‘পাহাড়ের অশান্তিতে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জঙ্গিরা মদত দিচ্ছে,বিদেশি শক্তিরও হাত রয়েছে’, বিস্ফোরক অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর

‘পাহাড়ের অশান্তিতে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জঙ্গিরা মদত দিচ্ছে,বিদেশি শক্তিরও হাত রয়েছে’, বিস্ফোরক অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর

‘পাহাড়ের অশান্তিতে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জঙ্গিরা মদত দিচ্ছে,বিদেশি শক্তিরও হাত রয়েছে’, বিস্ফোরক অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর

  • Share this:

    #কলকাতা: পাহাড়ের অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি নিয়ে বিস্ফোরক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, পাহাড়ে ষড়যন্ত্র করছে মোর্চা। আর তাতে সরাসরি হাত রয়েছে বিদেশি শক্তির। নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মোর্চাকে আগ্নেয়াস্ত্র ও বোমা সরবরাহ করছে উত্তর-পূর্বের জঙ্গি গোষ্ঠীগুলি। তার জেরেই দার্জিলিং জ্বলছে। এনিয়ে পুলিশের হাতে জোরালো প্রমাণ রয়েছে বলেও দাবি মুখ্যমন্ত্রীর।

    মোর্চার বিক্ষোভে জ্বলছে দার্জিলিং। যৌথবাহিনীর ওপর জারি মোর্চা সমর্থকদের বেলাগাম হিংসা। কিন্তু, কেন এমন হামলা? সামনেই জিটিএ নির্বাচন। ভোটে মোর্চাকে কড়া টক্কর দিতে পারে তৃণমূল কংগ্রেস। তাই গদি হারানোর ভয়েই কি বেপরোয়া বিমল গুরুংরা?

    এই প্রশ্নই তোলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ বলেন, ‘হাসপাতালে হামলা হচ্ছে ৷ একের পর এক গাড়ি জ্বালাচ্ছে ৷ পানীয় জল পরিষেবাতেও বাধা দিচ্ছে ৷ এই সব পরিষেবা বন্ধ হলে মানুষ থাকবে কী করে! স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ৷ জাতীয় পতাকা নিয়ে গুন্ডামি করছে ৷ জিটিএ নির্বাচন আসতেই গুন্ডামি শুরু করেছে ৷ বিদেশি পর্যটকদের কাছে ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে ৷ আজ সাংবাদিকদেরও অপহরণ করা হয়েছে ৷ আমরা পাহাড়ে শান্তি চাই ৷’

    মুখ্যমন্ত্রীর সফরের সময়েই অশান্ত হয়ে ওঠে পাহাড়। তারপর থেকে বিন্দুমাত্র কমেনি আগুন। উল্টে প্রতিদিনই চড়ছে হিংসার পারদ। বৃহস্পতিবারই পাতলেবাসে মোর্চার দফতর থেকে উদ্ধার হয় আগ্নেয়াস্ত্র, প্রচুর বিস্ফোরক, ক্রস বো ও তির।

    যেসব অস্ত্র মিলেছে তা সাধারণত গেরিলা হামলার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। কোথা থেকে এল এত অস্ত্র? আশঙ্কা উসকে দিয়েছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, পাহাড়ে ষড়যন্ত্র করছে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা। একটু একটু করে গড়ে তোলা হয়েছে অস্ত্রাগার।

    এরপরেই বোমা ফাটিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বিস্ফোরক দাবি, মোর্চার অশান্তিতে সরাসরি মদত দিচ্ছে বিদেশি শক্তি। আর মোর্চার সশস্ত্র আন্দোলনে অস্ত্র যোগাচ্ছে উত্তর-পূর্বের জঙ্গিগোষ্ঠীগুলি। তা নিয়ে জোরালো প্রমাণও রাজ্যের কাছে রয়েছে বলেও দাবি তাঁর।

    মোর্চার জঙ্গি আন্দোলন যে রাজ্য কড়া হাতেই দমন করবে তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন মু্খ্যমন্ত্রী। তাঁর বার্তা, বনধ প্রত্যাহার করেই মোর্চাকে বসতে হবে আলোচনার টেবলে। তিনি এদিন বলেন, ‘কেউ আলোচনা চাইলে আমরা রাজি ৷ বনধ তুললে তবেই কথা মোর্চার সঙ্গে, বনধ তোলার পরই আলোচনা করব ৷ গণতান্ত্রিক পথে ফিরুক মোর্চা, তারপর কথা ৷’

    ভৌগোলিক অবস্থানের সুবিধা নিয়ে পাহাড়ে আলফা, বোড়ো বা নাগা জঙ্গি গোষ্ঠীর সঙ্গে মোর্চার যোগাযোগ গড়ে ওঠা বেশ সহজ। বিদেশি কোনও রাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে ওঠাও অসম্ভব নয়। আর তা হলে শুধু রাজ্য নয়, কেন্দ্রীয় সরকারেরও মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠবে দার্জিলিং।

    First published: