দীর্ঘ ৪৮ বছর পর বদল এল ইঞ্জিনের নিয়মকানুনে, ভারতে পিস্টন রিং-এর নয়া BIS স্ট্যান্ডার্ড জারি; কী কী সুবিধা হবে এতে? জেনে নিন বিশদে
- Reported by:BENGALI NEWS18
- Published by:Siddhartha Sarkar
Last Updated:
প্রসঙ্গত এই পিস্টন রিং হল ইন্টারনাল কমবাশ্চন ইঞ্জিন (ICE)-র সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলির মধ্যে অন্যতম। ইতিমধ্যেই ১৯৭৭ সালের পুরনো স্পেসিফিকেশনগুলিকে সম্পূর্ণ রূপে আপডেট করা হয়েছে।
advertisement
1/5

ভারতীয় অটোমোবাইল ইন্ডাস্ট্রিতে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তন এসেছে। কেন্দ্রীয় সরকার পিস্টন রিংয়ের জন্য একটি নতুন মানদণ্ড জারি করেছে। প্রসঙ্গত এই পিস্টন রিং হল ইন্টারনাল কমবাশ্চন ইঞ্জিন (আইসিই)-র সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলির মধ্যে অন্যতম। ইতিমধ্যেই ১৯৭৭ সালের পুরনো স্পেসিফিকেশনগুলিকে সম্পূর্ণ রূপে আপডেট করা হয়েছে। আপডেট করা মানদণ্ডগুলির মধ্যে রয়েছে রিভাইসড ডাইমেনশনাল টলারেন্সেস, উপাদানের প্রয়োজনীয়তা এবং পরীক্ষার পদ্ধতি। ব্যুরো অফ ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডস (বিআইএস) এর এই নয়া নিয়মকানুনগুলির লক্ষ্য হল, যানবাহন থেকে কার্বন নির্গমন হ্রাস, জ্বালানি ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ভারতীয় যন্ত্রাংশগুলিকে বিশ্বমানের হিসেবে গড়ে তোলা। এই পরিবর্তন সরাসরি ভারতের তৃতীয় বৃহত্তম গাড়ির বাজারে ব্যাপক ভাবে প্রভাব ফেলবে। কারণ এই গাড়ির বাজারে এখনও পেট্রোল এবং ডিজেল চালিত যানবাহনের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। (Photo: AI/Representative Image)
advertisement
2/5
পিস্টন রিং কেন এত গুরুত্বপূর্ণ? পিস্টন রিংগুলি আসলে ইঞ্জিন সিলিন্ডারে থাকা পিস্টন দেওয়ালে তেলের স্তর নিয়ন্ত্রণ করে। সেই সঙ্গে এই রিংগুলি সঠিক পিচ্ছিলতা বজায় রাখে এবং অতিরিক্ত তেলকে ক্র্যাঙ্ককেসে ফিরিয়ে দেয়। এর ফলে কার্যকর জ্বালানি দহন, ঘর্ষণ হ্রাস এবং নির্গমন হ্রাস পায়, পাশাপাশি শক্তিও বৃদ্ধি পায়।ভারতের মোট গ্রিনহাউস গ্যাস এবং কণা নির্গমনের প্রায় ১৪ শতাংশই পরিবহণ ক্ষেত্রের জন্য দায়ী। অতএব পিস্টন রিংয়ের ডাইমেনশনাল টলারেন্স, উপাদানের প্রয়োজনীয়তা এবং পরীক্ষার পদ্ধতি আপডেট করা হলে সেটা সরাসরি যানবাহনের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করবে এবং নির্গমনও হ্রাস করবে।
advertisement
3/5
এর ফলে গাড়ি শিল্পের উপর কী প্রভাব পড়বে? Maruti Suzuki, Tata Motors, Mahindra, Hyundai এবং Toyota-র মতো উল্লেখযোগ্য গাড়ির কোম্পানিগুলি ইতিমধ্যেই গ্লোবাল স্পেসিফিকেশন মেনে চলে। তাই ওই সব সংস্থার জন্য খরচের প্রভাব ন্যূনতম হবে। যদিও ভারতের অটো পার্টস সেক্টর (২০২৬ সালে আনুমানিক ১১৬ বিলিয়ন ডলার মূল্যের) মূলত মাইক্রো, ক্ষুদ্র এবং মাঝারি আকারের উদ্যোগ (এমএসএমই)-এর উপর ভিত্তি করে তৈরি। এই ছোট নির্মাতাদের নতুন উপকরণ, কোটিং এবং পরীক্ষার সরঞ্জামগুলিতে বিনিয়োগ করতে হবে। তবে এই আপডেটগুলি এমএসএমই-গুলির জন্য অপরিহার্য। এটি তাদের পণ্যের মান উন্নত করবে এবং বিদেশি বাজারেও টক্কর দেওয়ার মতো করে তুলবে।
advertisement
4/5
ইভি ট্রানজিশনের সেতু হিসেবে আইসিই: ২০২৫ সালে মোট নতুন রেজিস্ট্রেশনের মাত্র ৮ শতাংশ ছিল ইভি। এর মধ্যে বেশিরভাগই দুই চাকার এবং তিন চাকার যানবাহন। এদিকে পেট্রোল এবং ডিজেল যানবাহন এখনও বাজারে আধিপত্য বিস্তার করে রেখেছে। এমতাবস্থায় বিআইএস-এর এই পদক্ষেপ আইসিই যানবাহনকে আরও কর্মক্ষম করে তুলবে। আর অটো ইন্ডাস্ট্রির বিশেষজ্ঞরা বিশ্বাস করেন যে, এই মানদণ্ডগুলি ইভি ট্রানজিশনের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াবে না, বরং সহায়ক হয়ে উঠবে। এমএসএমই-গুলি কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পর্যায়ক্রমে আপগ্রেড করারও সুযোগ পাবে। এতে লক্ষ লক্ষ কর্মসংস্থানের উপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়বে না।
advertisement
5/5
স্থিতিশীল গতিশীলতার জন্য একটি শক্তিশালী পদক্ষেপ: বিআইএস-এর নতুন পিস্টন রিং স্ট্যান্ডার্ডগুলি কেবল একটি প্রযুক্তিগত আপডেট নয়, বরং ভারতীয় অটো সেক্টরের জন্য স্থিতিশীলতার একটি বড় সঙ্কেত। এটি কেবল নির্গমন হ্রাস করবে না, বরং গ্লোবাল প্ল্যাটফর্মে ভারতীয় উপাদানগুলিকে আরও শক্তিশালী অবস্থান দেবে। যদিও ছোট নির্মাতাদের জন্য একটি ছোট বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এটি সমগ্র শিল্পকে শক্তিশালী করবে এবং প্রতিযোগিতার জন্য আরও প্রস্তুত করে তুলবে। (Representative Image)