এবারের নিউ ইয়ার রেজোলিউশনে Vivo-র ‘সুইচ অফ’ ক্যাম্পেন, বিশদে জানুন

এবারের নিউ ইয়ার রেজোলিউশনে Vivo-র  ‘সুইচ অফ’ ক্যাম্পেন, বিশদে জানুন

২০১৯ সাল যেন বহুযুগ আগেকার কথা, কিন্তু স্মার্টফোন ব্যবহারের বিষয়টি উঠে এলে সংখ্যাগুলিকে অস্বীকার করার উপায় থাকে না

২০১৯ সাল যেন বহুযুগ আগেকার কথা, কিন্তু স্মার্টফোন ব্যবহারের বিষয়টি উঠে এলে সংখ্যাগুলিকে অস্বীকার করার উপায় থাকে না

  • Share this:

    ২০২০ সাল সকলের এমন ভাবে কেটেছে যা কেউ কোনও দিন কল্পনা করেনি। ফলে খুব স্বাভাবিক ভাবেই আমরা নিজেদের স্মার্টফোনের সাথে অনেক বেশি সময় কাটাতে শুরু করেছি, বিশেষ করে সেই সময় যখন এই মহামারীর হাত থেকে বাঁচতে আমরা ঘরবন্দি জীবন কাটাচ্ছি। কড়া লকডাউনের প্রথম কয়েক মাসে, এই ফোনই আমাদের একমাত্র মাধ্যম ছিল, যার সাহায্যে আমরা বাকিদের সাথে সংযোগ বজায় রাখতাম এবং নিজেদের আপডেট করতাম – এই প্রবণতা এতটাই বেশি ছিল যে ‘ডুমসডে স্ক্রলিং’ একটি প্রচলিত শব্দে পরিণত হয়েছে, এর দ্বারা সেই ব্যক্তিদের বোঝানো হয় যাঁরা কোভিড-১৯ সম্পর্কে যে কোনও তথ্য এবং সব রকম খবর জানার জন্য মরিয়া হয়ে ইন্টারনেট ঘাঁটতেন। যাতে কোনও গুরুত্বপূর্ণ খবর আমরা মিস না করি, তা নিশ্চিত করতে আমরা আজকাল ফোন বন্ধওকরি না।

    যদিও, আমরা অনেকেই জানি না যে, এই অতিরিক্ত ফোন ঘাঁটার অভ্যাস আমাদের মাসনিক স্বাস্থ্যের উপরে অত্যন্ত খারাপ প্রভাব ফেলে। এই বিষয়টি যদি আগে থেকে আপনার না জানা থাকে, তাহলে এখন আমরা তা প্রমাণ করে দিতে পারি, আমরা কত ক্ষণ সময় ফোনের সাথে কাটাই সেই সংখ্যা এর পক্ষে প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে। Vivo-র ‘স্মার্টফোন এবং মানুষের সম্পর্কের উপরে তার প্রভাব ২০২০’ শীর্ষক একটি সমীক্ষার দ্বিতীয় সংস্করণের সৌজন্যে, আমরা স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি যে কীভাবে সামাজিক দূরত্ববিধি মেনে চলার এই বছরে স্মার্টফোন আমাদের লাইপলাইনে পরিণত হয়েছে। এই পরীক্ষা বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছে স্মার্টফোন ব্যবহারের ক্রমবর্ধনশীল ব্যবহারের বিভিন্ন মাত্রাগুলি কী কী- তার ব্যবহারের মেয়াদ, তার ব্যবহারের প্যাটার্নের উপরে লকডাউনের প্রভাব, যে কোনও ব্যক্তির স্বাস্থ্য ও সামাজিক সম্পর্কের উপরে প্রভাব।

    ভারতের আটটি বড় শহরে যেমন, দিল্লি, মুম্বই, কলকাতা, চেন্নাই, হায়দরাবাদ, আমেদাবাদ এবং পুণে-তে একটি সমীক্ষা করা হয়েছে যেখানে বিভিন্ন বয়সের এবং ভিন্ন ডেমোগ্রাফিকের প্রায় ২০০০ জন বাসিন্দা অংশগ্রহণ করেছিলেন, যাঁদের মধ্যে ৩০% ছিলেন মহিলা এবং ৭০% ছিলেন পুরুষ। সেই সমীক্ষার কিছু অংশ এখানে তুলে ধরা হল।

    ২০২০ সমীক্ষার ফলাফল

    এই সমীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে যে ৬৬% ভারতীয় বিশ্বাস করেন যে, তাঁদের স্মার্টফোন তাঁদের জীবনের মান উন্নত করে তোলে। তাছাড়াও, অন্তত ৭০% ভারতীয় মনে করেন যে, যদি তাঁদের স্মার্টফোনের ব্যবহার বাড়তে থাকে, তাহলে তা তাঁদের মানসিক/শারীরিক স্বাস্থ্যের উপকে প্রভাব ফেলতে পারে।

    এর পাশাপাশি, ৭৪% অংশগ্রহণকারী জানিয়েছেন যে, নির্দিষ্ট সময় অন্তর ফোন বন্ধ করে রাখলে, তা তাঁদের পরিবারের সাথে বেশি সময় কাটাতে সাহায্য করবে।যদিও, মাত্র ১৮% ইউজার বাস্তবে স্বেচ্ছায় নিজেদের ফোন বন্ধ করে থাকেন। এটা শুনলে হয়তো অনেকেই অবাক হবেন না যে, ৮৪% ইউজার তাঁদের ফোন নিয়ে লিভিং রুমে যান এবং ৭১% খাবার সময়েও ফোন ব্যবহার করেন।

    ২০১৯-এর সাথে পার্থক্য

    এই বছরে যা যা হয়েছে, তারপরে মনে হয় ২০১৯ সাল যেন বহুযুগ আগেকার কথা, কিন্তু স্মার্টফোন ব্যবহারের বিষয়টি উঠে এলে সংখ্যাগুলিকে অস্বীকার করার উপায় থাকে না। এই একই সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে, গত বছর পর্যন্ত লোকে তাঁদের স্মার্টফোনে ৪.৯৪ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় ব্যয় করতেন যা ২০২০ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ৫.৪৮ ঘণ্টা এবং তারপরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে দিনে ৬.৮৫ ঘণ্টায়। এই সংখ্যাই বলে দিচ্ছে যে, এই এক বছরে স্মার্টফোনে সময় কাটানোর গড় দৈনিক সময় ৩৯% বেড়ে গিয়েছে!

    অন্যান্য যে পরিসংখ্যানগুলি এর মধ্যে থেকে বেরিয়ে এসেছে সেগুলি হল মাত্র ৩৩% অংশগ্রহণকারী গত বছর পর্যন্ত স্মার্টফোন হাতে না থাকলে খিটখিটে বা মুডি হয়ে যেতেন এবং এই ২০২০ সালে সেই সংখ্যাটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৪%-তে। এই সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৫২% জানিয়েছেন যে, ২০১৯ সাল পর্যন্ত তাঁরা ঘুম ভাঙার ১৫ মিনিটের মধ্যে তাঁদের স্মার্টফোন চেক করতেন, এবং এই বছর সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৪%-তে।

    Vivo India এবং তাঁদের ‘সুইচ অফ’ ক্যাম্পেন

    Vivo, একটি অভিনব গ্লোবাল স্মার্টফোন ব্র্যান্ড, তাঁদের এই ক্যাম্পেন শুরু করেছেন যাতে তাঁরা সকলকে মননশীল উপায়ে স্মার্টফোন ব্যবহারের উপকার সম্পর্কে জানাতে পারেন এবং মাঝে মধ্যে আপনার ফোন #SwitchOff করে রাখা কেন জরুরি, সেই বার্তা ছড়িয়ে দিতে পারেন।

    এই সমীক্ষা শুধুই সংখ্যা জোগাড় করার একটি পদ্ধতি, তবে আমাদের মধ্যে অনেকেই সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন যে স্মার্টফোনের ব্যবহার আগের চেয়ে বেড়ে গিয়েছে।

    Vivo India-র ডিরেক্টর-ব্র্যান্ড স্ট্র্যাটেজি, নিপুণ মারয়া এই সমীক্ষার বিষয়ে বলেছেন, “২০২০ সালটি খুবই অন্য রকম ছিল- এমন একটি বছরের কথা কেউ কল্পনাও করেনি। এই মহামারীর ফলে সকলে সামাজিক দূরত্ববিধি মেনে জীবনযাপন করতে বাধ্য হয়েছেন, এবং তার ফলে স্মার্টফোন সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। তবে, এর অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে ইউজারদের মধ্যে আসক্তি জন্মাচ্ছে এবং তার ফলে মানুষের সম্পর্ক এবং ব্যবহারের উপরে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।”

    এই আসক্তির হাত থেকে মুক্তির জন্য, Vivo India একটি অভিনব ক্যাম্পেন চালু করেছে যার নাম হল ‘সুইচ অফ’ এবং এর একমাত্র স্পষ্ট ও সহজ উদ্দেশ্য হল – মানুষের জীবনে আনন্দ ফিরিয়ে আনা। উপরের বর্ণিত প্রতিটি পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে যে, স্মার্টফোনের উপরে আমাদের নির্ভরশীলতা কমানো প্রয়োজন, বিশেষ করে মহামারী-পরবর্তী পৃথিবীতে এটি ‘নিউ নর্মাল’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।

    এমন কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা বা সময় নেই যখন আপনার ফোন বন্ধ রাখা বা সুইচ অফ করে রাখা প্রয়োজন কারণ প্রত্যেক মানুষের চাহিদা ও প্রয়োজন ভিন্ন হয়, এই ক্যাম্পেনের উদ্দেশ্য হল, আপনি যাতে সচেতন ভাবে প্রতিদিন এই যন্ত্রের পিছনে কম সময় ব্যয় করেন, তার জন্য উৎসাহ দেওয়া।

    তাই, এই নতুন বছরে, নিশ্চিত করুন যাতে আপনার স্মার্টফোন আপনার জীবনকে চালনা না করে। শপথ নিন যে কিছু সময় বিশ্রাম করবেন, ফোনের প্রতি আপনার আসক্তি কমাবেন এবং আপনার স্মার্টফোনের সাথে একটি স্বাভাবিক সম্পর্ক বজার রাখবেন। এটা করা খুব কঠিন কাজ নয়, কারণ এর জন্য শুধুই প্রয়োজন আপনার মনের জোর এবং দৃঢ়তা। আপনাকে শুধু যে কাজটা করতে হবে, তা হল রোজ কিছুটা সময় #SwitchOff করে রাখুন এবং সেই সময়ে আপনার কাছের মানুষদের সাথে কিছু স্মরণীয় মুহূর্ত উপভোগ করুন!

    এটি একটি পার্টনার পোস্ট

    Published by:Ananya Chakraborty
    First published:

    লেটেস্ট খবর