Home » Tag » Bratya Basu
Bratya Basu

Bratya Basu র সব খবর

    তাঁর দখল যতটা সাহিত্যে, ততটা রাজনীতিতে, ততটাই নাটকে৷ তিনি ব্রাত্য বসু (Bratya Basu)৷ রাজ্যের বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে দমদম (Dumdum) বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এই নির্বাচনে তিনি তৎকালীন ক্ষমতাসীন সিপিআই(এম) মন্ত্রী গৌতম দেবকে( Gautam Dev) পরাজিত করে বিধায়ক নির্বাচিত হন। হেভিওয়েট প্রার্থীকে পরাস্ত করেই রাজনীতির অঙ্গনে পা রাখেন তিনি৷ গৌতম দেবের পরাজয় ছিল বামেদের একটা বড় ক্ষতি৷ তৃণমূল থেকে রাতারাতি এর পুরস্কারও পান ব্রাত্য৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভায় তাকে উচ্চশিক্ষা মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়।

    রাজনীতির বাইরে ব্রাত্য সর্বাধিক জনপ্রিয় একজন নাটককার হিসাবে৷ বিশিষ্ট গবেষক, চিন্তাবিদ বিষ্ণু বসুর ছেলে প্রেসিডেন্সি কলেজ ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা সাহিত্য অধ্যয়ন করার পর কলকাতার সিটি কলেজে অধ্যাপক রূপে যোগ দেন। গণকৃষ্টি নামে এক থিয়েটার দলে নাট্যজীবন শুরু৷ দলের জন্য নাটক লিখতে ও পরিচালনা করতে শুরু করেন। অশালীন তাঁর প্রথম নাটক। উইঙ্কল টুইঙ্কল, চতুষ্কোণের মতো নাটক রাজনৈতিক-আর্থ সামাজিক প্রেক্ষাপটে সাড়া ফেলে দিয়েছিল। ১৯৯৮ সালে তিনি শ্যামল সেন স্মৃতি পুরস্কার ও ২০০০ সালে দিশারী পুরস্কার পান। ২০০৮ সালে তৈরি করেন ‘ব্রাত্যজন’৷ ২০০৯ সালে দেবব্রত বিশ্বাসের জীবন অবলম্বনে নির্মিত নাটক রুদ্ধসংগীত বাংলা সংস্কৃতির এক মাইলফলক৷

    একাধারে নাটক লেখা, নির্দেশনা, অভিনয়ে সমান পারদর্শী, স্টেজ কাঁপিয়েছেন বারবার৷ শিরোপা আর সম্মানও পেয়েছেন যারপরনাই৷ শম্ভু-তৃপ্তি কন্যা শাঁওলি মিত্রের মৃত্যুর পর বাংলা আকাদেমির নতুন চেয়ারম্যান ব্রাত্য বসুর (Bratya Basu)৷ নাম ঘোষণা করা হয়। রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরই এই ঘোষণা করে৷ মন্ত্রিত্ব, রাজনৈতিক দায়িত্বের মাঝেও তাঁর সৃষ্টিকর্ম থেমে থাকেনি। নিরন্তর নাটক, প্রবন্ধ রচনা করেছেন। নাটক নির্দেশনা এবং অভিনয়ও করেছেন সমান তালে। এবার আরও এক দায়িত্ব অর্পণ করা হল বিশিষ্ট নাট্যকারের কাঁধে। তিনটি চলচ্চিত্র পরিচালনাও করেছেন তিনি৷ রাস্তা,তারা, ডিকশনারি।

    প্রসঙ্গত ডিকশনারি (Dictionary) নিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে ঠান্ডা লড়াইও লড়েছে তাঁর৷ তবে রাজ্যে দায়িত্ব নিয়ে আসার পর থেকেই রাজ্যপাল(Governor) জগদীপ ধনখড়ের সঙ্গে নানা বিষয় নিয়ে সংঘাত চলতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। মুখ্যমন্ত্রীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য করার বিষয় নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর মন্তব্যে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে কটাক্ষ করেছিলেন রাজ্যপাল। সঙ্গে সঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন ব্রাত্য৷ লিখেছিলেন, ঔপনিবেশিক রীতি মেনে, রাজ্যপালকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য করার নিয়ম চালিয়ে যাওয়া উচিত, না কি বিশিষ্ট বা শিক্ষাবিদদের এই পদে মনোনীত করা যায়? তা ভেবে দেখার সময় এসেছে৷

    রাজ্যের করোনা পরিস্থিতিতে পড়ুয়াদের সুবিধার কথা ভেবেছেন বারবার৷ অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনা করেই স্কুল খোলা বা বন্ধ করা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি৷ সম্প্রতি পাড়ায় পাড়ায় শিক্ষালয় কর্মসূচির উদ্বোধন করতে চলেছেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী। স্কুলের ভিতরে নয়, খোলামেলা এলাকায় গোষ্ঠী শিক্ষা ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে ব্রাত্যের উদ্যোগে৷