corona virus btn
corona virus btn
Loading

ভালোবাসার "গোয়েন্দা" থেকে বাংলার পরিত্রাতা অনুষ্টুপ

ভালোবাসার
সেঞ্চুরি করে অনুষ্টুপ

কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে কঠিন পরিস্থিতিতে সেঞ্চুরি করে বাংলাকে বাঁচিয়েছিলেন। ওড়িশার বিরুদ্ধেও বাংলা দোলের পরিত্রাতা ছিলেন অনুষ্টুপ।

  • Share this:

ছোটবেলায় ইচ্ছে ছিল গোয়েন্দা হওয়ার। প্রিয় লেখক সত্যজিৎ রায়ের ফেলুদা পড়েই অবসর সময়টা কাটতো। সুযোগ পেলেই প্রদোষ মিত্র সাজতেন অনুষ্টুপ মজুমদার। তবে শেষ পর্যন্ত গোয়েন্দা হওয়া হয়নি। ভাগ্যিস গোয়েন্দা হননি অনুষ্টুপ। তাহলে রঞ্জি সেমিফাইনালে কর্নাটকের বিরুদ্ধে দুরন্ত সেঞ্চুরিটা করা হতো এদিন।

খাদের কিনারা থেকে দলকে এ কার কাছে টেনে তুললেন চন্দননগরের রুকু। ৬৭ রানে ৬ উইকেট থেকে প্রথম দিনের শেষে বাংলা ৯ উইকেটে ২৭৫। অপরাজিত ১২০ অনুষ্টুপ মজুমদারের। টেল এন্ডারদের সঙ্গে জুটিতে বাংলা ক্রিকেট দলকে সারাদিন অক্সিজেন জুগিয়ে গেলেন মরশুমের প্রথম দিকে ব্রাত্য অনুষ্টুপ। প্রসিধ কৃষ্ণা, অভিমন্যু মিঠুন, রনিত মোরেদের বলে যেভাবে ব্যাট করলেন অনুষ্টুপ তা দেখে শিক্ষা নেওয়া উচিত বাংলার টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানদের। দিনের শেষে দলের ব্যাটিং ব্যর্থতার কথা স্বীকার করলেন দিনের নায়ক।

অনুষ্টুপ বলেন, "আমাদের বেশিরভাগ ব্যাটসম্যানই উইকেট গিফট করে দিয়েছে। আরও দায়িত্ব নিয়ে ব্যাট করা উচিত ছিল। তবুও স্কোর একটা ভদ্রস্থ জায়গায় নিয়ে যেতে পেরেছি। দ্বিতীয় দিন সকালটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। বোলারদের ঠিক জায়গায় বল করতে হবে।"

বছর কয়েক আগে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ডাকে রেলের চাকরি ছেড়ে বাংলায় ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন অনুষ্টুপ। সেই সময়ে সিদ্ধান্তটা কঠিন ছিল। তবে স্ত্রীর আশ্বাস আর ক্রিকেটের প্রতি প্যাশন থেকে রেলওয়েশ ছেড়ে বাংলায় ফিরেছিলেন রুকু। শক্তিশালী কর্ণাটকের বিরুদ্ধে সেঞ্চুরির পর সেই দিনগুলো নিয়ে নস্টালজিক অনুষ্টুপ মজুমদার। এদিনের সেঞ্চুরিটাই পরিবারকেই উৎসর্গ করেছেন বাংলা ডানহাতি তারকা ব্যাটসম্যান।

কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে কঠিন পরিস্থিতিতে সেঞ্চুরি করে বাংলাকে বাঁচিয়েছিলেন। ওড়িশার বিরুদ্ধেও বাংলা দোলের পরিত্রাতা ছিলেন অনুষ্টুপ। বাংলার ড্রেসিংরুমে অলিখিত দেয়াল লিখন, যখনই দল বিপদে পড়বে দল বুক চিতিয়ে লড়াই করবেন অনুষ্টুপ। কয়েক বছর পর ছেলের খেলা দেখতে এসেছিলেন অনুষ্টুপ মজুমদারের বাবা প্রদীপ বাবু। দিনের শেষে গাড়িতে ছেলের পাশে বসে ইডেন ছাড়ার আগে প্রদীপ মজুমদারের মুখে চওড়া হাসি আর গলায় আক্ষেপ। কারণ প্রদীপ মজুমদারের মতে, "ছেলে রুকু প্রতিভা অনুযায়ী হয়েতো দাম পায়নি।"

অনুষ্টুপের সাফল্যের দিনে ব্যর্থতার তালিকা অভিষেক রমন, অধিনায়ক ঈশ্বরণ, সুদীপ, মনোজ তিওয়ারিরা। পিচে জুজু না থাকলেও সবুজ উইকেটের আতঙ্কেই আউট হয়ে গেলেন বাংলার ব্যাটসম্যানরা। তবে চাপের মুখে পাল্টা আক্রমণের রাস্তায় হাঁটলেন শাহাবাজ। ব্যক্তিগত 35 রানের মাথায় দিনের সেরা ডেলিভারিতে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান বিরাট সতীর্থ। আউট হওয়ার আগে শব্দ দুটিতে অনুষ্টুপের সঙ্গে যোগাযোগ করেন শাহবাজ। আর বোলার  আকাশদীপকে নিয়ে অষ্টম উইকেটে পার্টনারশিপে ১০৩ রান তোলেন অনুষ্টুপ। ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতার দিনে বোলার আকাশদীপের অবদান গুরুত্বপূর্ণ ৪৪।

অপরাজিত থেকে বাড়ি ফেরার সময় অনুষ্টুপের আফসোস বোলাররা যেভাবে সঙ্গ দিল, মনোজরা সেটা করতে পারলে স্কোরবোর্ড বাংলার হয় আরও কথা বলতো। তবে অনুষ্টুপের লড়াকু ইনিংসের অসৌজন্যতা দেখালেন কে এল রাহুল, মনীষ পান্ডেরা। অনুষ্টুপকে একবারও শুভেচ্ছা জানালেন না কর্ণাটক দলের কোনও ক্রিকেটার। ভারতীয় দলের তারকার থেকে এইটুকু আশা করতেই পারতেন দিনের নায়ক। তবে বাংলা দলের দাবি মানসিকভাবে প্রথম দিন কর্ণাটক পিছিয়ে। ৬৭ রানে ৬ উইকেট তুলে নেওয়ার পরে বর্তমান বাংলার স্কোরবোর্ড কর্নাটকে মানসিক চাপে ফেলেছে।

এদিন খেলার শুরুতে ক্যাচ প্র্যাকটিস করতে গিয়ে কাঁধে চোট পেয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যান বাংলার ওপেনার কৌশিক ঘোষ।

ERON ROY BUMAN

Published by: Arindam Gupta
First published: February 29, 2020, 11:37 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर