কথা মতো কাজ না করলে Twitter কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করতে পারে সরকার

কথা মতো কাজ না করলে Twitter কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করতে পারে সরকার
ভারতে Twitter-এর বেশ কয়েকজন আধিকারিকের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে

ভারতে Twitter-এর বেশ কয়েকজন আধিকারিকের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: কৃষক আন্দোলনের জেরে জেরবার সোশ্যাল মিডিয়া। একাধিক ট্যুইট ও পোস্ট নিয়ে বিতর্ক ইতিমধ্যেই মাথা চাড়া দিয়েছে। যার ফলে সোশ্যাল মিডিয়ায় কার্যত নজরদারি চালাচ্ছে প্রশাসন। বেশ কয়েকটি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ইতিমধ্যেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই নিয়ে কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার। কারণ তাদের দাবি, মানুষকে প্ররোচনামূলক ও ভুল তথ্য দেওয়া হচ্ছে ক্রমাগত। এর ফলে বেশ কিছু ট্যুইট ডিলিট করার বা বন্ধ করার লিস্ট সরকার এই মাইক্রোব্লগিং সাইটকে দিচ্ছে। কিন্তু অভিযোগ, তার মধ্যে সবটাই বন্ধ করছে না তারা। আর এই জন্যই এবার ভারতে Twitter-এর বেশ কয়েকজন আধিকারিকের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।

কৃষক আন্দোলন নিয়ে Twitter-এ পক্ষ-বিপক্ষের মত সারা দিন চলছে। যে যার নিজের মতো মন্তব্য রাখছে। কিন্তু তার মধ্যে বেশ কয়েকটি পোস্ট ঘটনায় প্ররোচনা দেওয়ার মতো করা হচ্ছে বলে জানাচ্ছে প্রশাসন। এর জন্য কেন্দ্রীয় সরকাররে ইনফরমেশন অ্যান্ড টেকনোলজি মন্ত্রক বার বার Twitter কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় বসছে, যাতে সেই সব ট্যুইট যা দেশের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে বা ঐক্যের বিরুদ্ধে করা হচ্ছে, তা মুছে ফেলা হয়। সরকারের দাবি মতো Twitter সে কাজ করলেও তাতে ফাঁক থেকে যাচ্ছে। এমতাবস্থায় এই সংস্থা দাবি করছে, তারা তাদের ব্যবহারকারীদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা করতে চায়। কারণ সেই অধিকার তাদের আছে। এই নিয়ে তারা আদালতেও যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

গতকাল সকালে Twitter-এর তরফে বলা হয়, ব্যবহারকারীদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিষয়টি মাথায় রেখে ও তাকে রক্ষা করতে আমরা সংবাদমাধ্যম, সাংবাদিক, সমাজকর্মী বা রাজনীতিক, কারও কোনও পোস্টই ডিলিট করব না বা তাদের বিরুদ্ধে, অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করব না। আমরা মনে করি, এমন হলে, ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী, মানুষের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ণ করা হবে।


গতকাল এই নিয়ে Twitter-এর আধিকারিক মনিক মেচে ও জিম বেকারের সঙ্গে বৈঠকে বসেন IT সেক্রেটারি অজয় প্রকাশ সাওনে। তিনি কর্তৃপক্ষের উদ্দেশ্যে সাফ জানিয়ে দেন বিতর্কিত হ্যাশট্যাগ কখওনই সাংবাদিকদের স্বাধীনতার অধিকার হতে পারে না বা তাদের মতপ্রকাশের অধিকারের মধ্যেও পড়ে না। এই ধরনের ট্যুইট বা হ্যাশট্যাগ আগুনে ঘি ঢালার মতো কাজ করে। তিনি এই নিয়ে আরও বিশ্লেষণ করতে গিয়ে জানান, লাল কেল্লার ঘটনায় Twitter-এর ভূমিকা নিয়ে সরকার যথেষ্ট অসন্তুষ্ট।

এই নিয়ে Twitter কর্তৃপক্ষ IT মন্ত্রকের সঙ্গে আগেই বৈঠকে বসার আবেদন জানিয়েছিল। যা বার বার পিছিয়ে যাওয়ার পর গতকাল সন্ধেয় সেক্রেটারি সাওনে Twitter আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। বৈঠকে Twitter-কে তিনি জানান, অবিলম্বে পদক্ষেপ করতে হবে। ২৫৭টি Twitter হ্যান্ডেলকে বন্ধ করতে হবে, যাঁরা #ModiPlanningFarmerGenocide ব্যবহার করেছেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে Twitter জানায়, তারা এর মধ্যে ১২৬টি অ্যাকাউন্টের উপরে সেন্সর বসিয়েছে। যার মধ্যে কমিউনিস্ট পার্টি অফ ইন্ডিয়ার, Caravan magazine রয়েছে। কমিউনিস্ট পার্টির মহম্মদ সেলিম রয়েছেন। সমাজকর্মী হংসরাজ মীনা রয়েছেন, কিষাণ একতা মোর্চা রয়েছে ও BKU একতা উরগাহান রয়েছে।

প্রসঙ্গত, এর আগে প্রশাসনের তরফে দাবি করা হয়েছিল, কৃষক আন্দোলনে মদত দিচ্ছে পাকিস্তানের কিছু Twitter অ্যাকাউন্ট। দেশে ঝামেলা লাগাতে প্রায় ৩০০টি অ্যাকাউন্ট থেকে এই কাজ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ!

Published by:Ananya Chakraborty
First published: