বর্ধমান রাজবাড়ির প্রতিমাকে কেন পটেশ্বরী বলে ডাকা হয় জানেন?

Elina Datta | News18 Bangla
Updated:Sep 27, 2017 04:54 PM IST
বর্ধমান রাজবাড়ির প্রতিমাকে কেন পটেশ্বরী বলে ডাকা হয় জানেন?
Burdwan rajbari poter durga
Elina Datta | News18 Bangla
Updated:Sep 27, 2017 04:54 PM IST

 #বর্ধমান: পটে আঁকা দুর্গা। নাম তাই পটেশ্বরী। তিনশো বছরেরও বেশি সময় ধরে বর্ধমান রাজবাড়ির লক্ষ্মীনারায়ন জিউ মন্দিরে পটে আঁকা দুর্গার পুজো হয়ে আসছে। বর্ধমানের মহারাজ মহাতাব চাঁদ এই পুজোর সূচনা করেছিলেন। প্রথম দিন থেকেই সেই পটে আরাধনা। একই ট্র্যাডিশন আজও। পট বদল না হলেও বারো বছর অন্তর পটের অঙ্গরাগ হয়।

মা চন্ডিকা রয়েছেন ঘরে। তিনিই কুলদেবী। তাই অন্য কোন প্রতিমায় পুজো হবে না। রাজপুরোহিতের বিধান। মেনে নিলেন বর্ধমান রাজা মহাতাবচাঁদ। তাহলে কি দুর্গা পুজো হবে না? কারণ মহারাজার বহুদিনের ইচ্ছে আর সব রাজারাজরার মত দুর্গাপুজো করার। সেটাও ফেলে দেওয়ার মত কথা নয়। মেনে নিলেন রাজপুরোহিতও। বিধানের দ্বিতীয় অংশে জানালেন, মহারাজ চাইলে প্রতিমার বদলে পটে আঁকা দুর্গার পুজোর আয়োজন করতে পারেন।

দাঁইহাট থেকে শিল্পী এলেন। আঁকা হল পট। শুরু হল বর্ধমান রাজবাড়ির দুর্গাপুজো। বর্ধমান শহরের প্রাচীনতম দুর্গা। এই পটেশ্বরী। পটের চালচিত্রে রয়েছে নানা পৌরানিক কাহিনী। একই পটে একটানা বারো বছর পুজো পান পটেশ্বরী। বারো বছর অন্তর হয় অঙ্গরাগ।

প্রতিমার বদলে পটে এঁকে পুজো হলেও রাজ আমলে নিষ্ঠা এবং আড়ম্বরের কিছুমাত্র ঘাটতি ছিল না। আজো নেই। এলাকায় কোনও পুজো ছিল না। তাই প্রজারা সকলেই পুজো দেখতে সবাই হাজির হতেন রাজবাড়িতে। প্রসাদ,খিচুড়ি ভোগ খেয়ে, বিকেলে মেলা আর রাতে যাত্রা পালাগান শুনে ভোরে বাড়ি ফিরতেন তাঁরা।

রাজ আমল বিলুপ্তির পর সেই জাঁকজমকও অতীত। মন্দিরও জীর্ন। ঝাড়বাতিটাও উধাও বহু আগেই। তবে এখনও নিষ্ঠা আর রীতি মেনে পুজো চলছে। পটেশ্বরীর পুজো ন’দিনের। প্রতিপদ থেকে পুজো শুরু হয় চলে নবমী পর্যন্ত।

রাজকুমার প্রণয়চাঁদ মহাতাব সস্ত্রীক আসেন পুজোর দিনগুলিতে। নিজে পুজো করেন তিনি। এখনও নবমীতে কুমারী পুজো হয়। এই মন্দির চত্ত্বরে আজো গুজরাতি সমাজের নবরাত্রি উত্সব হয়। ন’রাত ধরে চলে ডান্ডিয়া। আজো বর্ধমানের সর্বমঙ্গলা মন্দিরের নির্ঘন্ট মেনে পুজো হয় একদা রাজার অধীনে থাকা চার পাঁচটি জেলায় সমস্ত পুজোয়।

First published: 04:54:35 PM Sep 27, 2017
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर