Iran's 3 War Conditions Explained: যুদ্ধের অবসান ঘটানোর জন্য ৩টি শর্ত দিয়েছে ইরান, ভারতের অর্থনীতির উপর এর কী প্রভাব পড়তে চলেছে? জানুন বিশদে
- Reported by:BENGALI NEWS18
- Published by:Siddhartha Sarkar
Last Updated:
Iran's 3 Conditions For Ceasefire: What They Could Mean For Indian Economy | ভারতের প্রায় ৪০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল হরমুজ প্রণালী দিয়েই আমদানি করা হয়। আর এই হরমুজ প্রণালীই হল একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ।
advertisement
1/11

ইরান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইজরায়েলের চলমান সংঘাত ভূরাজনৈতিক বিষয়ের মধ্যে আর আটকে নেই। বরং তা ভূরাজনৈতিক গণ্ডি পার করে গ্লোবাল মার্কেটের মধ্যেও ঢুকে পড়েছে। অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ১০০ ডলারেরও বেশি বেড়ে গিয়েছে। দেশের বিভিন্ন অংশে এলপিজি-র সরবরাহ ঘাটতি রয়েছে এবং গালফ বা উপসাগরীয় অঞ্চলে জাহাজ চলাচলের গতিপথগুলি ইতিমধ্যে চাপের মুখে পড়েছে। এর ফলে ভারতের জন্য ঝুঁকি কিন্তু বিশেষ ভাবে বেশি। কারণ আমাদের দেশ এই অঞ্চল থেকে জ্বালানি আমদানির উপর ব্যাপক ভাবে নির্ভর করে।
advertisement
2/11
ভারতের প্রায় ৪০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল হরমুজ প্রণালী দিয়েই আমদানি করা হয়। আর এই হরমুজ প্রণালীই হল একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ। যা এখন ইরান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইজরায়েলের চলমান সংঘাতের কারণে ব্যাঘাতের মুখে পড়েছে। এখানেই শেষ নয়, বর্তমানে ভারত নিজেদের এলপিজি প্রয়োজনীয়তার প্রায় ৬০ শতাংশ আমদানি করে এবং সেই আমদানির প্রায় ৯০ শতাংশ ওই হরমুজ প্রণালী দিয়েই হয়। পরিস্থিতিতে অশান্ত হয়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে অবশ্য ইরান এই সংঘাত অবসান করার জন্য তিনটি বড় শর্ত পেশ করেছে। আর ইরানের এই দাবিগুলির ফলাফল কেবল পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতেই প্রভাব ফেলবে, এমনটা নয়। সেই সঙ্গে ভারতের অর্থনীতি, মুদ্রাস্ফীতি এবং আর্থিক বাজারের গতিপথও নির্ধারণ করে দিতে পারে। (Photo: AP)
advertisement
3/11
যুদ্ধের অবসানের জন্য ইরানের দেওয়া তিনটি শর্ত: বুধবার যুদ্ধের দ্বাদশ দিনে তিনটি শর্ত রেখেছে ইরান। যদি সেই তিনটি বড় শর্ত মেনে নেওয়া হয়, তাহলে সমস্ত শত্রুতা এবং যুদ্ধের অবসান করার বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান। সেখানকার প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সোশ্যাল মিডিয়ার একটি পোস্টে লিখেছেন যে, “রাশিয়া এবং পাকিস্তানের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে আমি এই অঞ্চলে শান্তি রক্ষার ক্ষেত্রে ইরানের যে অঙ্গীকার, সেটাই পুনর্ব্যক্ত করেছি।” এখানেই শেষ নয়, তিনি আরও জানান যে, ইজরায়েল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দ্বারা সৃষ্ট এই যুদ্ধের অবসানের একমাত্র উপায় হল - ইরানের বৈধ অধিকার, ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং ভবিষ্যতের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দৃঢ় আন্তর্জাতিক নিশ্চয়তার স্বীকৃতি দেওয়া। (Photo: AP)
advertisement
4/11
তাহলে দেখে নেওয়া যাক, সেই তিনটি বড় বড় শর্ত দিয়ে কী জানানো হয়েছে ইরানের তরফে। প্রথমত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইজরায়েলকে সমস্ত রকম সামরিক আক্রমণ অবিলম্বে বন্ধ করে দিতে হবে। ইরান জোর দিয়ে এ-ও জানিয়ে দিয়েছে যে, হামলা সম্পূর্ণ বন্ধ হওয়ার পরেই কেবল যে কোনও রকম আলাপ-আলোচনা শুরু করা যেতে পারে। দ্বিতীয়ত, তেহরান ভবিষ্যতে এই ধরনের হামলার পুনরাবৃত্তি না হওয়ার নিশ্চয়তা চেয়েছে। ইরানি আধিকারিকরা জোর দিয়ে বলেছেন যে, কেবল একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিই এক্ষেত্রে যথেষ্ট নয়। সেই সঙ্গে নিরাপত্তার নিশ্চয়তারও প্রয়োজন রয়েছে। তৃতীয়ত, ইরান তার সার্বভৌম অধিকারের স্বীকৃতি এবং সংঘাতের সময় সৃষ্ট ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণও দাবি করেছে। এই দাবিগুলি কার্যকর ভাবে সংঘাতের সমাধানকে জটিল ভূ-রাজনৈতিক আলোচনার উপর নির্ভরশীল করে তুলেছে। (Photo: AP)
advertisement
5/11
ভারত প্রতিদিন প্রায় ৫.৩-৫.৫ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ব্যবহার করে। কিন্তু অভ্যন্তরীণ উৎপাদন প্রতিদিন মাত্র ০.৬ মিলিয়ন ব্যারেল। যার ফলে দেশটি প্রায় ৮৫ শতাংশ আমদানির উপর নির্ভরশীল। পেট্রোলিয়াম আমদানি ইতিমধ্যেই ভারতের মোট আমদানির ২৫-৩০ শতাংশ। যা তেলের দামকে দেশের বাহ্যিক ভারসাম্যের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি করে তোলে। ভারতের জন্য অপরিশোধিত তেলের মূল্য বৃদ্ধির অর্থ হল আমদানি বিল বৃদ্ধি, রুপির উপর চাপ এবং সম্ভাব্য মুদ্রাস্ফীতি। ডিএসপি মিউচুয়াল ফান্ডের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ১০ ডলার বৃদ্ধির ফলে ভারতের বার্ষিক আমদানি বিলের সঙ্গে প্রায় ১২-১৫ বিলিয়ন ডলার যোগ হবে। (Photo: AP)
advertisement
6/11
সেই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে, যদি অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১২০ ডলারের দিয়ে যায় এবং এই প্রবণতা ২০২৭ অর্থবর্ষ পর্যন্ত অব্যাহত থাকে, তাহলে ভারতের তেল বাণিজ্য ঘাটতি প্রায় ২২০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে যেতে পারে। এর ফলে চলতি হিসাবের ঘাটতি জিডিপি-র ৩.১ শতাংশের উপরে পৌঁছে যাবে। ঐতিহাসিক ভাবে এই ধরনের ঘটনাগুলির জেরে মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি এবং কঠোর লিক্যুইডিটি পরিস্থিতির পাশাপাশি রুপির মূল্য ১০ শতাংশেরও বেশি হ্রাস পেয়েছে। (Photo: AP)
advertisement
7/11
পরিস্থিতি ১: দ্রুত সংঘর্ষবিরতি — মার্কেগুলির জন্য স্বস্তি: যদি আলোচনা সফল হয় এবং যুদ্ধের দ্রুত অবসান হয়, তাহলে ভারতের উপর অর্থনৈতিক প্রভাব সীমিত হতে পারে। সরবরাহের সংক্রান্ত উত্তেজনা কমে গেলে তেলের দাম আগের স্তরে ফিরে যেতে পারে। বিশ্লেষকরা বিশ্বাস করেন যে, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে উত্তেজনা কমে গেলে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৬০-৭০ ডলারের মধ্যে ফিরে আসতে পারে। এই পরিস্থিতিতে ভারতীয় অর্থনীতিতে কেবল সাময়িক অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। শেয়ার বাজার স্থিতিশীল হতে পারে এবং মুদ্রাস্ফীতির চাপ নিয়ন্ত্রণে থাকতে পারে। (Photo: AP)
advertisement
8/11
পরিস্থিতি ২: দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত — মুদ্রাস্ফীতি এবং বিকাশের ঝুঁকি: যদি যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে ভারতের অর্থনৈতিক পরিণতি আরও গুরুতর হতে পারে। তেলের মূল্য বৃদ্ধির ফলে পরিবহণ ও উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পায়। এর ফলে প্রায়শই মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি পায়। একই সঙ্গে আমদানি বিল বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে দেশের চলতি হিসাবের ঘাটতি আরও বেড়ে যেতে পারে।অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, তেলের দামে প্রতি ১০ শতাংশ বৃদ্ধি ভারতের জিডিপি-র বৃদ্ধিকে ২০-২৫ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে দিতে পারে। একটি বেসিস পয়েন্ট হল শতকরা ১০০ ভাগ। বিশ্বব্যাপী অনিশ্চয়তার বিষয়ে বিনিয়োগকারীদের প্রতিক্রিয়ার কারণে ইক্যুইটি বাজারগুলিও অস্থিরতার সম্মুখীন হতে পারে। (Photo: AP)
advertisement
9/11
পরিস্থিতি ৩: হরমুজ প্রণালীতে ব্যাঘাত — সবচেয়ে খারাপ ফলাফল: ভারতের জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হল- হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে ব্যাঘাত। আসলে এই জলপথ বিশ্বব্যাপী তেল ও গ্যাস সরবরাহের একটি বড় অংশের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যদি ট্যাঙ্কার চলাচল বন্ধ হয়ে যায় বা মারাত্মক ভাবে ব্যাহত হয়, তাহলে তেলের দাম তীব্র ভাবে বৃদ্ধি পেয়ে যেতে পারে। এই ধরনের ধাক্কার জেরে ভারতে জ্বালানির দাম অনেকটাই বেড়ে যাবে। সেই সঙ্গে সার ও খাদ্যের দাম বৃদ্ধি পাবে এবং উচ্চতর ভর্তুকির মাধ্যমে সরকারি অর্থের উপরেও চাপ তৈরি হবে। সরবরাহ ব্যাহত হলে বিশ্ববাজারেও ব্যাপক অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। (Photo: AP)
advertisement
10/11
ঝুঁকির পরিস্থিতির মোকাবিলায় ভারত কী করছে? সঙ্কটের প্রভাব কমাতে ভারত ইতিমধ্যেই পদক্ষেপ গ্রহণ করতে শুরু করে দিয়েছে। ইতিমধ্যেই রাশিয়া থেকে পণ্য-সহ অতিরিক্ত অপরিশোধিত তেল সরবরাহের দিকটা নিশ্চিত করে রেখেছে ভারত। সেই সঙ্গে তেলের বাজার স্থিতিশীল করার জন্য বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংস্থাগুলির সঙ্গে সমন্বয়ও স্থাপন করে রেখেছে। শুধু তা-ই নয়, এদিকে অভ্যন্তরীণ এলপিজি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখার জন্যও কাজ করে চলেছে সরকার। পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক ঘটনাবলি প্রসঙ্গে এক আন্তঃমন্ত্রণালয় ব্রিফিংয়ে গত ১১ মার্চ পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব সুজাতা শর্মা বলেন যে, “ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে এলপিজি এবং অপরিশোধিত তেল সরবরাহ সুরক্ষিত করার জন্য ভারত একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।” (Photo: AP)
advertisement
11/11
জ্বালানি ঘাটতির ঝুঁকি হ্রাস করতে সরকার দেশীয় রিফাইনার এবং পেট্রোকেমিক্যাল সংস্থাগুলিকে এলপিজি উৎপাদন সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছে। পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব সুজাতা শর্মা আরও বলেন যে, “গত ৮ মার্চ সরকার রিফাইনারি এবং পেট্রোকেমিক্যালগুলিকে তাদের এলপিজি উৎপাদন সর্বাধিক করার জন্য নির্দেশ দিয়েছিল। প্রোপেন, প্রোপিলিন, বিউটেন এবং বিউটিনের অন্তর্ভুক্ত সমস্ত সি৩ এবং সি৪ হাইড্রোকার্বন স্ট্রিম এলপিজি পুলে যোগ হবে এবং এটি তিনটি সরকারি খাতের কোম্পানিকে অভ্যন্তরীণ সরবরাহের জন্য সরবরাহ করা হবে। এর ফলে আমাদের অভ্যন্তরীণ এলপিজি উৎপাদন ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।” (Photo: AP)
বাংলা খবর/ছবি/ব্যবসা-বাণিজ্য/
Iran's 3 War Conditions Explained: যুদ্ধের অবসান ঘটানোর জন্য ৩টি শর্ত দিয়েছে ইরান, ভারতের অর্থনীতির উপর এর কী প্রভাব পড়তে চলেছে? জানুন বিশদে