বাঁশের ব্যাটে জল ঢেলে দিল MCC! ইংলিশ আর কাশ্মীরি উইলো-ই থাকছে ক্রিকেটে

বাঁশের ব্যাটের আবিষ্কারকরা জানিয়েছেন, উইলো ব্যাটের চেয়ে বাঁশের ব্যাটে স্ট্রোক বেশি।

বাঁশের ব্যাটের আবিষ্কারকরা জানিয়েছেন, উইলো ব্যাটের চেয়ে বাঁশের ব্যাটে স্ট্রোক বেশি।

  • Share this:

    #লন্ডন:

    কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী ডা. দর্শিল শাহ (Dr Darshil Shah) ও বেন টিঙ্কলার ডেভিসের (Ben Tinkler-Davies) মস্তিষ্কপ্রসূত ভাবনায় জল ঢেলে দিল এমসিসি (Marylebone Cricket Club)। অর্থাত্, বাঁশের তৈরি ব্যাট হাতে ২২ গজে নামছেন না ব্যাটসম্যানরা। পরম্পরা মেনে ক্রিকেটে ইংলিশ ও কাশ্মীরি উইলো কাঠের তৈরি ব্যাটই থাকছে। দুই বিজ্ঞানী জানিয়েছিলেন, ল্যামিনেটেড বাঁশের তৈরি ব্যাট বর্তমানে চালু উইলো কাঠের তৈরি ব্যাটের থেকে বেশি মজবুত, দামে সস্তা এবং পরিবেশবান্ধব হবে। তবে বাঁশের তৈরি ব্যাটের ওজন একটু বেশি হত। ব্যাটের ওজন হালকা করার জন্যও দুই বিজ্ঞানী গবেষণা করছিলেন। কিন্তু তাঁদের যাবতীয় গবেষণায় জল ঢেলে দিল এমসিসি।

    এমসিসির তরফে জানানো হয়েছে, ক্রিকেটের নিয়ম মেনে বাঁশের ব্যাট ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া যাবে না। কারণ, ক্রিকেটের নিয়ম অনুযায়ী, খেলায় শুধুমাত্র কাঠের ব্যাটই ব্যবহার করা যাবে। যদিও এমসিসির তরফে বাঁশের ব্যাট তৈরির ভাবনার প্রশংসা করা হয়েছে। এমসিসি ক্রিকেটের বেশ কিছু নিয়মের আগেও রদবদল করেছে। সেক্ষেত্রে জানানো হয়েছে, ব্যাট ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিয়মের বদল ঘটলে নতুন করে ভাবা যাবে। তখন বাঁশের ব্যাট ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। তবে আপাতত বাঁশের ব্যাট ব্যবহারের অনুমতি দেবে না এমসিসি। বিশ্ব ক্রিকেটের বিভিন্ন মহল কিন্তু বাঁশের ব্যাটের প্রতি কৌতুহল প্রকাশ করেছে। কারণ বাঁশের ব্যাটের আবিষ্কারকরা জানিয়েছেন, উইলো ব্যাটের চেয়ে বাঁশের ব্যাটে স্ট্রোক বেশি। বাঁশের ব্যাটের মাধ্যমে ইয়র্কার বলে চার মারাটাও সহজ হবে বলে দাবি করেছেন দুই বিজ্ঞানী।

    ক্রিকেট ব্যাট বানানোর জন্য বর্তমানে সালিক্স আলবা গাছের কাঠ ব্যবহার করা হয়। কিন্তু সেই গাছের সংখ্যা এখন আগের থেকে অনেক কমে আসছে। তাছাড়া সালিক্স আলবা গাছ পূর্ণবয়স্ক হতে প্রায় ১৫ বছর সময় লাগে। তার পর সেই গাছ থেকে কাঠ উত্পাদনের কাঠ পাওয়া যায়। এছাড়া ব্যাট তৈরির সময় ১৫ থেকে ২৫ শতাংশ উইলো কাঠ নষ্ট হয়। কাঁচামালের জোগানে ঘাটতি মেটাতে বাঁশ বিকল্প হয়ে উঠতে পারে। বাঁশ সহজলভ্য। আবার বাঁশ থেকে ব্যাট তৈরির খরচও কম। বাঁশের জোগান বেশি। তার উপর বাঁশ খুব দ্রুত বড়ও হয়। ফলে ব্যাট উত্পাদনে কাঁচামালের অভাব হওয়ার কথা নয়। কিন্তু আপাতত এমসিসির রায়ে সব সম্ভাবনাই বিশ বাঁও জলে।

    Published by:Suman Majumder
    First published: