খেলা

?>
corona virus btn
corona virus btn
Loading

'মোহনবাগান আমার রক্তে', বাগান রত্ন পেয়ে আপ্লুত পলাশ নন্দী

'মোহনবাগান আমার রক্তে', বাগান রত্ন পেয়ে আপ্লুত পলাশ নন্দী
মোহনবাগান রত্ন সম্মান পেলেন পলাশ নন্দী৷

ক্রিকেটার জীবনে একটাই আক্ষেপ পলাশ নন্দীর। ক্রিকেটার হিসেবে রঞ্জি ট্রফি জেতা হয়নি।

  • Share this:

#কলকাতা: পলাশ নন্দীর রক্তেই যেন মোহনবাগান। সবুজ-মেরুন ছাড়া অন্য কোনও রং চেনেন না বাংলার প্রাক্তন ক্রিকেটার তথা রঞ্জি জয়ী কোচ। তাই মোহনবাগান রত্ন পেয়ে আপ্লুত পলাশ। নিজের ক্রিকেট জীবন যেন একটা পূর্ণতা পেল এই সম্মান পেয়ে। মনে করেন বছর সত্তরের পলাশ নন্দী।

বুধবার সকালে ক্লাব তাঁবুতে গিয়ে মোহনবাগান রত্ন সম্মান গ্রহণ করেন তিনি। করোনাকালে এই বছর মোহনবাগান দিবস ভার্চুয়ালি পালন হয়েছে। তবে তার মধ্যেও ক্লাবে যেতে পেরে যেন অক্সিজেন পেয়েছেন পলাশ। মোহনবাগান রত্ন পাওয়ার পরে একান্ত সাক্ষাৎকারে জানালেন তাঁর সমস্ত অনুভূতির কথা।

শ্যামবাজারে আদ্যপ্রান্ত মোহনবাগান বাড়িতে জন্ম পলাশ নন্দীর। কোচ পুলক বিশ্বাসের হাত ধরে ক্রিকেটে হাতেখড়ি। তবে কলকাতা ময়দানে প্রথম বড় ক্লাব ছিল ইস্টবেঙ্গল। মনে মনে ভাবছেন মোহনবাগান ক্লাব থেকে কবে ক্রিকেট খেলার অফার আসবে। ১৯৭৪ সালে মোহনবাগানে ক্রিকেট সচিব হয়ে চিত্রক মিত্র পলাশ নন্দী ও তাঁর ভাই প্রণব নন্দীকে সবুজ-মেরুন জার্সি পরার জন্য অফার দেন।

সুযোগ পেয়ে বাবার সঙ্গে আলোচনা করেই মাত্র ৪ হাজার টাকায় ইস্টবেঙ্গল ছেড়ে মোহনবাগান চলে যান পলাশ নন্দী। তিন বছর চুটিয়ে খেলার পর ক্লাবের ডামাডোল পরিস্থিতি ফের ইস্টবেঙ্গলে ফিরে যান। ফের ১৯৮০-৮১ মরশুমে গঙ্গাপারের ক্লাবে ফিরে আসেন পলাশ। তারপর টানা ১৪ বছর মোহনবাগানে খেলে ১৯৯৪ সালে ক্রিকেটকে বিদায় জানান। মোহনবাগানে ক্রিকেটার থাকাকালীনই বাংলা দলের সহকারী কোচ হিসেবে রঞ্জি ট্রফি জেতেন পলাশ নন্দী।

২০০৯ সালে ফের মোহনবাগানে ফেরেন বাংলার প্রাক্তন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান। তবে এবার কোচের ভূমিকায়। ২০১৭ সাল পর্যন্ত একটানা কোচিং করিয়েছেন মোহনবাগান ক্রিকেট দলে। সিএবি লিগ, নকআউট সহ একাধিক টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন করিয়েছেন দলকে। লক্ষ্মীরতন শুক্লা, ঋদ্ধিমান সাহা, মহম্মদ শামির মতো একাধিক ভারতীয় দলের ক্রিকেটার মোহনবাগান জার্সিতে পলাশ নন্দী কোচিংয়ে খেলেছেন। তবে ২০১৭ সালে ক্লাবের সঙ্গে মতবিরোধে নিঃশব্দে মাঝ মরশুমে কোচিং ছেড়ে দেন পলাশ নন্দী। অভিমানে ময়দান থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন।

তবে ক্রিকেট ছেড়ে বেশিদিন থাকতে পারেননি পলাশ। সিএবি প্রেসিডেন্ট সৌরভের ডাকে বাংলার প্রধান নির্বাচক হন। শেষ মরশুমে বাংলা দল রঞ্জিতে রানার্স হয়। আগামী সেপ্টেম্বরে নির্বাচক প্রধান হিসেবে দায়িত্ব শেষ করছেন পলাশ নন্দী। তারপরও ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত থাকতে চান সত্তরের বছরের এই 'যুবক'।

ক্রিকেটার জীবনে একটাই আক্ষেপ পলাশ নন্দীর। ক্রিকেটার হিসেবে রঞ্জি ট্রফি জেতা হয়নি। ১৯৭১ সালে চুনী গোস্বামীর নেতৃত্বে রঞ্জি ফাইনাল খেলা বাংলা দলের স্কোয়াডে ছিলেন তিনি। ফাইনালে সুযোগ পাননি। বোম্বের কাছে হেরে সেই বছর রানার্স হয়েছিল বাংলা। জাতীয় দলে সুযোগ না পেলেও ১৯৭৬ সালে ইরানি ট্রফিতে রেস্ট অফ ইন্ডিয়ায় হয়ে খেলেন পলাশ নন্দী। আনন্দে চোখ ভিজে আসা পলাশ নন্দী জানান, "মোহনবাগান ক্লাবের হয়ে খেলাটা ছিল স্বপ্ন। কোচিং করানোটা ছিল প্রাপ্তি। আর বাগান রত্ন সম্মান পেয়ে আমি ভাষাহীন। ক্রিকেটার হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার পরেও মাঠে বসে ফুটবল দেখতাম। মোহনবাগান হারলে খাওয়া-দাওয়া বন্ধ হয়ে যেত বাড়িতে। সঞ্জয় সেনের কোচিংয়ে যেবার মোহনবাগান আই লিগ জিতল। সেই বছর সবুজ-মেরুণ আলোতে বাড়ি সাজিয়েছিলাম। তাই মোহনবাগান আমার কাছে কী সেটা আর আলাদা করে মুখে বলতে পারবো না। আমার রক্তে সবুজ-মেরুন। সিএবি লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্টের পাশাপাশি মোহনবাগান রত্ন সম্মান একই আসনে রাখব। এদিকে পলাশ নন্দী ছাড়াও মোহনবাগান রত্ন পেয়েছেন অলিম্পিয়ান গুরবক্স সিং।'

Eron Roy Burman

Published by: Debamoy Ghosh
First published: July 29, 2020, 11:31 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर