মন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, কর্মচারী, পেনশন, জ্বালানি এবং অর্থসংক্রান্ততে বিপুল ব্যয় সত্ত্বেও, ভারতীয় রেলওয়ে ধাবাবাহিকভাবে একটি সামান্য উদ্বৃত্ত বজায় রেখে চলেছে। বৈদ্যুতিকরণ দক্ষতা বৃদ্ধিকরা ক্ষেত্রে একটি মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে, যার ফলে বছরে প্রায় ৬,০০০ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে ও ডিজেলের ওপর নির্ভরতা হ্রাস পেয়েছে। গত এক দশকে পণ্য পরিবহণের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ১,৬৫০ মিলিয়ন টনে পৌঁছেছে, যা ভারতীয় রেলকে বিশ্বব্যাপী দ্বিতীয় বৃহত্তম পণ্য পরিবহণকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ট্র্যাক নির্মাণ ও বৈদ্যুতিকরণএর কাজও ত্বরান্বিত হয়েছে, প্রায় ৩৫,০০০ কিলোমিটার নতুন রেলপথ স্থাপন করা হয়েছে এবং ৯৯% এরও অধিক নেটওয়ার্কেরবৈদ্যুতিকরণ করা হয়েছে।
advertisement
মন্ত্রী আরও জোর দিয়ে বলেন যে, সুরক্ষা আমাদের মূল অগ্রাধিকার হিসেবেই বহাল রয়েছে। আর সুনির্দিষ্ট বিনিয়োগ ও পদ্ধতিগত সংস্কারের ফলে রেল দুর্ঘটনা প্রায় ৯০% হ্রাস পেয়েছে। অটোম্যাটিকসিগন্যালিং-এর সম্প্রসারণের পাশাপাশি, রোড ওভার ব্রিজ এবং রোড আন্ডার ব্রিজ-এর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
মন্ত্রী সারা দেশে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু কানেক্টিভিটি পদক্ষেপের ওপর আলোকপাত করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, শিলিগুড়ি করিডোরে ৩০ কিলোমিটার দৈর্ঘের একটি ভূগর্ভস্থ দ্বৈত-লাইন করিডোর নির্মাণের পরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে, যাতে সংকটকালীন পরিস্থিতিতে বাধাহীন সংযোগ নিশ্চিত করা যায়। ভারত-নেপাল সীমান্তয়, ক্রস-বোর্ডার কানেক্টিভিটি ও আঞ্চলিক বিকাশ মজবুত করার লক্ষ্যে নারকটিয়াগঞ্জ–রাক্সৌল–সীতামঢ়ী–দারভাঙ্গা–মুজাফফরপুর সেকশন একাধিক দ্বৈতকরণ ও ক্ষমতা-বৃদ্ধি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।উত্তর-পূর্বাঞ্চলে, লঙ্কা–শিলচর এবং ডেকারগাঁও–শিলঘাটসহ নতুনলাইনের জন্য বিস্তারিত প্রকল্প প্রতিবেদন (ডিপিআর) প্রস্তুত করা ও এটি সম্পন্ন করার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলি এগিয়ে চলছে; পাশাপাশি নিউ জলপাইগুড়ী ও কামাখ্যার মধ্যে অতিরিক্ত লাইনের জন্য জরিপ ও নির্মাণকাজও অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, আন্তর্জাতিক কানেক্টিভিটির পদক্ষেপগুলিও, যেখানে ভুটানের মতো প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে প্রস্তাবিত রেল সংযোগ রয়েছে, সেগুলিও সক্রিয়ভাবে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির ওপর আলোকপাত করতে গিয়ে মন্ত্রী জানান, পরিষেবা ও দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ভারতীয় রেল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ‘RailOne’ অ্যাপ-এর মতো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মসহ বিভিন্ন প্রযুক্তির সদ্ব্যবহার করছে। স্টেশন পুনর্বিকাশ, ‘পিএম গতি শক্তি’-ভিত্তিক পরিকল্পনা এবং মুম্বাই–আহমেদাবাদ বুলেট ট্রেনের মতো হাই-স্পিড রেল প্রকল্পগুলির মতো প্রধান পদক্ষেপগুলি দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে।তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, রাজ্য সরকারগুলির সঙ্গে ধারাবাহিকসহযোগিতা—বিশেষ করে ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে—প্রকল্পের যথাসময়ে বাস্তবায়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে। ১২.৫ লক্ষ রেলকর্মীর অবদানের স্বীকৃতি প্রদান করে, তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, একটি আধুনিক, সুরক্ষিত ও বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতামূলক রেল ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য চলমান এই রূপান্তর একটি সম্মিলিত প্রচেষ্টা।
