বিস্ফোরণস্থল ধুয়ে সাফ করেছে পুলিশ, কোনও প্রমাণ পেল না সিাইডি

Bangla Editor | News18 Bangla | 10:12:52 AM IST Oct 04, 2018

বিস্ফোরণের পর তখনও ফরেনসিক যায়নি। তার আগেই নাগেরবাজারের ঘটনাস্থল ঝাঁড় দিয়ে, ধুয়ে সাফ করিয়ে দেয় বারাকপুর কমিশনারেটের পুলিশ। যার জেরে বিস্ফোরণস্থল থেকে খালি হাতে ফিরতে হল ফরেনসিক দলকে। পুলিশের গাফিলতির জেরেই নাগেরবাজারে বিস্ফোরণের তদন্তের দায়িত্ব পেল সিআইডি। মঙ্গলবার সকালে বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে নাগেরবাজারের কাজিপাড়া। বিস্ফোরণস্থলে যায় সিআইডির বম্ব ডিসপোজাল স্কোয়াড। তারা নিশ্চিত, এটি আইইডি বিস্ফোরণ। কিন্তু, এর মেকানিজম বোঝা যাচ্ছে না। এই মেকানিজম বোঝার জন‍্য দরকার ফরেনসিক পরীক্ষা। কিন্তু, মঙ্গলবার ফরেনসিক দল বিস্ফোরণস্থলে পৌঁছনোর আগেই সেখানে সাফাই অভিযান চালায় বারাকপুর পুলিশ কমিশনারেট। এলাকা ঝাড় দিয়ে সাফ করিয়ে দেয় পুলিশ। জল ঢেলেও বিস্ফোরণস্থল পরিষ্কার করানো হয় ৷ বম্ব স্কোয়াডের কাজ ঘটনাস্থলে আর কোনও বিস্ফোরক আছে কি না তা দেখা। আর বিস্ফোরণের মেকানিজম কী, তা পরীক্ষা করে বোঝার দায়িত্ব ফরেনসিক দলের। বিস্ফোরণ কারা ঘটিয়েছে তা বোঝার জন‍্যই এই মেকানিজম জানা জরুরি।

বিস্ফোরণ কারা ঘটিয়েছে তা জানা গেলে বোঝা যায় তাদের টার্গেট কারা ছিল ৷ কিন্তু, বিস্ফোরণস্থল ধুয়ে মুছে সাফ করে, সেই সম্ভাবনায় শুরুতেই জল ঢেলে দেয় বারাকপুর কমিশনারেটের পুলিশ। যা আশঙ্কা ছিল তাই হল। এ দিন ঘটনাস্থলে যায় ফরেনসিক দল। কিন্তু, মঙ্গলবারের পুলিশি সাফাই অভিযানের পর ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের বুধবার খালি হাতেই ফিরতে হল। এ দিন তাঁরা বিস্ফোরণস্থলে গিয়ে বন্ধ দোকান খুলে দেখেন। বিস্ফোরণস্থলের সামনে ঢাকা ড্রেনের স্ল‍্যাব তুলে দেখেন। কিন্তু, মেলেনি কিছুই। বিস্ফোরণস্থল ঠিক মতো ঘিরেও রাখেনি পুলিশ। বুধবার সকালে গিয়েও সেই ছবি ধরা পড়ে। বারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের এই সব গাফিলতির জেরে নাগেরবাজার বিস্ফোরণের তদন্তভার সিআইডির হাতে তুলে দেওয়া হল। তদন্তের দায়িত্ব পেয়েই বুধবার বিস্ফোরণস্থলে যান সিআইডির আধিকারিক ও কর্তারা। বিস্ফোরণস্থল ঠিক মতো ঘিরে দেন তাঁরা। বিস্ফোরণের তীব্রতা বুঝতে স্প্লিন্টার কত দূর ছিটকেছে সেই দূরত্ব মাপেন। বিস্ফোরণের পর ঠিক কী অবস্থা ছিল বুঝতে দমদম থানার আইসিকে ডেকে কথা বলেন সিআইডি কর্তারা। নাগেরবাজারের কাজিপাড়ায় আইইডি বিস্ফোরণে ব‍্যবহৃত সকেটটি যেখানে রাখা ছিল সেই জায়গাটি এ দিন চিহ্নিত করে সিআইডি। সকেটটির ব‍্যস আট ইঞ্চি, প্রায় এক ফুট লম্বা, মাথায় ছিল ধাতব পাত। আর সকেটের মধ‍্যে রাখা ছিল অ‍্যামোনিয়াম নাইট্রেট এবং স্প্লিন্টার। এসেবর মাঝেই তদন্তকারীদের ভাবাচ্ছে ঘটনাস্থলে ফল বিক্রেতার পরিচয় ঘিরে ধোঁয়াশা। এই বন্ধ গোডাউনের সামনেই তিনি কয়েক দিন আগে থেকে ফল বিক্রি শুরু করেন। কাজিপাড়ায় বিস্ফোরণস্থলের ধারেপাশে নেই কোনও সিসি ক‍্যামেরা। তার উপর পুলিশ ঘটনাস্থল ধুয়ে মুছে সাফ করে দিয়েছে। যার জেরে তদন্তের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সিআইডির কাছে এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

লেটেস্ট ভিডিও