corona virus btn
corona virus btn
Loading

'চিন্টুর মতো মানুষ পাওয়াই কঠিন', পুজারার প্রশংসায় স্ত্রী পূজা

'চিন্টুর মতো মানুষ পাওয়াই কঠিন', পুজারার প্রশংসায় স্ত্রী পূজা
স্ত্রী পূজার সঙ্গে পুজারা৷ PHOTO- INSTAGRAM

রাজকোটে বাংলা-সৌরাষ্ট্র রঞ্জি ফাইনাল। হাফ সেঞ্চুরি চেতেশ্বর পুজারার। স্বামী ব্যাটিং মাঠে বসে দেখলেন স্ত্রী পূজা।

  • Share this:

#রাজকোট: 'চিন্টুর কমিটমেন্টে সবচেয়ে ভালো। কাউকে কিছু কথা দিলে সে কথা রাখার সব সময় চেষ্টা করে। বাড়িতেও একজন দায়িত্ববান স্বামী ও পিতার ভূমিকায় সব সময় দেখা গিয়েছে। ওর মানসিক দৃঢ়তা অন্য পর্যায়ে। মানুষ হিসেবে চিন্টুর কোনও তুলনা হয়না।' কথাগুলো এক নাগাড়ে বলে যাচ্ছিলেন পূজা। তিনি আসলে চেতেশ্বর পুজারার স্ত্রী পূজা পুজারা। রাজকোটে বাংলা বনাম সৌরাষ্ট্র ম্যাচের দ্বিতীয় দিনের খেলা দেখতে এসেছিলেন পূজা। দু' বছরের মেয়ে অদিতিকে সঙ্গে করে স্বামী চেতেশ্বর পুজারার জন্য চিয়ার আপ করে গেলেন সারাটা দিন।

রঞ্জি ফাইনালের প্রথম দিন শারীরিক অসুস্থতার কারণে ৫ রানের মাথায় মাঠ থেকে বেরিয়ে যান পুজারা। টিম ম্যানেজমেন্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গলায় সংক্রমণের কারণে জ্বর এসেছিল জাতীয় দলের তারকার। চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে বিশ্রাম করেন বাড়ি ফিরে। কিছুটা সুস্থ হয়ে দ্বিতীয় দিন সকালে ব্যাট হাতে মাঠে নেমে পড়েন পুজারা। তাঁর ধৈর্যশীল ইনিংসে রীতিমতো ক্লান্ত হয়ে পড়েন বাংলার বোলাররা৷ ৬ ঘণ্টা ব্যাট করে সৌরাষ্ট্র ইনিংসের ভিত মজবুত করে দেন তিনি। ২৩৭ বল খেলে পূজারা করেন ৬৬। আধুনিক ক্রিকেটে একেবারে বেমানান হলেও রঞ্জি ফাইনালে দলকে সুবিধেজনক জায়গায় নিয়ে যেতে পুজারার ইনিংসের গুরুত্ব ছিল অপরিসীম৷ শারীরিক দুর্বলতা সত্ত্বেও চিন্টুর কমিটমেন্ট দেখে মুগ্ধ স্ত্রী পূজা।

স্বামীর ব্যাটিংয়ের ভক্ত পুজা বলেন, 'নিউজিল্যান্ডে থাকার সময় সৌরাষ্ট্র ফাইনালে ওঠার খবর পেয়েছিল ও। তখনই ঠিক করে ফেলে যে ঘরের মাঠে ফাইনাল খেলবে। জেট ল্যাগ থাকলেও বিশ্রাম না নিয়ে শহরে ফিরে অনুশীলন করেছে। ও যতটা দেশের হয়ে খেলতে ভালবাসে, ততটাই ভালবাসে সৌরাষ্ট্র দলের হয়ে খেলতে। আসলে ক্রিকেটটাই পুজারার ধ্যান জ্ঞান।'

চেতেশ্বর পুজারা স্ত্রী আরও জানান, "ক্রিকেট ওর কাছে সব হলেও ও বাড়িতে থাকলে কখনওই আমরা ক্রিকেট নিয়ে আলোচনা করি না। চিন্টু তখন অন্য মানুষ। আমাদের সব সময় ভাল রাখার চেষ্টা করে। মেয়ের সঙ্গে সময় পেলেই খেলতে ব্যস্ত হয়ে যায়। আসলে চিন্টুর মতো মানুষ পাওয়া কঠিন৷'

মেয়ে অদিতি বাবার খেলা টিভিতে দেখে? পুজা বলেন, 'সবে মাত্র দু'বছর হলো অদিতির। খেলা খুব একটা বুঝতে পারেনা। তবে টিভিতে বাবাকে দেখতে পেলে সামনে দাঁড়িয়ে পড়ে। আজও যেমন পুজারা হাফ সেঞ্চুরি করার পর মাঠের দর্শকরা যখন হাততালি দিচ্ছিল, অদিতিও দেখতে পেয়ে হাততালি দিতে শুরু করে।'

ভারতীয় দল যখন বিদেশ সফরে যায় তখন বেশিরভাগ সময় স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে যান পুজারা। ক্রিকেটের বাইরে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে ভালবাসেন তিনি। অসুস্থতা নিয়েও রঞ্জি ফাইনালে চেতেশ্বর পুজারার ব্যাটিং দেখে মুগ্ধ ক্রিকেটমহল। তবে স্বামীর ধৈর্যশীল ইনিংস দেখে এতটুকু অবাক হননি স্ত্রী পূজা। তিনি বলেন, 'ব্যাট করতে পারলে চিন্টুর সব শরীর খারাপ ঠিক হয়ে যায়।'

তবে পুজার আক্ষেপ একটাই। স্বামী সেঞ্চুরি মিস করায়। এই নিয়ে তিনটি রঞ্জি ফাইনাল খেলছেন চিন্টু। রাজকোটে এই ম্যাচে করা ৬৬ রানের ইনিংসই রঞ্জি ফাইনালে এখনও পর্যন্ত তাঁর সর্বোচ্চ৷

 
Published by: Debamoy Ghosh
First published: March 11, 2020, 12:07 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर