• Home
  • »
  • News
  • »
  • uncategorized
  • »
  • বর্গী আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতেই অণ্ডালের ধাণ্ডাডিহি গ্রামে শুরু হয় শ্মশান কালী পুজো

বর্গী আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতেই অণ্ডালের ধাণ্ডাডিহি গ্রামে শুরু হয় শ্মশান কালী পুজো

এই এলাকার নিরুপায় মানুষদের বর্গীদের হাত থেকে বাঁচবার কোনও উপায় ছিল না । সেই সময় বর্ধমানের রাজা বিজয় চাঁদ মাহাতো এই গ্রামের লোকেদের বর্গীদের হাত থেকে বাঁচাবার জন্য উদ্যোগি হন ।

এই এলাকার নিরুপায় মানুষদের বর্গীদের হাত থেকে বাঁচবার কোনও উপায় ছিল না । সেই সময় বর্ধমানের রাজা বিজয় চাঁদ মাহাতো এই গ্রামের লোকেদের বর্গীদের হাত থেকে বাঁচাবার জন্য উদ্যোগি হন ।

এই এলাকার নিরুপায় মানুষদের বর্গীদের হাত থেকে বাঁচবার কোনও উপায় ছিল না । সেই সময় বর্ধমানের রাজা বিজয় চাঁদ মাহাতো এই গ্রামের লোকেদের বর্গীদের হাত থেকে বাঁচাবার জন্য উদ্যোগি হন ।

  • Pradesh18
  • Last Updated :
  • Share this:

    #দুর্গাপুর: কথিত আছে আজ থেকে প্রায় ২৫০ বছর আগে অন্ডালের ধাণ্ডাডিহি গ্রামে শ্মশান কালীর পুজো শুরু করেন তৎকালীন বর্ধমানের রাজা বিজয় চাঁদ মাহাতো ।

    এই মায়ের পুজো শুরু হওয়ার পিছনে একটা গল্প শোনা যায় । মন্দিরের বর্তমান পরিচারক ও গ্রামের প্রবীণ ব্যাক্তি নারায়ণ চন্দ্র ভট্টাচার্য জানান আজ থেকে ২৫০-৩০০ বছর আগে বাংলার বিভিন্ন এলাকায় বর্গী আক্রমণের ভয় ছিল । বর্গীদের হাত থেকে রক্ষা পায়নি অণ্ডালের ধাণ্ডাডিহি গ্রামের মানুষও । বর্গীরা মাঝেমধ্যেই আসত, যথেচ্ছ লুঠপাট ও অত্যাচার করত ।

    এই এলাকার নিরুপায় মানুষদের বর্গীদের হাত থেকে বাঁচবার কোনও উপায় ছিল না । সেই সময় বর্ধমানের রাজা বিজয় চাঁদ মাহাতো এই গ্রামের লোকেদের বর্গীদের হাত থেকে বাঁচাবার জন্য উদ্যোগি হন । তিনি বর্গীদের অত্যাচার থেকে রক্ষার জন্য যথেষ্ট সাহায্য করেন সৈন্য সামন্ত দিয়ে । বর্তমানে যেখানে ধাণ্ডাডিহি গ্রামের মধ্যভাগ, সেখানে একসময় শ্মশান ছিল এমনটা শোনা যায় ।

    বর্ধমানের রাজার উদ্যোগেই এই শ্মশানে মা কালির প্রতিষ্ঠা হয় এবং মায়ের পূজো শুরু হয় । আশ্চর্যের বিষয় হল মা কালীর পুজো শুরু হতেই বর্গী আক্রমণ একেবারেই বন্ধ হয় যায় । শান্তি ফিরে আসে এলাকায় । তার পর থেকেই মহা ধুমধামের সঙ্গে চলে আসছে ধাণ্ডাডিহি গ্রামের শ্মশান কালীর পুজো । এই পুজো ঘিরে গ্রামের মানুষের উত্‍সাহ থাকে চোখে পড়ার মত । কারণ এই গ্রামে দুর্গা পূজোর থেকেও বড় উত্‍সব এই কালী পূজো । এই গ্রামে একটাই কালী পুজো হয় । পুজোর দিন দূর-দুরান্ত থেকে কয়েক হাজার ভক্তের সমাগম হয় । যেহেতু শাক্য মতে মায়ের পুজো হয় তাই বলিদান প্রথা রয়েছে । আরও শোনা যায় যে এই মায়ের ভোগের পাত্রটি কুম্ভকার সম্প্রদায়ের লোকেরা তৈরি করে থাকে । তারাই মায়ের ভোগও রান্না করে থাকেন । বলিদানের প্রথম ছাগলটি এখনও বর্ধমানের রাজার নামেই উত্‍সর্গ হয়ে থাকে । যদিও এখন আর রাজাও নেই রাজত্বও নেই । তৎকালীন রাজা যে ট্রাস্টি করে গিয়েছিলেন তার আয় দিয়ে আর গ্রামের মানুষের সহযোগিতায় চলে আসছে মায়ের পুজো ।

    এই শ্মশান কালী মায়ের সম্পর্কে অনেক অলৌকিক কথার মধ্যে একটা হল এই মায়ের কাছে সন্তান লাভের আসায় প্রচুর ভক্ত আসেন এবং তাদের মনবাঞ্ছা পূরন করেন এই শ্মশান কালী মা । তাই এই মা কালীকে সন্তান দায়িনী মা-ও বলা হয় । এই পুজো উপলক্ষে চারদিন ধরে চলে নানান সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বসে মেলাও ।

    রিপোর্টার: জয়ন্ত বিশ্বাস

    First published: