Facebook: ডেটা লিক নিয়ে কী বলছে Facebook, প্রতিকারের উপায়ই বা কী?

facebook

Facebook কি তাহলে এত দিন ইউজারদের সুরক্ষার বিষয়টিতে তেমন নজর দেয়নি?

  • Share this:

সাফ জানিয়ে দিয়েছে Facebook তাদের চলতি বছরের ৬ এপ্রিলের একটি ব্লগ পোস্টে- ইউজারদের ডেটা নলাইনে লিক হয়ে যাওয়া বন্ধ করাটা তাদের হাতে নেই! সংস্থার দাবি, হ্যাকাররা যে কোনও সময়ে নানা পথ অবলম্বন করে ইউজারদের তথ্য হাতানোর ফিকির করতে পারে। তাদের কার্যকলাপ যেহেতু সময় এবং প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে বদলায়, সেই জন্যই কোনও নির্দিষ্ট উপায়ে তার প্রতিকার সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে Facebok। তবে এটুকু প্রতিশ্রুতি দিতে ভোলেনি যে তাদের একটি বিশেষ টিম এবার থেকে ইউজারদের সুরক্ষার স্বার্থে সব সময়ে সক্রিয় থাকবে।

ঠিক এই জায়গা থেকে Facebook-এর ইউজারদের ব্যক্তিগত ডেটা অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, যে প্রশ্নগুলো উঠছে ইউজারদের তথ্যসুরক্ষা নিয়ে, তা আরও জোরদার হয়ে উঠছে। Facebook কি তাহলে এত দিন ইউজারদের সুরক্ষার বিষয়টিতে তেমন নজর দেয়নি? বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে ব্যাপারটি একেবারেই তাই, না হলে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের ব্যক্তিগত তথ্যও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়তে পারে না!

সম্প্রতি ৫৩৫ মিলিয়ন Facebook ইউজারের তথ্য অনলাইনে লিক হয়েছে। সংস্থা দাবি করেছে যে এই তথ্যগুলো ২০১৯ সালের, তাই ইউজারদের উদ্বিগ্ন বোধ করার কোনও কারণ নেই। কিন্তু এত সহজে বিষয়টির নিষ্পত্তি হচ্ছে না। কেন না, সাইবার সিকিউরিটি ওয়ার্কাররা পরখ করে দেখেছেন যে সব ফোন নম্বর, ই-মেইল আইডি অনলাইনে লিক হয়েছে, তার অনেকগুলোই এখনও সক্রিয়। লিক হওয়া অন্য তথ্যের মধ্যে রয়েছে জন্মতারিখ, লোকেশন, Facebook ID- এগুলোও কেউ চট করে পরিবর্তন করেন না।

ইজরায়েলের সাইবার সিকিউরিটি ফার্ম হাডসন রক-এর প্রতিষ্ঠাতা অ্যালন গল এই প্রসঙ্গে জানিয়েছেন যেন ইউজারদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ যথেষ্টই আছে। তিনি বলেছেন যে ২০১৯ সাল থেকে হ্যাকাররা প্রথমে এই সব তথ্যগুলোকে বিক্রি করা শুরু করে। সম্প্রতি তারা অনলাইনে তা বিনামূল্যে ডাউনলোডের জন্য ছেড়ে দিয়েছে। এর মানে যখন-তখন, যে কেউ এই ডেটাগুলো অ্যাকসেস করতে পারবে। সেই মতো নানা ফোন কলের মাধ্যমে, নানা লিঙ্ক পাঠিয়ে ইউজারদের ফোনের তথ্য হাতানোর চেষ্টা করতে পারে তারা। এমনকি, SIM সোয়্যাপ টেকনোলজির মাধ্যমে অন্য ফোনে ইউজারের কনট্যাক্ট টেনে তথ্য বের করে নিতে পারে।

এই প্রসঙ্গে Facebook জানিয়েছে যে তারা সেই ২০১৯ সাল থেকেই ফোন নম্বর সার্চের মাধ্যমে প্রোফাইল খুঁজে বের করার অপশনটি বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে হ্যাকাররা চাইলেও খুব একটা সুবিধা করতে পারবে না। কিন্তু পাশাপাশি তারা এটাও বলছে যে যাঁদের ব্যক্তিগত তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে, তাঁদের আলাদা করে কোনও টেক্সট বা মেইল পাঠিয়ে সেটা জানানোটাও তারা করে উঠতে পারবে না। মোটের উপরে নিজেদের ঘাড় থেকে প্রায় সব দায় ঝেড়ে ফেলতে চাইছে সংস্থা।

এই সমস্যা সমাধানে এগিয়ে এসেছেন সাইবার সিকিউরিটি রিসার্চার ট্রয় হান্ট। তাঁর কাজ হল অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া এই সব তথ্য এক ওয়েবসাইটে একত্র করে তা সাধারণের সার্চের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া যাতে তারা সময় থাকতে থাকতে নিজেদের ব্যক্তিগত তথ্য বদলে নিতে পারে। এই ওয়েবসাইটটির নাম হল Have I Been Pwned। এখানে গিয়ে নিজের ফোন নম্বর এন্টার করে দেখতে হবে। অবশ্য সেটা এন্টার করতে হবে আন্তর্জাতিক কোড মেনে। মানে, ভারতীয় নম্বর হলে দশ ডিজিটের মোবাইল নম্বরের আগে বসাতে হবে ৯১। এবার ওই নম্বর সংক্রান্ত Facebook অ্যাকাউন্টের তথ্য যদি লিক হয়ে থাকে, তাহলে তা সার্চে উঠে আসবে। সেই মতো পদক্ষেপ করতেও অসুবিধা নেই!

পাশাপাশি, বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে প্রত্যেক Facebook ইউজারেরই অ্যাকাউন্টে লগ-ইন করার জন্য টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন চালু করে রাখা উচিত। এতে অন্য ডিভাইজে লগ-ইন হলেই রেজিস্টার করা নম্বরে আপডেট এসে যাবে ওটিপি-র সূত্রে। সেই ওটিপি নম্বর এন্টার না করলে লগ-ইন করা যাবে না। এছাড়া প্রোফাইলও পাবলিক না করে রেখে লক করে রাখা উচিত।

Published by:Piya Banerjee
First published: