• Home
  • »
  • News
  • »
  • sports
  • »
  • SURYAKANTA PANDA FROM CHINSURAH WILL BE AT T 20 WORLD CUP AS ELECTRONIC SCORER DMG

T 20 World Cup: মুদি দোকানের কর্মচারী থেকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আসর! সূর্যকান্তের স্বপ্নপূরণ

সূর্যকান্ত পান্ডা৷

*সূর্যকান্ত পান্ডা একজন ইলেকট্রনিক স্কোরবোর্ডের স্কোরার। সুযোগ পেয়েছেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে স্কোরিং করানোর।

  • Share this:

#চুঁচুড়া: চুঁচুড়া মুদির দোকানে সাড়ে সাত হাজার টাকায় কাজ করেন সূর্যকান্ত পান্ডা। চাল,ডাল আটা-ময়দার সঠিক ওজন করে মানুষের হাতে তুলে দেওয়াই তার নিত্যদিনের কাজ। এটুকু শুনলে মনে হবে সাধারণ একজন দোকান কর্মীকে নিয়ে আলোচনা কীসের? তবে যদি শোনেন এই সূর্যকান্তই বিরাট কোহলিদের গুরুদায়িত্সাব সামলান, তাহলে অবাক হতেই হয়। তাঁর একটা ক্লিকেই জানাযায় টিম ইন্ডিয়ার স্কোর।

চুঁচুড়া থেকে টিম ইন্ডিয়া পর্যন্ত কী করে যোগ সূত্র ঘটল সূর্যকান্তের? আসলে সূর্যকান্ত পান্ডা একজন ইলেকট্রনিক স্কোরার। সহজ করে বলতে গেলে ক্রিকেট মাঠে যখন দর্শকরা খেলার স্কোর জানতে পারেন ইলেকট্রনিক্স স্কোরবোর্ডে ,তখন সেই স্কোরবোর্ডটা কম্পিউটারে বসে চালান এই সূর্যকান্ত পান্ডা। খেলা দেখতে দেখতে প্রত্যেকটা বলের আপডেট কম্পিউটারে বসে ক্লিক করেন সূর্যকান্ত। আর সঙ্গে সঙ্গে সেটাই ইলেকট্রনিক স্কোরবোর্ডে হাজার হাজার দর্শকের সামনে ফুটে ওঠে।

সেই সূর্যকান্ত পান্ডা এবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ডাক পেয়েছেন স্কোরিং করার জন্য। বাংলা থেকে দু' জন ডাক পেয়েছেন এই কাজের জন্য। প্রথম জন বনগাঁর তনয় পান্তি দ্বিতীয়জন চুঁচুড়ার সূর্যকান্ত পান্ডা।

ওড়িশায় জন্ম সূর্যকান্তের। ছোটবেলা থেকে ক্রিকেট খেলতেন। তবে আর্থিক অনটনে সে স্বপ্ন পূরণ হয়নি। পরিবারের সঙ্গে চলে আসতে হয় এই রাজ্যে। কম বয়সে মা বাবাকে হারান। নিজের জামাইবাবু পথ দুর্ঘটনায় মারা যান। ফলে নিজের এবং দিদির সংসারের সব দায়িত্ব নিতে হয় সূর্যকান্তকে। মাধ্যমিক পাস করার পর আর পড়াশোনা করা সম্ভব হয়নি। মুদিখানার দোকানে কাজ নিয়ে নেন। দৈনিক আড়াইশো টাকা পারিশ্রমিক। তবে ছোটবেলায় ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন ছাড়তে পারেননি সূর্যকান্ত।

সিএবি স্কোরার রক্তিম সাধুর সঙ্গে পরিচয় হয় চুঁচুড়ার মাঠে। রক্তিম বাবুর হাত ধরেই প্রথম সিএবিতে আসেন সূর্যকান্ত। ক্রিকেটার না হতে পারলেও ক্রিকেট মাঠের স্কোর লেখার কাজ শিখতে শুরু করেন। আস্তে আস্তে সিএবি স্কোরার হন সূর্যকান্ত পান্ডা। বছর কয়েক আগে বর্ষসেরা স্কোরারের পুরস্কার জেতেন। সুযোগ চলে আসে আইপিএলে ইলেকট্রনিক স্কোরবোর্ডে স্কোরিং করার। সেখানে ভাল কাজ করার পর গত বছর ডাক পান সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে আইপিএলে। নির্ভুল কাজ করে মন জিতে নেন প্রত্যেকের। ভালো কাজের পুরস্কার হিসেবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ডাক পেয়েছেন। আবু ধাবিতে আসন্ন বিশ্বকাপের ম্যাচগুলিতে ইলেকট্রনিক স্কোরবোর্ডে স্কোরিং করবেন সূর্যকান্ত। তার আগে অসমাপ্ত আইপিএলের ম্যাচ গুলিতেও কাজ করবেন তিনি।

৩১ আগস্ট আবুধাবির উদ্দেশ্যে পাড়ি দিচ্ছেন সূর্যকান্ত। সূর্যকান্ত জানান, "ছোটবেলায় ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হয়নি। মাধ্যমিক পাস করার পর থেকেই দোকানে কাজ করি। একমাত্র ভাগ্নির বিয়ে দিয়েছি। নিজের সংসার করা হয়নি। ক্রিকেটার হতে না পারলেও তারকা ক্রিকেটারদের সঙ্গে দেখা হয়। সব থেকে মজার আমার হাতেই লেখা হয় সমস্ত ক্রিকেটারদের স্কোর। নিজে ক্রিকেট খেললে হয়তো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পৌঁছতে পারতাম না। তবে স্কোরার হওয়ার সুবাদে এখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের রান কিংবা উইকেট মাঠে বসে লিখি। এভাবেই ক্রিকেট মাঠের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত রেখেছি। তবে আর্থিক ভাবে একটু সাহায্য পেলে ভালো হয়। সারাবছর স্কোরিং করিয়ে এক লাখ টাকার বেশি রোজগার হয় না। তাই মুদিখানার দোকানে কাজ করতে হয়। খেলা থাকলে সেদিন মুদিখানার দোকানে যাওয়া হয়না। টাকাও কাটা যায়। ছোটখাটো একটা চাকরি পেলে নিজের কাজে আরো মনোসংযোগ করতে পারি।"

তনয়ের মতো সূর্যও বিসিসিআই স্কোরার হতে চান। তবে মাধ্যমিক পাস যোগ্যতায় সেটা হওয়া সম্ভব কি না জানেন না তিনি। তবে আজীবন এই স্কোরিং কাজে নিজেকে যুক্ত রাখতে চান। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের  কোনও ম্যাচে ইলেকট্রনিক স্কোরবোর্ডে স্কোরিংয়ের দায়িত্ব সামলাতে হবে না সূর্যকান্তর। তবে সেই কারণে কোনো আক্ষেপ নেই। প্রত্যেকটা ম্যাচেই সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখেন সূর্যকান্ত পান্ডা। নিজের মনসংযোগ বাড়াতে রীতিমতো ধ্যান করেন। আসলে ইলেকট্রনিক স্কোরবোর্ডে স্কোরিংয়ে ভুল হলে হাজার হাজার সমর্থকদের কাছে ভুল বার্তা যায়। সূর্যকান্ত কোনও ভুল করতে চান না।

Published by:Debamoy Ghosh
First published: