গত ৯ দিনে হুহু করে গলল অ্যান্টার্কটিকার বরফ, মহাপ্রলয়ের আশঙ্কা ভারতে

গত ৯ দিনে হুহু করে গলল অ্যান্টার্কটিকার বরফ, মহাপ্রলয়ের আশঙ্কা ভারতে

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এইভাবে বরফ গলার পরিমাণ বাড়তে থাকায় সব চেয়ে খারাপ প্রভাব পড়তে চলেছে অ্যান্টার্কটিকার সব চেয়ে কাছে অবস্থিত ভারত মহাসাগরে

  • Share this:

হুহু করে গলেছে অ্যান্টার্কটিকার বরফ। বাড়ছে জলস্তর! এগিয়ে আসছে বিপদ! মাত্র ৯ দিনে গলে গেল আন্টার্কটিকার ২০ শতাংশ বরফ। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এইভাবে বরফ গলার পরিমাণ বাড়তে থাকায় সব চেয়ে খারাপ প্রভাব পড়তে চলেছে অ্যান্টার্কটিকার সব চেয়ে কাছে অবস্থিত ভারত মহাসাগরে। মহা প্রলয়ের আশঙ্কা ভারতে। ২১০০ সালের মধ্যে ভারত মহাসাগরের জলস্তর প্রায় দু’‌মিটার বেড়ে যেতে পারে। তারমানে, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে দু’‌মিটার ডুবে যাবে ভারত।

সভ্যতার অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে বেড়ে চলেছে বিশ্বউষ্ণায়ন। চলতি মাসে ৯ দিন ধরে তাপপ্রবাহ চলেছে অ্যান্টার্কটিকায়। তার জেরেই দ্বীপপুঞ্জের বহু জায়গায় বরফ গলেছে, সবথেকে বেশি বরফ গলেছে আন্টার্কটিকার উত্তরের অংশে। ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুর দিকে টানা ৯ দিন তীব্র তাপপ্রবাহ চলেছে অ্যান্টার্কটিকায় । ৬৪.৯ ডিগ্রি ফারেনহাইটে পৌঁছে যায় তাপমাত্রা। নাসা-র তরফে জানানো হয়েছে, আন্টার্কটিকায় ঈগল আইল্যান্ডের চূড়ায় চার ইঞ্চি বরফের আস্তরণ গলে গিয়েছে। এর আগে আলাস্কা ও গ্রিনল্যান্ডে এত দ্রুত বরফ গলে গেলেও আন্টার্কটিকায় এই প্রথম।

বিজ্ঞান পত্রিকা ‘‌নেচার’‌–এর ৪২টি সংগঠনের ৮৪জন গবেষকদের প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে ২০১২ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত, গত পাঁচ বছরে অ্যান্টার্কটিকার বরফের স্তর তিন গুণ বেশি গলেছে । হিসাব মতে, প্রতি বছর ২৪১ বিলিয়ন টন বরফ গলেছে আন্টার্কটিকায়। ফলে সারা সমুদ্রে বাড়ছে জলস্তর। অথচ, ১৯৯২ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত অ্যান্টার্কটিকায় প্রতিবছর বরফ গলেছিল ৮৪ বিলিয়ন টন।

ইংল্যান্ডের লিড্‌স বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী অ্যান্ড্রু শেপার্ড বলছেন, অ্যান্টার্কটিকা একাই সমুদ্রের জলস্তর প্রায় অর্ধেক ফুট বা ১৬ সেন্টিমিটার বাড়িয়ে দিতে সক্ষম এবং তা হতে চলেছে এই শতকের শেষের দিকেই। আবহাওয়া পরিবর্তনের ফলেই এই পরিস্থিতি উৎপন্ন হয়েছে বলে ক্ষোভপ্রকাশ করেছেন তিনি। ওয়ালিদ আবদালাতি (নাসার প্রাক্তন প্রধান বিজ্ঞানী, বর্তমানে কলোরাডো বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী) বলছেন, ক্রমে আবহাওয়া আরও উষ্ণ হবে। ফলে, খুব শীঘ্রই পরিস্থিতি আরও মারাত্মক হয়ে উঠবে।

First published: February 27, 2020, 8:15 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर