corona virus btn
corona virus btn
Loading

যোগ্যতা, প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও ছিলেন উপেক্ষিত, মরণোত্তরেও সুটের সঙ্গী অবহেলা

যোগ্যতা, প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও ছিলেন উপেক্ষিত, মরণোত্তরেও সুটের সঙ্গী অবহেলা

উপেক্ষা আর অবহেলা যেন সারাক্ষণের সঙ্গী বাংলার সুটে বন্দ্যোপাধ্যায়ের।

  • Share this:

#কলকাতা: তাঁর নামের পাশে অসামান্য সব কীর্তি। ১১ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে শতরানের বিরল নজির। দুর্ধর্ষ ক্যারিবিয়ানদের বিরুদ্ধে আগুনে বোলিং এ ৫ উইকেট তুলে নেওয়ার কৃতিত্ব। সুটে ব্যানার্জি মানেই প্রতিভার গনগনে আচ। এটা ঠিক, সেই ঝলমলে প্রতিভার যথাযথ মূল্যায়ন হয়নি! ভারতীয় ক্রিকেটে উপেক্ষিত থেকে গেছিলেন লালা অমরনাথ, মুস্তাক আলিদের সতীর্থ বাংলার সুটে বন্দ্যোপাধ্যায়।

ঝকঝকে প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক কেরিয়ারে মাত্র একটি টেস্ট খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন বাংলার কিংবদন্তি ক্রিকেটার। উপেক্ষা আর অবহেলা যেন সারাক্ষণের সঙ্গী বাংলার সুটে বন্দ্যোপাধ্যায়ের। প্রতিভা কিংবা যোগ্যতার মাপকাঠিতে কোনদিনই সঠিক মূল্যায়ন হয়নি তার। তাই তো মরণোত্তর পর্বেও তার মূর্তি অযত্নে দাঁড়িয়ে থাকে উত্তরের দেশবন্ধু পার্কে। ফাইবার গ্লাসে গড়া মূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সুপার সাইক্লোন আমফানের তাণ্ডবে। কিন্তু তার পরেও তো কেটে গিয়েছে এতগুলো দিন। কোভিড পরিস্থিতির মধ্যেই চেনা ছন্দে ফেরার চেষ্টা কলকাতার জনজীবন। রোজের ব্যস্ততা সরিয়ে একটু সময় বার করে প্রশাসন কী প্রাপ্য সম্মানটা ফিরিয়ে দিতে পারে না কিংবদন্তি ক্রিকেটারকে?

দেশবন্ধু পার্কে সুটে বন্দোপাধ্যায়ের মূর্তির চারধারে আগাছা, জঙ্গল। আমফানে ক্ষতিগ্রস্ত মূর্তি। মাথার উপর থেকে উড়ে গেছে আচ্ছাদন। পশু পাখির ছড়ানো নোংরায় মলিন বাইশ গজের মহানায়ক। সুটে বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাতি অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলছিলেন,"কাছেই মোহনবাগান বাই লেনে বাড়ি। যাতায়াতের পথে চোখ পড়ে যায় দাদুর মূর্তির দিকে। বড় কষ্ট হয়। জীবিত কালে যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও প্রাপ্য সম্মানটা পাননি। মৃত্যুর পরেও কী অসম্মানটাই জুটবে? ক্রীড়া দফতর, কলকাতা কর্পোরেশন সংশ্লিষ্ট সবার কাছে বিনীত অনুরোধ যদি প্রাপ্য সম্মান দিতে না পারেন তাহলে দয়া করে অসম্মানটাও করবেন না দাদুকে। সুটে ব্যানার্জির এটা প্রাপ্য নয়।"

সত্যিই তো! ভুল তো কিছু বলছেন না অনির্বাণ! দেশের হয়ে একটি সরকারি টেস্ট ম্যাচ খেলার পাশাপাশি খেলেছেন চারটি বেসরকারি টেস্টে। ১৯৯২-তে উত্তর কলকাতার দেশবন্ধু পার্কে পূর্ণাবয়ব মূর্তি বসানো হয় তাঁর। বোলিং অ্যাকশনের ভঙ্গিতে সেই মূর্তি উন্মোচন করেছিলেন তার সিটি সারওয়াত। উপস্থিত ছিলেন প্রয়াত প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অজিত পাঁজা ও প্রয়াত প্রাক্তন বিসিসিআই সভাপতি জগমোহন ডালমিয়া। ছিলেন বিচারপতি মুকুল গোপাল।

আমফানের পর কেটে গিয়েছে দু'মাস। কোভিড বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠার চেষ্টায় কলকাতা। সুটে বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য নিজেদের ব্যস্ততা সরিয়ে একটু সম্মান দেখাতে পারে না এই শহর? না কী এখানেও উপেক্ষা? এখনও অবহেলা? সেদিনও সুটে বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রাপ্য ছিল না সেটা। আজও নয়! প্লিজ একবার ভেবে দেখবেন!

PARADIP GHOSH

Published by: Siddhartha Sarkar
First published: August 10, 2020, 4:35 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर