Bangla News: ঢেউ এর তটদেশ থেকে উৎপত্তি তাই নাম 'ঢিঙ্গুলেশ্বরী', কিন্তু লোকমুখে বেশি পরিচিত ঝিংলেশ্বরী মা হিসেবে

Bangla Digital Desk | News18 Bangla | 05:09:50 PM IST Nov 04, 2021

ঢেউ এর তটদেশ থেকে উৎপত্তি তাই নাম 'ঢিঙ্গুলেশ্বরী', কিন্তু লোকমুখে বেশি পরিচিত ঝিংলেশ্বরী মা হিসেবে। নন্দকুমার ব্লকের ভবানীপুর এলাকায় ঝিংলেশ্বরী মায়ের প্রাচীন ইতিহাস সত্যি অবাক করার মতো। বর্তমান সেবাইতদের কথায় আনুমানিক প্রায় পাঁচ শতাধিক বছর আগে জাহাজের মাস্তুলের উপর অধিষ্ঠিত হয়ে আবির্ভাব ঘটেছে মা ঝিংলেশ্বরীর। ভৌগলিক অবস্থানগত ভাবে তৎকালীন সময়ে এই এলাকা নদীগর্ভ ছিল। নৌকা, বোট, জাহাজ চলাচল করত। একবার নদীপাড়ে দাঁড়িয়ে এক মহিলা জাহাজের চালকদের কাছে 'হূঁকা' খাওয়ার জন্য আগুন চান। তখন তাঁকে জাহাজে উঠে আসতে বলে মাঝিরা। কিন্তু তিনি জানান জাহাজে উঠলে জাহাজ ডুবে যাবে। এই কথা শুনে হাসাহাসি করে মাঝিরা। তাতেই ক্রদ্ধ হয়ে জাহাজে উঠে পড়েন সেই মহিলা। তৎক্ষণাৎ নদীতে বসে যায় জাহাজটি। নিজের স্বরূপ ধারন করেন মা ঝিংলেশ্বরী। নিজেদের ভুল বুঝতে পারে মাঝিরা। রাতে তাম্রলিপ্ত রাজাকে স্বপ্নে দেখা দিয়ে পুজোর আদেশ দেন। সেইমতো তাম্রলিপ্ত প্রদেশের (বর্তমান তমলুক) রাজা পূজার ব্যবস্থা করেন। সেই থেকে আজও নিত্য পূজা হয়ে আসছে। এখন মন্দির পাকার হয়েছে। তবে জাহাজের মাস্তুল সহ মাটির যে বেদীতে মা ঝিংলেশ্বরীঅধিষ্ঠিত হয়ে রয়েছেন সেই অংশের কোন সংস্কার করা হয়নি। সেবাইতরা জানান তেমনটাই মায়ের আদেশ। আবার ৫১ সতী পীঠের অন্যতম তমলুক বর্গভীমা মায়ের সঙ্গে এনার যোগাযোগ রয়েছে বলেও লোকমুখে প্রচলিত। দেবী বর্গভীমাকে ভীমা মা বলা হয়। কথিত আছে ভীমা মায়ের বোন দেবী ঝিঙলেশ্বরী। এমনকি মাটির তলদেশে নদীপথে নিত্য যোগাযোগ রয়েছে। মাঝে খঞ্চি গ্রামের বনদেবতা বলীরায় ঠাকুর সেই যোগাযোগ স্থাপনে সহযোগিতা করেন। এই বলীরায় ঠাকুর আবার খঞ্চি গ্রামে অধিষ্ঠিত দেবী অভয়ার অন্যতম সহযোগী।

লেটেস্ট ভিডিও