‘‘মানুষ হিসেবে রাষ্ট্রপতি কত বড় মাপের, সেটা তাঁর সঙ্গে দেখা করে বুঝলাম’’: নিরঞ্জন প্রধান

Mar 25, 2017 07:13 PM IST
1 of 5
  • ভাস্কর্য্য শিল্পকলায় গত পাঁচ দশক ধরে তাঁর অনন্য কীর্তির স্বাক্ষর রেখেছেন বহুবার ৷ কিন্তু শিল্পী নিরঞ্জন প্রধানের শিল্পকলায় যেন কোনও ক্লান্তি নেই ৷ বছরের পর বছর তাঁর দুর্দান্ত সৃষ্টিগুলি শোভা পেয়েছে কলকাতা-সহ এরাজ্যের সর্বত্রই ৷ তাঁর তৈরি রাজা রামমোহন রায়ের মূর্তি পাড়ি দিয়েছে বিলেতেও ৷ ব্রিস্টলে স্থাপিত সেই মূর্তি নিয়ে আজও চর্চা হয় সর্বত্র ৷ কিন্তু নিরঞ্জনবাবুর কাজে যেন কোনও বিরাম নেই এই ৭৮ বছর বয়সে এসেও ৷ শিল্পের প্রতি তাঁর এই ভালবাসাই এবার নিরঞ্জনবাবুকে নিয়ে গিয়ে ফেলেছিল রাইসিনা হিলে ৷ রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের মূর্তি তৈরির জন্য এবার তাঁর ডাক আসে সরাসরি রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে ৷ টাকা-পয়সা নিয়ে কিছু সমস্যা থাকলেও এমন দুর্দান্ত প্রস্তাব লুফে নিতে বিশেষ ভাবেননি কলকাতার বর্ষীয়ান শিল্পী নিরঞ্জন প্রধান ৷ Story & Interview : Siddhartha Sarkar

    ভাস্কর্য্য শিল্পকলায় গত পাঁচ দশক ধরে তাঁর অনন্য কীর্তির স্বাক্ষর রেখেছেন বহুবার ৷ কিন্তু শিল্পী নিরঞ্জন প্রধানের শিল্পকলায় যেন কোনও ক্লান্তি নেই ৷ বছরের পর বছর তাঁর দুর্দান্ত সৃষ্টিগুলি শোভা পেয়েছে কলকাতা-সহ এরাজ্যের সর্বত্রই ৷ তাঁর তৈরি রাজা রামমোহন রায়ের মূর্তি পাড়ি দিয়েছে বিলেতেও ৷ ব্রিস্টলে স্থাপিত সেই মূর্তি নিয়ে আজও চর্চা হয় সর্বত্র ৷ কিন্তু নিরঞ্জনবাবুর কাজে যেন কোনও বিরাম নেই এই ৭৮ বছর বয়সে এসেও ৷ শিল্পের প্রতি তাঁর এই ভালবাসাই এবার নিরঞ্জনবাবুকে নিয়ে গিয়ে ফেলেছিল রাইসিনা হিলে ৷ রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের মূর্তি তৈরির জন্য এবার তাঁর ডাক আসে সরাসরি রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে ৷ টাকা-পয়সা নিয়ে কিছু সমস্যা থাকলেও এমন দুর্দান্ত প্রস্তাব লুফে নিতে বিশেষ ভাবেননি কলকাতার বর্ষীয়ান শিল্পী নিরঞ্জন প্রধান ৷ Story & Interview : Siddhartha Sarkar

  • অত্যন্ত কম সময়ের মধ্যেই রাষ্ট্রপতির মূর্তি তৈরি করতে হবে জেনেও সেই চ্যালেঞ্জটা হাসিমুখেই গ্রহণ করেছিলেন নিরঞ্জন প্রধান ৷ রাষ্ট্রপতির মূর্তি বানানোর সুযোগ আর ক’জনই বা পান ৷ মূর্তি সাধারণত মহান ব্যক্তিরা মারা যাওয়ার পরেই বানানো হয় ৷ সেখানে জীবিত রাষ্ট্রপতির মূর্তি তৈরি করার সুযোগ পেয়ে স্বভাবতই আপ্লুত ছিলেন কলকাতার শিল্পী ৷ নিরঞ্জনবাবুর কথায়, ‘‘রাষ্ট্রপতির মূর্তি তৈরি করাটাই আমার কাছে আসল ৷ টাকাটা সেখানে গুরুত্বপূর্ণ নয় ৷ এই প্রাপ্তি আর ক’জনের ভাগ্যে হয় ? তখন রাষ্ট্রপতির কিছু ছবি পাঠাতে বলি ৷ সেগুলি দেখে কলকাতা থেকেই মাটির মূর্তিটা প্রাথমিকভাবে তৈরি করে নিয়ে গিয়েছিলাম ৷ বাকি ফিনিশিং টাচটা দিই রাষ্ট্রপতি ভবনে বসেই ৷ রাষ্ট্রপতিকে সামনে পেয়ে তাঁর লাইভ মূর্তি তৈরি করার সুযোগ পাওয়াটা সত্যি লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট ৷ ’’ Photo Courtesy : Niranjan Pradhan/Rashtrapati Bhavan

    অত্যন্ত কম সময়ের মধ্যেই রাষ্ট্রপতির মূর্তি তৈরি করতে হবে জেনেও সেই চ্যালেঞ্জটা হাসিমুখেই গ্রহণ করেছিলেন নিরঞ্জন প্রধান ৷ রাষ্ট্রপতির মূর্তি বানানোর সুযোগ আর ক’জনই বা পান ৷ মূর্তি সাধারণত মহান ব্যক্তিরা মারা যাওয়ার পরেই বানানো হয় ৷ সেখানে জীবিত রাষ্ট্রপতির মূর্তি তৈরি করার সুযোগ পেয়ে স্বভাবতই আপ্লুত ছিলেন কলকাতার শিল্পী ৷ নিরঞ্জনবাবুর কথায়, ‘‘রাষ্ট্রপতির মূর্তি তৈরি করাটাই আমার কাছে আসল ৷ টাকাটা সেখানে গুরুত্বপূর্ণ নয় ৷ এই প্রাপ্তি আর ক’জনের ভাগ্যে হয় ? তখন রাষ্ট্রপতির কিছু ছবি পাঠাতে বলি ৷ সেগুলি দেখে কলকাতা থেকেই মাটির মূর্তিটা প্রাথমিকভাবে তৈরি করে নিয়ে গিয়েছিলাম ৷ বাকি ফিনিশিং টাচটা দিই রাষ্ট্রপতি ভবনে বসেই ৷ রাষ্ট্রপতিকে সামনে পেয়ে তাঁর লাইভ মূর্তি তৈরি করার সুযোগ পাওয়াটা সত্যি লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট ৷ ’’ Photo Courtesy : Niranjan Pradhan/Rashtrapati Bhavan

  • কিন্তু রাষ্ট্রপতির মতো দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং ব্যস্ত মানুষের পক্ষে মূর্তির জন্য বেশি সময় দেওয়াটা যে অত্যন্ত কঠিন ৷ সেটা বিলক্ষণ জানতেন নিরঞ্জনবাবু ৷ সেই মতো প্রস্তুতিও নিয়ে গিয়েছিলেন কলকাতা থেকে ৷ রাষ্ট্রপতি শেষপর্যন্ত আধ ঘণ্টা করে পাঁচ দিন সময় দেন শিল্পীকে ৷ ওইটুকু সময়েই যথেষ্ট ছিল অভিজ্ঞ ভাস্করের জন্য ৷ নিরঞ্জনবাবুর কথায়, ‘‘ রাষ্ট্রপতি আমাকে বলেন পাঁচ দিন আধ ঘণ্টা করে সময় দিতে পারব, তাতে হবে তো ? এছাড়া তিনি প্রত্যেক সময়েই যথেষ্ট সহযোগীতা করেছেন ৷ আমাকে জিজ্ঞেস করছিলেন আমার কাজে কোনও অসুবিধা হচ্ছে কী না ৷ কাজটা কী করে ভাল হয়, তার জন্য প্রণববাবু নিজেই অনেক বেশি উদ্যোগী ছিলেন ৷ এদিকে সময় খুব তাড়াতাড়ি কাটছিল, তাই শেষের দিনগুলিতে রাষ্ট্রপতি নিজেই বললেন, দেখুন এতে হবে তো ? আমি বললাম হ্যাঁ সময় তো হয়ে গিয়েছে ৷ ফেরার টিকিটও কাটা হয়ে গিয়েছে ৷ আমার ছাঁচ তৈরির কাজ ওই সময়ের মধ্যেই হয়ে গিয়েছিল ৷ রাষ্ট্রপতি ভবনেও আমি সবার কাছে অত্যন্ত সহযোগীতা পেয়েছি ৷’’ Photo Courtesy : Niranjan Pradhan/ Rashtrapati Bhavan

    কিন্তু রাষ্ট্রপতির মতো দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং ব্যস্ত মানুষের পক্ষে মূর্তির জন্য বেশি সময় দেওয়াটা যে অত্যন্ত কঠিন ৷ সেটা বিলক্ষণ জানতেন নিরঞ্জনবাবু ৷ সেই মতো প্রস্তুতিও নিয়ে গিয়েছিলেন কলকাতা থেকে ৷ রাষ্ট্রপতি শেষপর্যন্ত আধ ঘণ্টা করে পাঁচ দিন সময় দেন শিল্পীকে ৷ ওইটুকু সময়েই যথেষ্ট ছিল অভিজ্ঞ ভাস্করের জন্য ৷ নিরঞ্জনবাবুর কথায়, ‘‘ রাষ্ট্রপতি আমাকে বলেন পাঁচ দিন আধ ঘণ্টা করে সময় দিতে পারব, তাতে হবে তো ? এছাড়া তিনি প্রত্যেক সময়েই যথেষ্ট সহযোগীতা করেছেন ৷ আমাকে জিজ্ঞেস করছিলেন আমার কাজে কোনও অসুবিধা হচ্ছে কী না ৷ কাজটা কী করে ভাল হয়, তার জন্য প্রণববাবু নিজেই অনেক বেশি উদ্যোগী ছিলেন ৷ এদিকে সময় খুব তাড়াতাড়ি কাটছিল, তাই শেষের দিনগুলিতে রাষ্ট্রপতি নিজেই বললেন, দেখুন এতে হবে তো ? আমি বললাম হ্যাঁ সময় তো হয়ে গিয়েছে ৷ ফেরার টিকিটও কাটা হয়ে গিয়েছে ৷ আমার ছাঁচ তৈরির কাজ ওই সময়ের মধ্যেই হয়ে গিয়েছিল ৷ রাষ্ট্রপতি ভবনেও আমি সবার কাছে অত্যন্ত সহযোগীতা পেয়েছি ৷’’ Photo Courtesy : Niranjan Pradhan/ Rashtrapati Bhavan

  • ‘‘ রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলাদা করে কথা বলার ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলাম ৷ সেই সুযোগও আমাকে করে দেওয়া হয় ৷ অত্যন্ত ব্যস্ত শিডিউলের মধ্যেও একদিন লাইব্রেরি রুমে আমাকে ডেকে কথা বলেছিলেন রাষ্ট্রপতি ৷ সবার সামনে খানিকটা রাষ্ট্রপতিভাব থাকলেও ওইদিন লাইব্রেরিতে বসে ওঁর সঙ্গে কথা বলে মনে হল যে প্রণব মুখোপাধ্যায় সত্যিকারের একজন ভাল মানুষ ৷ মূর্তি উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে আমি আর আমার স্ত্রী উপস্থিত ছিলাম ৷ তার আগে মূর্তিতে একটু খয়েরি রং করতে হয়েছিল ৷ কিন্তু রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে আমাকে কালো রং করতে বলা হয় ৷ এত কম সময়ের মধ্যে রং কী করে হবে ! এই নিয়ে কিছুটা চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলাম ৷ শেষপর্যন্ত রাত জেগেই রং করলাম ৷ উদ্বোধনের দিন দেখলাম রং শুকিয়েও গিয়েছে ৷ রাষ্ট্রপতি মূর্তি খুঁটিয়ে দেখেছিলেন ৷ অনেক ছবি তুললেন আমাদের সঙ্গে ৷ আমি এবং আমার স্ত্রী-কে নিয়ে আলাদা করে বসলেন ৷ ওখানে আমার মাস্টারমশাইয়ের একটি বই রাষ্ট্রপতিকে উপহার দিয়েছিলাম ৷ খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা থেকে শুরু করে বাকি সব ব্যবস্থাই দুর্দান্ত ছিল ৷ মূর্তি দেখে রাষ্ট্রপতিও খুব খুশি হয়েছেন বলে জানান ৷ রাজনীতি করে এমন সহজ মানসিকতার মানুষ যে হওয়া যায়, সেটা রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়কে সামনের থেকে না দেখলে বোঝা সম্ভব নয় ৷ মানুষ হিসেবে রাষ্ট্রপতি যে কত বড় মাপের, সেটা তাঁর সঙ্গে কথা বলেই বুঝলাম ৷ ’’  Photo Courtesy : Niranjan Pradhan/ Rashtrapati Bhavan

    ‘‘ রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলাদা করে কথা বলার ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলাম ৷ সেই সুযোগও আমাকে করে দেওয়া হয় ৷ অত্যন্ত ব্যস্ত শিডিউলের মধ্যেও একদিন লাইব্রেরি রুমে আমাকে ডেকে কথা বলেছিলেন রাষ্ট্রপতি ৷ সবার সামনে খানিকটা রাষ্ট্রপতিভাব থাকলেও ওইদিন লাইব্রেরিতে বসে ওঁর সঙ্গে কথা বলে মনে হল যে প্রণব মুখোপাধ্যায় সত্যিকারের একজন ভাল মানুষ ৷ মূর্তি উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে আমি আর আমার স্ত্রী উপস্থিত ছিলাম ৷ তার আগে মূর্তিতে একটু খয়েরি রং করতে হয়েছিল ৷ কিন্তু রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে আমাকে কালো রং করতে বলা হয় ৷ এত কম সময়ের মধ্যে রং কী করে হবে ! এই নিয়ে কিছুটা চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলাম ৷ শেষপর্যন্ত রাত জেগেই রং করলাম ৷ উদ্বোধনের দিন দেখলাম রং শুকিয়েও গিয়েছে ৷ রাষ্ট্রপতি মূর্তি খুঁটিয়ে দেখেছিলেন ৷ অনেক ছবি তুললেন আমাদের সঙ্গে ৷ আমি এবং আমার স্ত্রী-কে নিয়ে আলাদা করে বসলেন ৷ ওখানে আমার মাস্টারমশাইয়ের একটি বই রাষ্ট্রপতিকে উপহার দিয়েছিলাম ৷ খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা থেকে শুরু করে বাকি সব ব্যবস্থাই দুর্দান্ত ছিল ৷ মূর্তি দেখে রাষ্ট্রপতিও খুব খুশি হয়েছেন বলে জানান ৷ রাজনীতি করে এমন সহজ মানসিকতার মানুষ যে হওয়া যায়, সেটা রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়কে সামনের থেকে না দেখলে বোঝা সম্ভব নয় ৷ মানুষ হিসেবে রাষ্ট্রপতি যে কত বড় মাপের, সেটা তাঁর সঙ্গে কথা বলেই বুঝলাম ৷ ’’ Photo Courtesy : Niranjan Pradhan/ Rashtrapati Bhavan

  • Photo Courtesy : Niranjan Pradhan/ Rashtrapati Bhavan

    Photo Courtesy : Niranjan Pradhan/ Rashtrapati Bhavan

  • ভাস্কর্য্য শিল্পকলায় গত পাঁচ দশক ধরে তাঁর অনন্য কীর্তির স্বাক্ষর রেখেছেন বহুবার ৷ কিন্তু শিল্পী নিরঞ্জন প্রধানের শিল্পকলায় যেন কোনও ক্লান্তি নেই ৷ বছরের পর বছর তাঁর দুর্দান্ত সৃষ্টিগুলি শোভা পেয়েছে কলকাতা-সহ এরাজ্যের সর্বত্রই ৷ তাঁর তৈরি রাজা রামমোহন রায়ের মূর্তি পাড়ি দিয়েছে বিলেতেও ৷ ব্রিস্টলে স্থাপিত সেই মূর্তি নিয়ে আজও চর্চা হয় সর্বত্র ৷ কিন্তু নিরঞ্জনবাবুর কাজে যেন কোনও বিরাম নেই এই ৭৮ বছর বয়সে এসেও ৷ শিল্পের প্রতি তাঁর এই ভালবাসাই এবার নিরঞ্জনবাবুকে নিয়ে গিয়ে ফেলেছিল রাইসিনা হিলে ৷ রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের মূর্তি তৈরির জন্য এবার তাঁর ডাক আসে সরাসরি রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে ৷ টাকা-পয়সা নিয়ে কিছু সমস্যা থাকলেও এমন দুর্দান্ত প্রস্তাব লুফে নিতে বিশেষ ভাবেননি কলকাতার বর্ষীয়ান শিল্পী নিরঞ্জন প্রধান ৷ Story & Interview : Siddhartha Sarkar
  • অত্যন্ত কম সময়ের মধ্যেই রাষ্ট্রপতির মূর্তি তৈরি করতে হবে জেনেও সেই চ্যালেঞ্জটা হাসিমুখেই গ্রহণ করেছিলেন নিরঞ্জন প্রধান ৷ রাষ্ট্রপতির মূর্তি বানানোর সুযোগ আর ক’জনই বা পান ৷ মূর্তি সাধারণত মহান ব্যক্তিরা মারা যাওয়ার পরেই বানানো হয় ৷ সেখানে জীবিত রাষ্ট্রপতির মূর্তি তৈরি করার সুযোগ পেয়ে স্বভাবতই আপ্লুত ছিলেন কলকাতার শিল্পী ৷ নিরঞ্জনবাবুর কথায়, ‘‘রাষ্ট্রপতির মূর্তি তৈরি করাটাই আমার কাছে আসল ৷ টাকাটা সেখানে গুরুত্বপূর্ণ নয় ৷ এই প্রাপ্তি আর ক’জনের ভাগ্যে হয় ? তখন রাষ্ট্রপতির কিছু ছবি পাঠাতে বলি ৷ সেগুলি দেখে কলকাতা থেকেই মাটির মূর্তিটা প্রাথমিকভাবে তৈরি করে নিয়ে গিয়েছিলাম ৷ বাকি ফিনিশিং টাচটা দিই রাষ্ট্রপতি ভবনে বসেই ৷ রাষ্ট্রপতিকে সামনে পেয়ে তাঁর লাইভ মূর্তি তৈরি করার সুযোগ পাওয়াটা সত্যি লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট ৷ ’’ Photo Courtesy : Niranjan Pradhan/Rashtrapati Bhavan
  • কিন্তু রাষ্ট্রপতির মতো দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং ব্যস্ত মানুষের পক্ষে মূর্তির জন্য বেশি সময় দেওয়াটা যে অত্যন্ত কঠিন ৷ সেটা বিলক্ষণ জানতেন নিরঞ্জনবাবু ৷ সেই মতো প্রস্তুতিও নিয়ে গিয়েছিলেন কলকাতা থেকে ৷ রাষ্ট্রপতি শেষপর্যন্ত আধ ঘণ্টা করে পাঁচ দিন সময় দেন শিল্পীকে ৷ ওইটুকু সময়েই যথেষ্ট ছিল অভিজ্ঞ ভাস্করের জন্য ৷ নিরঞ্জনবাবুর কথায়, ‘‘ রাষ্ট্রপতি আমাকে বলেন পাঁচ দিন আধ ঘণ্টা করে সময় দিতে পারব, তাতে হবে তো ? এছাড়া তিনি প্রত্যেক সময়েই যথেষ্ট সহযোগীতা করেছেন ৷ আমাকে জিজ্ঞেস করছিলেন আমার কাজে কোনও অসুবিধা হচ্ছে কী না ৷ কাজটা কী করে ভাল হয়, তার জন্য প্রণববাবু নিজেই অনেক বেশি উদ্যোগী ছিলেন ৷ এদিকে সময় খুব তাড়াতাড়ি কাটছিল, তাই শেষের দিনগুলিতে রাষ্ট্রপতি নিজেই বললেন, দেখুন এতে হবে তো ? আমি বললাম হ্যাঁ সময় তো হয়ে গিয়েছে ৷ ফেরার টিকিটও কাটা হয়ে গিয়েছে ৷ আমার ছাঁচ তৈরির কাজ ওই সময়ের মধ্যেই হয়ে গিয়েছিল ৷ রাষ্ট্রপতি ভবনেও আমি সবার কাছে অত্যন্ত সহযোগীতা পেয়েছি ৷’’ Photo Courtesy : Niranjan Pradhan/ Rashtrapati Bhavan
  • ‘‘ রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলাদা করে কথা বলার ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলাম ৷ সেই সুযোগও আমাকে করে দেওয়া হয় ৷ অত্যন্ত ব্যস্ত শিডিউলের মধ্যেও একদিন লাইব্রেরি রুমে আমাকে ডেকে কথা বলেছিলেন রাষ্ট্রপতি ৷ সবার সামনে খানিকটা রাষ্ট্রপতিভাব থাকলেও ওইদিন লাইব্রেরিতে বসে ওঁর সঙ্গে কথা বলে মনে হল যে প্রণব মুখোপাধ্যায় সত্যিকারের একজন ভাল মানুষ ৷ মূর্তি উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে আমি আর আমার স্ত্রী উপস্থিত ছিলাম ৷ তার আগে মূর্তিতে একটু খয়েরি রং করতে হয়েছিল ৷ কিন্তু রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে আমাকে কালো রং করতে বলা হয় ৷ এত কম সময়ের মধ্যে রং কী করে হবে ! এই নিয়ে কিছুটা চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলাম ৷ শেষপর্যন্ত রাত জেগেই রং করলাম ৷ উদ্বোধনের দিন দেখলাম রং শুকিয়েও গিয়েছে ৷ রাষ্ট্রপতি মূর্তি খুঁটিয়ে দেখেছিলেন ৷ অনেক ছবি তুললেন আমাদের সঙ্গে ৷ আমি এবং আমার স্ত্রী-কে নিয়ে আলাদা করে বসলেন ৷ ওখানে আমার মাস্টারমশাইয়ের একটি বই রাষ্ট্রপতিকে উপহার দিয়েছিলাম ৷ খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা থেকে শুরু করে বাকি সব ব্যবস্থাই দুর্দান্ত ছিল ৷ মূর্তি দেখে রাষ্ট্রপতিও খুব খুশি হয়েছেন বলে জানান ৷ রাজনীতি করে এমন সহজ মানসিকতার মানুষ যে হওয়া যায়, সেটা রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়কে সামনের থেকে না দেখলে বোঝা সম্ভব নয় ৷ মানুষ হিসেবে রাষ্ট্রপতি যে কত বড় মাপের, সেটা তাঁর সঙ্গে কথা বলেই বুঝলাম ৷ ’’  Photo Courtesy : Niranjan Pradhan/ Rashtrapati Bhavan
  • Photo Courtesy : Niranjan Pradhan/ Rashtrapati Bhavan

লেটেস্ট ছবি