#কলকাতা:  প্রোদুনোভা , যে ভল্ট দিতে বিশ্বের তাবড় তাবড় জিমন্যাস্টরাও ভয় পান ৷ তাতে তিনি এক্সপার্ট ৷ ‘মৃত্যুর ভল্ট’ দিতে দু’বার ভাবেন না তিনি ৷ কারণ লক্ষ্য একটাই, সেটা দেশেক অলিম্পিকে পদক এনে দেওয়া ৷ এর জন্য বছরের পর বছর নিজেক তৈরি করেছেন তিনি ৷ তাই লক্ষ্যের এত কাছাকাছি এসে আর খালি হাতে ফিরতে চান না ত্রিপুরার জিমন্যাস্ট কন্যা দীপা কর্মকার ৷ 

আজ ভারতীয় সময় রাত সোয়া এগারোটা নাগাদ অগ্নিপরীক্ষা এই বঙ্গ তনয়ার ৷ রিও অলিম্পিকে এখনও পর্যন্ত ভারতের ঝুলিতে পদক সংখ্যা শূন্য ৷ অনেকে তাই দীপার উপরই শেষ বাজি ধরছেন ৷ কারণ তিনি না পারলে এবার ভারতের পদক পাওয়াটাই এখন প্রশ্নের মুখে ৷ অলিম্পিক শেষ হতে যে আরা মাত্র এক সপ্তাহ বাকি ৷ ভারতের সেরা অ্যাথলিটরা ইতিমধ্যেই বিভিন্ন ইভেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছেন ৷

দশ বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন, যুক্তরাষ্ট্রের সিমোন বাইলসের মতো সর্বকালের অন্যতম সেরা জিমন্যাস্ট বলেছেন, ‘‘প্রদুনোভা! নামটাই তো ভয় ধরানো। ওই ভল্টে শরীরটা এক পাঁজা ইঁটের মতো মাটিতে নেমে আসে। নিয়ন্ত্রণ করা খুব কঠিন।’’ তিনি কখনও চেষ্টা করবেন কি না জানতে চাইলে বাইলসের ঝটপট জবাব, ‘‘আমি মরতে চাই না।’’

সেই ভল্টই বারবার প্র্যাকটিসে দীপার এমন রপ্ত যে আগেই বলেছেন, ‘‘আমার কাছে প্রদুনোভা এখন সবচেয়ে সহজ ভল্ট।’’ রিও-য় এখনও পর্যন্ত দীপাই একমাত্র জিমন্যাস্ট যিনি এই ভল্ট করেছেন। সবচেয়ে বিপজ্জনক বলেই এই ভল্টে পয়েন্টও আসে সবচেয়ে বেশি। তবে ফাইনালে তুরুপের এই তাস আস্তিনে রেখে প্রথম ভল্ট হিসাবে দীপা ও তাঁর কোচ বিশ্বেশ্বর নন্দী বেছেছেন সুকাহারা ৭২০ ডিগ্রি টার্নকে। কঠিন ভল্টের তালিকায় এটিও অন্যতম ৷

একশো দশ কোটির প্রার্থনা আর স্বপ্নপূরণের প্রত্যাশা আজ রিওয় ঘিরে থাকবে দীপাকে। পারবেন, সেই চাপ সামলে সোনা ফলাতে ? উত্তরটা সময় দেবে।