এবার কি PM Kisan থেকে ২০০০ টাকা আসবে? ৩০ লক্ষ কৃষকের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, তালিকায় নাম আছে কি না দেখে নিন
- Reported by:BENGALI NEWS18
- Written by:Trending Desk
Last Updated:
PM Kisan: PM Kisan-এর ২০০০ টাকা কিস্তির অপেক্ষায় কৃষকরা। ৩০ লাখ নাম বাদ পড়ার খবরের পর নিজের নাম beneficiary তালিকায় আছে কি না তা যাচাই করে নিন।
কৃষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা বার্তা। কারণ আগামী মাসেই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পিএম কিষাণর যোজনার টাকা জমা শুরু হবে। কেউ যদি এই প্রকল্প থেকে নির্ধারিত ২ হাজার টাকা পেতে চান, তাহলে অবশ্যই একটি জিনিস পরীক্ষা করে দেখতে হবে। অন্যথায়, টাকা আটকে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এখন তাহলে কী করা উচিত? বিশদে জেনে নেওয়া যাক।
advertisement
প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি যোজনার সুবিধাভোগীদের জন্য আসন্ন ফেব্রুয়ারি মাসটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সারা দেশের ৯ কোটিরও বেশি কৃষক এই যোজনার আওতায় ২২তম কিস্তির তহবিলের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। সরকারের পক্ষ থেকে অবশ্য এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। তবে বিশেষজ্ঞরা অনুমান করছেন যে ২০২৬ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটের সমাপ্তির পর ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে কৃষকদের অ্যাকাউন্টে ২০০০ টাকা জমা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
advertisement
এর আগে ২১তম কিস্তির তহবিল বিতরণের সময় কেন্দ্রীয় সরকার নিয়মকানুন অনেক কঠোর করে তুলেছিল। সেই সময় এটি একটি বড় চাঞ্চল্যের বিষয় হয়ে ওঠে যে সারা দেশে প্রায় ৩০ লক্ষ লোককে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে এবং তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এবার এই ধরনের সমস্যা এড়াতে সুবিধাভোগীদের তাঁদের ই-কেওয়াইসি প্রক্রিয়া আগে থেকেই সম্পন্ন করে রাখা উচিত। আধার লিঙ্কের পাশাপাশি একবার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের অবস্থাও পরীক্ষা করে নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়াও, একজন কৃষকের কৃষি আইডি থাকা উচিত।
advertisement
আসলে, সরকার কর্তৃক পরিচালিত ফিল্ড সার্ভেতে অনেক অনিয়ম প্রকাশ পেয়েছে। বিশেষ করে কর্মকর্তারা দেখেছেন যে একই পরিবারের স্বামী এবং স্ত্রী উভয়ই এই প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন। নিয়ম অনুসারে, একটি পরিবারের কেবলমাত্র একজন ব্যক্তির এই আর্থিক সহায়তা পাওয়া উচিত। সরকার এই ধরনের লঙ্ঘনকারীদের চিহ্নিত করেছে এবং তাদের নাম স্থায়ীভাবে মুছে ফেলেছে। পরিদর্শনে জানা গিয়েছে যে কিছু নাবালকও তাদের নামে তহবিলের টাকা পাচ্ছে।
advertisement
অনেকে ভাবতে পারেন যে নাম তালিকায় আছে কি না তাতে কিছু যায় আসে না, টাকা ঠিকই আসবে। বাস্তব কিন্তু ভিন্ন, তালিকায় নাম না থাকলে টাকা নাও আসতে পারে। নাম আছে কি না তা জানা কঠিন কিছু নয়। কৃষকরা সহজেই তাঁদের গ্রামের সুবিধাভোগীদের সম্পূর্ণ তালিকা অনলাইনে দেখতে পারবেন। এর জন্য তাঁদের PM Kisan-এর অফিসিয়াল পোর্টালে যাওয়া উচিত। সেখানে 'সুবিধাভোগী তালিকা' বিকল্পে ক্লিক করতে হবে এবং রাজ্য, জেলা, মণ্ডলের মতো বিবরণ প্রদান করতে হবে। সমস্ত বিবরণ পূরণ করার পরে 'রিপোর্ট পান' বোতামে ক্লিক করলে গ্রামের কতজন লোক তহবিলের টাকা পাচ্ছেন তা স্পষ্ট হয়ে যাবে। তালিকায় নাম থাকলেই আসন্ন কিস্তি আপনার অ্যাকাউন্টে জমা হবে।
advertisement
যদি কারও নাম গ্রামের তালিকায় না থাকে, তাহলে চিন্তার কোনও কারণ নেই। ওয়েবসাইটে 'আপনার অবস্থা জানুন' বিভাগের মাধ্যমে আপনার ব্যক্তিগত বিবরণ পরীক্ষা করা যাবে। এর জন্য নিজের রেজিস্টার করা মোবাইল নম্বর ব্যবহার করতে হবে। যদি এটি 'অযোগ্য' দেখায়, তাহলে অবিলম্বে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত। যদি কোনও প্রযুক্তিগত ত্রুটি থাকে, তাহলে সঠিক নথি জমা দিয়ে সহজেই সেগুলি সংশোধন করে নেওয়া যায়।
advertisement
সরকার কেন সুবিধাভোগীদের সরিয়ে দিচ্ছে তার বেশ কিছু কারণ রয়েছে। যাঁরা আয়কর প্রদান করেন এবং যাঁরা সরকারি চাকরিতে আছেন, তাঁরা এই প্রকল্পের জন্য সম্পূর্ণ অযোগ্য। যাঁরা কৃষক নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেননি, তাঁদেরও এই তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে NPCI ম্যাপিংয়ের অভাবে অনেকেই টাকা পাচ্ছেন না। যদি এই ত্রুটিগুলি অবিলম্বে সংশোধন করা হয়, তাহলে তহবিলের টাকা যথাসময়েই পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
advertisement
চাষের কাজে বিনিয়োগের জন্য এই ২০০০ টাকা কৃষকদের এক বড় আশা। সাধারণত প্রতি চার মাস অন্তর এই তহবিল বরাদ্দ করা হয়। বাজেট সভা এবং অন্যান্য প্রশাসনিক কাজের কারণে এবার কিছুটা বিলম্ব হতে পারে বলে মনে হচ্ছে। ফেব্রুয়ারির তৃতীয় বা চতুর্থ সপ্তাহে কৃষকদের মোবাইলে তহবিলের টাকা জমা দেওয়ার বার্তা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষকদের এই সহায়তা ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য একটি বিরাট স্বস্তি হবে।
advertisement
এই প্রকল্পের অধীনে এখন পর্যন্ত ২১টি কিস্তিতে তহবিলের টাকা প্রদান করা হয়েছে। কৃষকদের তাই নিজেদের আধার কার্ড তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে লিঙ্ক করতে ভুললে চলবে না। মোবাইল নম্বরটিও কার্যকর অবস্থায় থাকা উচিত। তবেই তাঁরা সরকারের কাছ থেকে প্রাপ্ত OTP-র মাধ্যমে নিজের বিবরণ আপডেট করতে পারবেন। সরকারের কাছ থেকে প্রাপ্ত প্রতিটি টাকার সদ্ব্যবহার করতে চাইলে অতএব কৃষকদের সতর্ক থাকা উচিত।






