মেইলে চাকরির অফার? জালিয়াতি থেকে বাঁচতে এই ৬ কথা মাথায় রাখতেই হবে

মেইলে চাকরির অফার? জালিয়াতি থেকে বাঁচতে এই ৬ কথা মাথায় রাখতেই হবে
যত দিন যাচ্ছে এই জালিয়াতির পরিমাণ বাড়ছে, বলছে সেন্টার ফর মনিটরিং ইন্ডিয়ান ইকোনমি বা CMIE-র একটি রিপোর্ট

যত দিন যাচ্ছে এই জালিয়াতির পরিমাণ বাড়ছে, বলছে সেন্টার ফর মনিটরিং ইন্ডিয়ান ইকোনমি বা CMIE-র একটি রিপোর্ট

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: দেশে বেকারত্বের হার বাড়ছে, যার ফল ভোগ করছে দেশের তরুণ প্রজন্ম। আর তাকেই কাজে লাগিয়ে প্রতারণার ফাঁদ পাতছে প্রতারকরা। যত দিন যাচ্ছে এই জালিয়াতির পরিমাণ বাড়ছে, বলছে সেন্টার ফর মনিটরিং ইন্ডিয়ান ইকোনমি বা CMIE-র একটি রিপোর্ট। ডিসেম্বর ২০২০-তে এই সংস্থার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দেশে বেকারত্বের হার বেড়েছে ৯.১ শতাংশ।

করোনা পরিস্থিতিতে অন্যান্য দেশের মতো আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আমাদের দেশও। আগে থেকে অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ থাকায়, লকডাউনের ফলে তা কার্যত তলানিতে ঠেকে। কিন্তু আনলকের পর থেকে ধীরে ধীরে মাথা তুলে দাঁড়ানো শুরু করলেও বেকারত্বের হার কিন্তু কমেনি।

বেশ কিছু রিপোর্ট বলছে, অর্থনৈতিক অবস্থা উন্নতি হলেও চাকরি নেই দেশে। যার ফলে দেশের তরুণ প্রজন্মকে হাতিয়ার করে আর্থিক জালিয়াতির ফাঁদ পাতছে প্রতারকরা। কখনও টাকার বিনিময়ে রেজিস্ট্রেশন করে চাকরি দেওয়া, তো কখনও অন্য ভাবে চাকরির টোপ দেওয়া- যত দিন যাচ্ছে এই প্রবণতা আরও বাড়ছে।


আর কী ভাবে হচ্ছে এই জালিয়াতি?

প্রতারকরা কোনও সংস্থার তৈরি ই-মেল আইডির মতো হুবহু একটি ই-মেল আইডি তৈরি করছে। এবং সেখান থেকে যাঁরা চাকরি খুঁজছেন তাঁদের মেল পাঠাচ্ছে। এখানেই শেষ নয়, যাতে কোনও সন্দেহ না হয়, তার জন্য একটি করে ফেক ওয়েবসাইটও বানিয়ে ফেলছে তারা। ফলে যাঁদের সত্যিই চাকরির প্রয়োজন রয়েছে, তাঁদের অনেকেই ফেঁসে যাচ্ছেন।

এ ক্ষেত্রে নিজের সমস্ত ব্যক্তিগত তথ্য, ডেট অফ বার্থ, ক্রেডিট কার্ড এমনকি বাড়ির ঠিকানাও দিচ্ছেন অনেকে। যা দিয়ে একাধিক জায়গায় ইউজার নেম, পাসওয়ার্ড দিয়ে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করছে প্রতারকরা।

ফিশিং অ্যাটাক কী?

ইলেক্ট্রনিক কমিউনিকেশন ব্যবহার করে কারও তথ্য চুরি করে তাকে বিভিন্ন ভাবে ঠকানোর চেষ্টা করাকে বলা হয় ফিশিং অ্যাটাক। প্রথমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিশ্বাসভাজন হয়ে তার পর এই কাজ করে থাকে প্রতারকরা। এ ক্ষেত্রে সাধারণত আর্থিক প্রতারণার জন্যই তথ্য চুরি করা হয়ে থাকে।

এই ধরনের অ্যাটাক কী ভাবে এড়িয়ে যাওয়া যাবে?

১) ই-মেল অ্যাড্রেস ভেরিফাই করে নেওয়া

সাধারণত প্রতারকরা চাকরির অফার দিয়ে মেইল করে। মেইলে রিপ্লাই দেওয়ার আগে সেই ই-মেইল আইডি চেক করে নেওয়া ভালো। এ ক্ষেত্রে যে কোম্পানির তরফে মেইল করা হচ্ছে বলে দাবি করা হবে, সেই কোম্পানির ওয়েবসাইটে ঢুকে কনট্যাক্ট আস অপশনে গিয়ে ই-মেইল আইডি চেক করা যাবে।

২) LinkedIn ব্যবহার করে তথ্য যাচাই করে নেওয়া

এখন LinkedIn-এর অপশন রয়েছে তথ্য যাচাইয়ের জন্য। ফলে যে মেইল করবে, তার নাম দিয়ে LinkedIn-এ খুঁজে নেওয়া ভালো। তা হলেই বোঝা যাবে সে আসল ওই সংস্থা থেকেই মেল পাঠিয়েছে কি না!

৩) চাকরির অফারটি বার বার পড়ে দেখে নেওয়া

অফার লেটারটি ভালো করে পড়ে নেওয়া প্রয়োজন। পুরোটা পড়ে তবেই এগোনো উচিৎ। যদি অফার লেটারটিতে ভালো স্যালারি, মোটা টাকা ইনক্রিমেন্টের কথা উল্লেখ থাকে, তা হলে বুঝতে হবে এটি ফেক। আর সাধারণত একটা কোম্পানি কখনওই পরীক্ষা বা ইন্টারভিউ না নিয়ে চাকরিতে নেবে না।

৪) কোম্পানির নাম টাইপ করে Google-এ ফিডব্যাক দেখে নেওয়া

যে ভাবে জামা-কাপড় বা কোনও জিনিস কেনার আগে ফিডব্যাক দেখে নেওয়া হয়, সেই ভাবেই এ ক্ষেত্রেও ফিডব্যাক চেক করে নেওয়া ভালো।

৫) ভেরিফিকেশন না হওয়া পর্যন্ত তথ্য না দেওয়া

ভেরিফাই করার আগে ব্যক্তিগত কোনও তথ্যই দেওয়া উচিত হবে না। এ ক্ষেত্রে বিপদ হতে পারে।

৬) চাকরির জন্য টাকা না দেওয়া

টাকার বিনিময়ে রেজিস্ট্রেশন করে চাকরি দেওয়ার কথা বলা হলে তা এড়িয়ে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে!

Published by:Ananya Chakraborty
First published: