Home /News /west-midnapore /
Paschim Medinipur: ডিজিটাল লেনদেনে হারিয়েছে চিঠি ও লেটার বক্স

Paschim Medinipur: ডিজিটাল লেনদেনে হারিয়েছে চিঠি ও লেটার বক্স

লেটার

লেটার বক্স

১৯৭০-৮০ র দশকে চিঠি এক অন্যতম মাধ্যম ছিল যোগাযোগের। আট থেকে আশি আবাল বৃদ্ধ বনিতা প্রত্যেকেই এই চিঠি দেওয়া নেওয়া করতেন নিজেদের যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে।

  • Share this:

    পশ্চিম মেদিনীপুর: ১৯৭০-৮০ র দশকে চিঠি এক অন্যতম মাধ্যম ছিল যোগাযোগের। আট থেকে আশি আবাল বৃদ্ধ বনিতা প্রত্যেকেই এই চিঠি দেওয়া নেওয়া করতেন নিজেদের যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে। আর চিঠি আদান প্রদানের জন্য বাড়ির বাইরের দেওয়ালে ঝুলিয়ে রাখতেন লেটার বক্স। কারণ পত্র বাহকেরা খুঁজে খুঁজে সেই লেটার বক্সে চিঠি দিয়ে যেতেন বছরের পর বছর ধরে। সারা দিনের শেষে সন্ধ্যেবেলায় লেটার বক্স খুলে সেই চিঠি পেয়ে আত্মীয় স্বজন পরিবার বন্ধু-বান্ধব প্রেমিক-প্রেমিকা এবং স্বামী-স্ত্রীর দূর-দূরান্তের বহু জমানো কথা পড়া যেত এই চিঠির মাধ্যমে। অনেকেই সারাদিন ধরেই চিঠি লিখতেন এবং সেই চিঠি পৌঁছোত কখনও মাসখানেক পর কখনো বছর পর। তবে ঐ সময় চিঠি লেখার প্রবণতাও প্রচুর মানুষেরই ছিল এবং যা আদান প্রদানের প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হতো লেটারবক্স। কিন্তু ২০০০ সালের পর থেকে আস্তে আস্তে যোগাযোগের মাধ্যম হয়ে ওঠে মোবাইল ফোন। আর এই মোবাইল ফোনের দৌলতে একে একে ডিজিটাল প্রক্রিয়া চালু হয়ে যায় গোটা বিশ্বজুড়ে। প্রতিদিন নতুন নতুন ফিচার যুক্ত অ্যাপস এবং ডিজিটাল মাধ্যম গড়ে ওঠায় আস্তে আস্তে অবলুপ্তি ঘটে হাতে লেখা চিঠির।

    আর তারই সঙ্গে বিকল হতে শুরু করে লেটার বক্স। এরপর চালু হয় অ্যান্ড্রয়েড এবং বর্তমানে ফাইভ জি (5G) র যুগে হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম ফেসবুক, ইমেল, টেলিগ্রামের মত হাজার হাজার এপস এসে পৌঁছায় মানুষের হাতের মুঠোয়। সেই সব এপসের দৌলতে হারিয়েছে চিঠির প্রয়োজনীয়তা। চিঠির প্রচলন ও লেটার বক্স হারানোর প্রধান কারণ চিঠির মাধ্যমে একে অপরের ভাব প্রকাশের আরও সহজ ডিজিটাল মাধ্যম। কিন্তু জঙ্গলমহল পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় বহু মানুষের বাড়ির সামনে আজও ঝুলে থাকে লেটার বক্স। শুধু তাই নয় সরকারী বিভিন্ন পোস্ট অফিস গুলোতেও আজও দাঁড়িয়ে রয়েছে লাল বাক্সগুলো। হয়তো ব্যবহার খুব একটা হয় না। কিন্তু পুরানো নস্টালজিয়া হারায়নি ঐতিহাসিক মেদিনীপুরে। মেদিনীপুর শহরবাসীর কথায়, অনেক সময় পুরানো স্মৃতি মনে করিয়ে দেয় এই লেটারবক্স। তাই হারিয়ে যাওয়া সেই স্মৃতিগুলো কিছুটা হলেও আঁকড়ে ধরে রাখতে অনেকেই বাড়ির বাইরে থেকে আজও সরিয়ে দেননি সেই অকেজো বাক্সটিকে। তবে যুগের সঙ্গে পরিবর্তনকারী মানুষেরা অনেকেই বাড়ির বাইরে থেকে সরিয়ে ফেলেছেন পুরনো স্মৃতির বাক্সটিকে। ফলে জঙ্গলমহল মেদিনীপুরের শহরের আনাচে-কানাচে অলিগলিতে খুব সংক্ষিপ্ত হলেও কয়েকটি লেটারবক্স এখনও ঝুলছে পুরানো স্মৃতিকে বহন করে। হয়তো আর চিঠি আসবে না কোনোদিন, হয়তো বা মনের ভাব উজাড় করে চিঠি দেবে না কেউই, হয়তো বা আর পিয়ন ওই লেটার বক্সে চিঠি গলিয়ে দিয়ে যাবে না কাজের তাগিদে। তবে এখনও লেটারবক্স রয়ে গেছে আদি অনন্তকাল ধরে।

    First published:

    Tags: Paschim medinipur

    পরবর্তী খবর