মহিলা ক্রিকেটারদের প্রাপ্য টাকা এখনও মেটায়নি বিসিসিআই

হরমন, শেফালিদের পাওনা আটকে রেখেছে বোর্ড

পুরুষ ক্রিকেট যে পরিমাণ রেভিনিউ এনে দেয়, সেটা সম্ভব নয় মহিলা ক্রিকেটে। আর এই পার্থক্যটা যতদিন বজায় থাকবে, ততদিন বোধহয় বৈষম্য ব্যাপারটা মেনে নেওয়া ছাড়া উপায় নেই। এটাই নিয়ম

  • Share this:

    #মুম্বই: নতুন কোনও গল্প নয়। এই গল্প বহু পুরনো। ভারতীয় ক্রিকেট দলে পুরুষরা যে পরিমাণ অর্থ পান, তার ধারেকাছেও পান না মহিলারা। তেমনই পুরুষ ক্রিকেট যে পরিমাণ রেভিনিউ এনে দেয়, সেটা সম্ভব নয় মহিলা ক্রিকেটে। আর এই পার্থক্যটা যতদিন বজায় থাকবে, ততদিন বোধহয় বৈষম্য ব্যাপারটা মেনে নেওয়া ছাড়া উপায় নেই। এটাই নিয়ম। গত বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে রানার্স হয়েছিল ভারতের মহিলা ক্রিকেট দল। সেই প্রতিযোগিতার মূল্য চলতি সপ্তাহেই দিয়ে দেওয়া হবে ক্রিকেটারদের। সংবাদ সংস্থাকে এমনই জানিয়েছে বোর্ডের একটি সূত্র।

    পুরস্কারমূল্যের ৫ লক্ষ ডলার সমান ভাবে ভাগ করে দেওয়া হবে ক্রিকেটারদের মধ্যে। রবিবার ইংল্যান্ডের এক দৈনিকের প্রতিবেদনে হঠাৎই প্রশ্ন উঠেছিল। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, অনেকদিন আগে পুরস্কারমূল্য পেলেও তা নাকি আটকে রেখেছে বিসিসিআই। ইংল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়া প্রতিযোগিতা শেষ হওয়ার পরেই ক্রিকেটারদের টাকা দিয়ে দিলেও ভারতীয় বোর্ড তা করেনি। সেই দাবি উড়িয়ে দিয়েছেন বোর্ডের এক কর্তা। জানিয়েছেন, গত বছরের শেষ দিকে তাঁরা টাকা পেয়েছেন আইসিসি-র থেকে। বলেছেন, “এই সপ্তাহের শেষের মধ্যেই মহিলা ক্রিকেট দলের সদস্যরা তাঁদের টাকা পেয়ে যাবেন। টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে।”

    গত বছরের শেষে টাকা পেলেও এতদিন দেরি হল কেন পাঠাতে? বোর্ড কর্তা জানালেন, অতিমারির কারণে মুম্বইয়ে বোর্ডের দপ্তর বন্ধ ছিল দীর্ঘদিন। ফলে সব ধরণের কাজই আটকে গিয়েছে। তাঁর কথায়, “শুধু মহিলাদের টাকা নয়। পুরুষ ক্রিকেটারদের কেন্দ্রীয় চুক্তি, আন্তর্জাতিক ম্যাচের ফি, ঘরোয়া ক্রিকেটারদের টাকা সবই পাঠাতে একটু সময় লাগছে।” সব ঠিক আছে। হয়তো টাকা পেয়ে যাবেন মহিলা ক্রিকেটাররা। কিন্তু পুরুষ ক্রিকেট দলের সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটছে কেউ ভাবতে পারেন ? আসলে লকডাউন অজুহাত। পুরুষ ক্রিকেট নিয়ে সকলের যতটা ভাবিত, তার এক কণাও ভাবিত নয় মহিলা ক্রিকেটারদের নিয়ে।

    আইপিএল খেলতে আসা বিদেশি ক্রিকেটারদের টাকা খরচ করে চার্টার্ড বিমান ভাড়া করে দেশে ফেরত পাঠানো যায়, নিভৃতবাস পর্ব কাটানোর খরচ বহন করা যায়, অথচ মহিলা ক্রিকেটারদের প্রাপ্য টাকা মেটানো যায় না। টাকার কথা নয় বাদ দেওয়া গেল। কয়েকদিন আগেও বেদা কৃষ্ণমূর্তির মা এবং বোন মারা যাওয়ার পর খোঁজ নেওয়ার প্রয়োজন বোধ করেনি বিসিসিআই। পরে লজ্জা ঢাকতে, চক্ষু লজ্জার ভয়ে বেদাকে ফোন করেছিলেন সচিব জয় শাহ।তাই এটাই ভবিতব্য।

    Published by:Rohan Chowdhury
    First published: