12
এই ঘটনায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৫, ১০৬ ও ১২৫ ধারায়—অবহেলাজনিত মৃত্যু, দোষজনিত মানবহত্যা এবং জীবন ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বিপন্ন করার অভিযোগে—দুটি রিয়েল এস্টেট সংস্থার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে।
এই ঘটনায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৫, ১০৬ ও ১২৫ ধারায়—অবহেলাজনিত মৃত্যু, দোষজনিত মানবহত্যা এবং জীবন ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বিপন্ন করার অভিযোগে—দুটি রিয়েল এস্টেট সংস্থার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে।
advertisement
advertisement
advertisement