নেতৃত্বের শূন্যতায় বংশধরই ভরসা! আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের পরে ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা কে?
- Published by:Tias Banerjee
Last Updated:
Next Leader After Death Of Ayatollah Ali Khamenei: আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর ইরানে নেতৃত্বের শূন্যতা তৈরি হয়েছে। সম্ভাব্য উত্তরসূরি হলেও সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক বাধা রয়েছে। কে নিতে চলেছেন নেতার আসন?
advertisement
1/12

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হওয়ার পর ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও সরকারি সংবাদসংস্থা আইআরএনএ তাঁর মৃত্যুর খবর প্রকাশ করে। প্রায় চার দশক ধরে দেশের সব গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্তে চূড়ান্ত মত দিতেন সর্বোচ্চ নেতা। ফলে তাঁর প্রয়াণে তৈরি হয়েছে নেতৃত্বের শূন্যতা।
advertisement
2/12
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প খামেনেইয়ের মৃত্যুর ঘোষণা দিয়ে বলেন, এটি ইরানের জনগণের জন্য “দেশ পুনরুদ্ধারের সবচেয়ে বড় সুযোগ।” তবে ওয়াশিংটন-ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের মতে, শীর্ষ নেতৃত্বের মৃত্যু হলেও অবিলম্বে শাসন পরিবর্তন নিশ্চিত নয়। কারণ খামেনেই নাকি আগেই তিন সম্ভাব্য উত্তরসূরির নাম চিহ্নিত করে গিয়েছিলেন এবং তিনি চাইতেন কঠোর অবস্থান নেওয়া ধর্মীয় নেতাদের মধ্যেই ক্ষমতা হস্তান্তর হোক, যাতে শাসনব্যবস্থাকে আরও ‘বিশুদ্ধ’ করা যায়।
advertisement
3/12
মোজতবা খামেনেই কে? তিনি কি ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হতে পারেন? মোজতবা খামেনেই হলেন প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার দ্বিতীয় পুত্র। তিনি একজন মধ্যম পর্যায়ের ধর্মীয় নেতা বা আলেম হিসেবে পরিচিত। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে।
advertisement
4/12
ইরান-ইরাক যুদ্ধে তিনি সশস্ত্র বাহিনীতে কাজ করেছিলেন। দীর্ঘদিন ধরেই তাঁকে পিতার ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং ‘গেটকিপার’ হিসেবে দেখা হয়—অর্থাৎ পর্দার আড়ালে নীতি নির্ধারণ ও যোগাযোগে প্রভাব বিস্তার করতেন বলে মনে করা হয়। সেই কারণেই অনেকের মতে তিনি সম্ভাব্য উত্তরসূরি হতে পারেন।
advertisement
5/12
তবে নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গত বছর খামেনেই তিন জন জ্যেষ্ঠ ধর্মীয় নেতাকে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচনায় রেখেছিলেন এবং মোজতবার নাম সেই তালিকায় নেই। যদিও বহু বছর ধরেই তাঁকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছিল।
advertisement
6/12
কেন মোজতবার সামনে বাধা? মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের মতে, মোজতবার সামনে একাধিক সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক বাধা রয়েছে। ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, ৮৮ সদস্যের অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করে। আইন অনুযায়ী প্রার্থীর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা থাকা প্রয়োজন।
advertisement
7/12
মোজতবা আনুষ্ঠানিক ভাবে কোনও রাজনৈতিক পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন না। যদিও বাস্তবে তিনি সর্বোচ্চ নেতার দফতর পরিচালনায় প্রভাবশালী ছিলেন বলে ধারণা, কিন্তু সরকারিভাবে তাঁর রাজনৈতিক ভূমিকা সীমিত। ফলে সাংবিধানিক মানদণ্ডে তিনি পিছিয়ে থাকতে পারেন।
advertisement
8/12
এছাড়া শিয়া ইসলামি প্রথা অনুযায়ী, নেতৃত্বের উত্তরাধিকার রক্তের সম্পর্কের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয় না, ব্যতিক্রম শুধু ১২ জন ঐশ্বরিকভাবে মনোনীত ইমামের ক্ষেত্রে। ১৯৮৯ সালে খোমেনির মৃত্যুর পর তাঁর প্রভাবশালী পুত্র আহমদ খোমেনিকে পাশ কাটিয়ে আলি খামেনেইকে সর্বোচ্চ নেতা করা হয়েছিল—এই একই নীতির কারণে।
advertisement
9/12
২০২৩ সালে এক বক্তৃতায় খামেনেই নিজেই বলেছিলেন, “একনায়কতন্ত্র ও বংশানুক্রমিক শাসন ইসলামসম্মত নয়।” স্টিমসন সেন্টারের এক বিশ্লেষণে এই মন্তব্যের উল্লেখ রয়েছে।
advertisement
10/12
২০২৪ সালে অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টসের সদস্য আয়াতোল্লা মাহমুদ মোহাম্মাদি আরাঘি জানান, মোজতবার নেতৃত্বের সম্ভাবনা নিয়ে তদন্তের চেষ্টা হলে খামেনেই নিজেই আপত্তি জানিয়েছিলেন। আরাঘির কথায়, “নেতা বলেছিলেন, এভাবে তদন্ত করলে নেতৃত্ব বংশানুক্রমিক হচ্ছে—এমন সন্দেহ তৈরি হবে। তাই তদন্তের অনুমতি দেওয়া হয়নি।” অন্য এক ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিষয়ে অনুসন্ধানের অনুমতি তিনি দেননি।
advertisement
11/12
সামনে কী? বিশ্লেষকদের মতে, মোজতবাকে বেছে নেওয়া হলে তা রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। খামেনেই নিজে যে মসৃণ ক্ষমতা হস্তান্তরের পরিকল্পনা করেছিলেন বলে ধারণা, তার সঙ্গে সেটি সাংঘর্ষিক হতে পারে। মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের পর্যবেক্ষণ, ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ভবিষ্যৎ রূপ নিয়ে খামেনেইয়ের যে ভাবনা ছিল, তাতে মোজতবার নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা কম বলেই মনে করা হচ্ছে।
advertisement
12/12
সব মিলিয়ে, খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর ইরান এখন এক সন্ধিক্ষণে। সম্ভাব্য উত্তরসূরি কে হবেন, তা নির্ধারণ করবে দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য।