নারদ রহস্যভেদে এবার সিবিআই, রায় ঘোষণা কলকাতা হাইকোর্টের

Mar 17, 2017 11:11 AM IST | Updated on: Mar 17, 2017 03:30 PM IST

#কলকাতা: জল্পনা আগেই ছিল, তাকেই সত্যি করে নারদ মামলার তদন্তভার কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা অর্থাৎ সিবিআইয়ের হাতে তুলে দিল কলকাতা হাইকোর্ট ৷ আদালতে দায়ের হওয়া তিন জনস্বার্থ মামলার পরিপ্রেক্ষিতে নারদ স্টিং কাণ্ডের ভিডিও ফুটেজকে সত্য বলে মান্যতা দিয়ে  প্রধান ভারপ্রাপ্ত বিচারপতি নিশীথা মাত্রে ও তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চ রায়ে বলে, নারদ মামলায় প্রাথমিক তদন্ত করবে সিবিআই ৷ একইসঙ্গে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে বর্ধমানের পুলিশ সুপার এলএমএইচ মির্জার বিরুদ্ধে বিচারবিভাগীয় তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত ৷

এ রাজ্যে বিধানসভা ভোটের সময় প্রকাশিত ৫২ ঘণ্টার ভিডিও ফুটেজ তোলপাড় ফেলে দিয়েছিল ভোট পূর্ব রাজ্য রাজনীতিতে ৷ সেই বিতর্কটি ফুটেজটি কোনওভাবে বিকৃত নয় তা জানিয়ে দিল কলকাতা হাইকোর্ট ৷ একইসঙ্গে সংবিধানের ২২৬ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে প্রধান ভারপ্রাপ্ত বিচারপতি নিশীথা মাত্রে ও তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চ স্টিং অপারেশনের ভিডিও-তে যে টাকা আদানপ্রদানের দৃশ্য দেখা গিয়েছে তার সারসত্য খুঁজে বার করার দায়িত্ব দিলেন সিবিআইকে ৷

নারদ রহস্যভেদে এবার সিবিআই, রায় ঘোষণা কলকাতা হাইকোর্টের

আদালত জানাল, ‘পুলিশ সঠিক ভূমিকা পালন করেনি ৷’ ভিডিওতে দেখানো ব্যক্তিদের প্রত্যেকেই সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তি ৷ কেউ মন্ত্রী, কেউ রাজনৈতিক নেতা, কেউ সাংসদ আবার কেউ আইপিএস অফিসার ৷ তাই তা যাতে মামলার তদন্ত কোনও ভাবে প্রভাব না ফেলে তাই নিরপেক্ষ তদন্তের জন্যই কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার হাতে তদন্তভার তুলে দেওয়া হল ৷

নারদকাণ্ডে দায়ের হওয়া তিন জনস্বার্থ মামলার পরিপ্রেক্ষিতে রায় ঘোষণার সময় আদালত বলে, ‘জনগণের জন্য যাঁরা তাঁরাই দুর্নীতিগ্রস্ত ৷’ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে CBI-র কাছে তদন্ত রিপোর্ট সহ স্টিং কান্ডের যাবতীয় নথি, ম্যাথুর ল্যাপটপ,পেন ড্রাইভ হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট ৷ একইসঙ্গে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত শেষ করে হাইকোর্টে রিপোর্ট জমা দিতে হবে সিবিআইকে ৷ অন্যদিকে, আইপিএস এস এন মির্জার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ৷ দোষী সাব্যস্ত হলে সাত দিনের মধ্যে সাসপেন্ডের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

স্বভাবতই এই রায়ে চুড়ান্ত অস্বস্তিতে শাসক দল ৷ তবে রাজ্যের আইনজীবী জানিয়েছেন, হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যাচ্ছে রাজ্য। রায়ের কপি হাতে পেলেই শীর্ষ আদালতে আবেদন জানাবে অভিযুক্তরা ৷

প্রথম থেকেই এই স্টিংকাণ্ডকে বিরোধীদের ষড়যন্ত্র বলে অভিযোগ করে আসছে শাসক দল ৷ গত মার্চ ১৪, নির্বাচনের প্রথম দফার বিজ্ঞপ্তি জারির দিন বিজেপি পার্টি অফিসে শাসক দল তৃণমূলের ১১ জন শীর্ষ নেতা- নেত্রীদের ঘুষ নেওয়ার বিস্ফোরক ক্লিপটি দেখানোর পর উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহল ৷ এই ক্লিপ নিয়েই ভোটের আগে তৈরি হয় প্রবল বিতর্ক ৷ শাসক দলের বিরুদ্ধে একযোগে আক্রমণ শানান বিরোধীরা ৷

দক্ষিণের সংবাদ সংস্থা নারদ ডট কম দাবি করেন, এই ভিডিও একদম খাঁটি ৷ ২০১৪ সালে লোকসভা নির্বাচনের আগে এই স্টিং অপারেশনটি তারা করেছিলেন বলে দাবি করেন সংস্থার কর্ণধার ম্যাথু স্যামুয়েল ৷

নারদ ডট কমের প্রকাশিত ৫৭ ঘণ্টার ফুটেজে বিভিন্ন নেতা ও মন্ত্রীদের যে টাকা আদানপ্রদানের ফুটেজ দেখা যায়, মামলা চলাকালীন তার সত্যতা নিয়ে বার বার প্রশ্ন উঠেছে ৷ অভিযুক্ত নেতামন্ত্রীদের তরফে আইনজীবীদের দাবি ছিল, ভিডিও ফুটেজ আসল নয় ৷ আদালত ভিডিও ফুটেজ পরীক্ষার জন্য ম্যাথু স্যামুয়েলের ল্যাপটপ, আইফোন সমস্ত কিছু চণ্ডীগড় সেন্ট্রাল ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি (CFSL)-তে পাঠায় ৷ পরীক্ষার পর হাইকোর্টে ল্যাবের জমা দেওয়া রিপোর্ট অনুযায়ী ৭৩ টি ভিডিও ফু়টেজের মধ্যে ৪৭টি আসল এবং অবিকৃত ৷

RELATED STORIES

RECOMMENDED STORIES