বন্ধু সাগ্নিকের সঙ্গে ধুমধাম করে বিয়ে করলেন রূপান্তরিত মহিলা অ্যানি

বন্ধু সাগ্নিকের সঙ্গে ধুমধাম করে বিয়ে করলেন রূপান্তরিত মহিলা অ্যানি
সাগ্নিক চক্রবর্তীর সঙ্গে অ্যানি দত্তের বিয়ের মুহূর্ত ৷ ছবি: ফেসবুকের সৌজন্যে ৷
  • Share this:

#জলপাইগুড়ি: আটপৌঢ়ে বাঙালি বিয়ে যেমন ভাবে হয় ঠিক তেমনটাই ৷ বিয়ের আগে কেনাকাটা থেকে শুরু করে আইবুড়ো ভাত ৷ এরপর নান্দীমুখ, জল সইতে যাওয়া, গায়ে হলুদ-সবই হয়েছিল নিয়ম মেনেই ৷ বিয়ের দিন সন্ধ্যায় ‘য়দিদং হৃদয়ং তব, তদিদং হৃদয়ং মম’ মন্ত্রে ভরে উঠেছিল গোটা বিবাহ বাসর ৷

বিয়েতে খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থাও ছিল জম্পেশ ৷ কুলচা, কচি পাঁঠার ঝোল দিয়ে ফ্রায়েড রাইস শেষপাতে রসগোল্লা ৷ এলাহি ভুরিভোজের ব্যবস্থা ছিল ৷ দু’বছর আগে বন্ধুত্ব থেকে ভালোবাসা হয়ে ওঠা সম্পর্ক সমাজের বাধা-ধরা নিয়মের গণ্ডি পেরিয়ে পরিপূর্ণতা পেল গতকাল রবিবার ৷ মিলেছে সামাজিক স্বীকৃতি ৷ বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হলেন জলপাইগুড়ির সাগ্নিক আর বালুরঘাটের অনীক ৷ অনীকের এখন আর অনীক নেই ৷ তাঁর পরিচয়ে পরিচিত হয়েছেন তিনি ৷ নিজের লিঙ্গের রূপান্তর ঘটিয়ে এখন তিনি অ্যানি ৷ গতকাল আরও একটি নতুন পরিচয়ে পরিচিত হলেন অ্যানি ৷ এখন তিনি সাগ্নিক চক্রবর্তীর ঘরণী ৷

30727105_2020656204856101_1134185783519870976_n

তাঁদের জীবনের গল্পটা ভারী অদ্ভুত ৷ শুরুটা হয়েছিল বছর দুয়েক আগে। বিটেক পড়তে জলপাইড়ির সাগ্নিক এসেছিলেন কলকাতায়। আর মডেল হওয়ার স্বপ্ন দুচোখে নিয়ে কলকাতায় এসেছিলেন বালুরঘাটের অনীক। এক শ্রাবণ সন্ধ্যায় কলকাতাতেই দেখা হয়েছিল দুজনের। প্রথমে বন্ধুত্ব, তারপর প্রেম, ঘনিষ্ঠতা। ‘সেক্স’এর সীমারেখা কখনই বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি তাঁদের প্রেমের মাঝে। রবিবার স্বর্ণালি সন্ধ্যায় চার হাত এক হল তাঁদের। সাগ্নিককে জীবনসঙ্গী করতে অনীক এরপর লিঙ্গ বদল করেন। অস্ত্রোপচার করে হন অ্যানি। ২০১৬ থেকে সম্পর্কে উষ্ণতা বেড়েছে। এদিন ছাদনাতলায় সাত জন্মের গাঁটছড়া বাঁধলেন দু’জনে।

দুই পরিবারই আশীর্বাদ জানিয়ে পাশে থেকেছেন। সাগ্নিক ময়নাগুড়ির স্কুলে শিক্ষকতা করেন। অ্যানিও বালুরঘাটের একটি স্কুলের শিক্ষিকা। সেই সঙ্গে অ্যানি যুক্ত রয়েছেন মডেলিং পেশার সঙ্গেও ৷ বিয়ের পর দু’জনেই যাতে একই জায়গায় শিক্ষকতা করতে পারেন ৷ সেই চেষ্টাই চালাচ্ছেন তাঁরা ৷ তবে এখন দু’জনেই খুশিতে ভাসছেন। খুশি তাঁদের পরিবারের মানুষজনও ৷ প্রথমটায় যে মনটা খারাপ হয়নি তেমনটা কিন্তু নয় ৷ তবে ছেলে-মেয়েদের খুশিটাই তো সব ৷

22046866_1935814743340248_5172659003352455945_n

তাই ছেলের এই সম্পর্ককে মেনে নিয়েছেন সাগ্নিকের বাবা সুব্রত চক্রবর্তী ৷ প্রথম থেকেই ছেলের পাশে ছিলেন তিনি ৷ সম্মান জানিয়ে এসেছেন ছেলের সিদ্ধান্তকে ৷ তিনি বললেন, ‘‘ প্রথম থেকেই জানতাম আমার ছেলে কোনও ভুল সিদ্ধান্ত নেয়নি। ও বরং অনেক সাহসী। নিজের মনের কথা বুক চিতিয়ে সকলের সামনে বলেছে। ওরা সুখী হবে না তো কে হবে!’’

First published: October 29, 2018, 8:22 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर