Home /News /uncategorized /
যাদবপুর প্রাক্তনী মিতা মণ্ডলের রহস্যমৃত্যুতে CID তদন্তের নির্দেশ

যাদবপুর প্রাক্তনী মিতা মণ্ডলের রহস্যমৃত্যুতে CID তদন্তের নির্দেশ

উলুবেড়িয়ার গৃহবধূ ও যাদবপুরের প্রাক্তনী মিতা মণ্ডলের অস্বাভাবিক মৃত্যুর তদন্তভার সিআইডি-এর হাতে তুলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷

  • Pradesh18
  • Last Updated :
  • Share this:

    #কলকাতা: উলুবেড়িয়ার গৃহবধূ ও যাদবপুরের প্রাক্তনী মিতা মণ্ডলের অস্বাভাবিক মৃত্যুর তদন্তভার সিআইডি-এর হাতে তুলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ আত্মহত্যা নয়, পণের জন্যই খুন করা হয়েছে মিতাকে বলে অভিযোগ করেছেন মিতা মণ্ডলের পরিবার ৷ অন্যদিকে, মিতার শ্বশুরবাড়ির সাফাই আত্মহত্যা করেছেন মিতা ৷

    নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মিতার আত্মীয়েরা ৷ তারপরই এই সিআইডি তদন্তের নির্দেশ ৷

    নবান্নে দাঁড়িয়ে মুখ্যসচিব বাসুদেব বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিকদের সামনে ঘোষণা করেন, নারী নিগ্রহের উপযুক্ত তদন্ত হওয়া উচিত ৷ তাই এই মিতা মণ্ডলের রহস্যমৃত্যুর তদন্ত করবে সিআইডি ৷

    'মিতার পরিবারের একজনকে চাকরি'। 'দোষ প্রমাণিত হলে উপযুক্ত শাস্তি'।মিতার পরিবারকে আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর। মিতার বিয়ের সময় ৭০ হাজার টাকার দেনা হয়। সেই দেনা শোধ করা হবে মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে। মিতার বাবার চিকিৎসার সব ব্যবস্থা করবে রাজ্য। আইনি লড়াইয়ের সব ব্যবস্থা করবে রাজ্য সরকার। মিতার পরিবারকে আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর।

    নবমীতেই বিসর্জন। বিয়ের ৬ মাস কাটতে না কাটতেই রহস্যমৃত্যু গড়িয়ার শান্তিনগরের বাসিন্দা মিতা মণ্ডলের। তাঁর পরিবারের অভিযোগ, যাদবপুরের এম.এ বাংলা বিভাগের ছাত্রী সদ্যবিবাহিতা মিতা মন্ডলকে পণের দাবিতেই খুন করেছে তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোক ৷ উলুবেড়িয়া থানায় দায়ের হয়েছে অভিযোগ ৷ সেই ভিত্তিতে মৃতার স্বামী ও শ্বশুরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ৷ তবে ‘পলাতক’ মিতার শাশুড়ি ও দেওর ৷

    শুক্রবার সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে একটি হাসিখুশি মেয়ের বিয়ের ছবি, পাশেই রয়েছে রক্তাক্ত, কালশিটে পড়া একটি মেয়ের মুখ ৷ একটু ভালো করে দেখলে বোঝা যায়, হাসিখুশি মেয়েটির ছবির পাশের ছবিটি তাঁর নিথর দেহের ৷ সঙ্গের লেখাটি পড়ে শিউরে উঠতে হয় ৷

    পারিবারিক হিংসার বলি হওয়া সহপাঠীর জন্য ন্যায় চেয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবিগুলি পোস্ট করেন মিতার বন্ধু শারদ্বত মান্না ৷ তাঁর পোস্ট থেকেই জানা যায়, মিতা মন্ডলের মৃত্যুকে ঘিরে দানা বেঁধেছে একাধিক প্রশ্ন ৷ মিতা মন্ডলের স্বামী রাণা ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের দাবি, দশমীর দিন ভোরে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন মিতা ৷ তবে মিতার মৃতদেহের অবস্থা দেখে তা মানতে নারাজ তাঁর পরিবার পরিজন ও বন্ধুরা ৷ তারা জানিয়েছেন, মিতার গলায় ছাড়াও গোটা দেহে রয়েছে গভীর আঘাতের চিহ্ন ৷ নাকে মুখে চাপ চাপ রক্ত, কপালে রয়েছে কালশিটে ৷ প্রশ্ন উঠেছে, গলায় দড়ি দিলে এত আঘাত আর রক্ত কোথা থেকে এল? তাতে শ্বশুরবাড়ির পাল্টা উত্তর, মিতার দেহ নামিয়ে আনার সময় ওই আঘাতগুলি লেগেছে ৷ কিন্তু এই দাবি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন মিতার পরিচিতরা ৷

    চলতি বছরের ২২ এপ্রিলই উলুবেরিয়ায় রাণা মন্ডলের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল মিতা দাসের ৷ দুর্গাপুজো চলাকালীন নিজের বাড়িতে এসেছিলেন মিতা ৷ তারপরই সপ্তমীর দিন স্বামী রাণা এসে তাঁকে নিয়ে যান ৷ তখনও কেউ আন্দাজ করতে পারেননি দুর্গাপুজোর শেষে কি হতে চলেছে ৷

    আত্মীয়দের দাবি, পণের দাবীতে অত্যাচার চালানো হচ্ছিল মিতার উপর ৷ শেষবার বাড়ি এসে বাবা-মায়ের কাছে এক লক্ষ টাকা চেয়েছিল সে ৷ কিন্তু কী কারণে এই টাকা তাঁর দরকার, তা জানায়নি মিতা ৷

    সেলাইয়ের কাজ করে ও ছোটদের পড়িয়ে নিজের এম.এ সম্পূর্ণ করেন মিতা ৷ অভাবী এই সংসার থেকে এক লক্ষ টাকা পাওয়ার কোনও আশা না দেখেই কি প্রাণে মেরে ফেলা হল মিতাকে? উঠেছে প্রশ্ন ৷

    মিতার প্রতিবেশী এবং শ্বশুরবাড়ির বাকি আত্মীয়রা এমন ঘটনায় হতবাক ৷ প্রত্যেকেই জানাচ্ছেন মিতার ব্যবহার খুবই ভালো ছিল ৷ কোনও ঝগড়া অশান্তির কথা তারা শোনেনি ৷

    First published:

    Tags: CID Investigation, CM Mamata Banerjee, Mita Mondal Murder Case, Mita Mondal Mysterious Death

    পরবর্তী খবর