সানাই নয়, বাজল মোহনবাগানের থিম সং,সবুজ-মেরুনের প্রেমে বিয়ে করলেন যুগল

সানাই নয়, বাজল মোহনবাগানের থিম সং,সবুজ-মেরুনের প্রেমে বিয়ে করলেন যুগল

‘মোহনবাগানের মেয়ে’-র রিয়েল লাইফ কানেকশন। বিয়ের কার্ড থেকে বাসর। সবুজ-মেরুনে ভাসল নবদম্পতি। প্রেম থেকে পরিণয় ধরা রইল সবুজ-মেরুন ডোর?

  • Share this:

#সিঙ্গুর: ‘মোহনবাগানের মেয়ে’ মনে পড়ে? সত্তরের দশকের দমফাটা সেই হাসির ছবি। ঘটি-বাঙালের মাঠের লড়াই নিয়ে টানটান পারিবারিক বাংলা সিনেমা। ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়, উৎপল দত্ত, দীপঙ্কর দে, রবি ঘোষ, চিন্ময় রায়, তরুণকুমার অভিনীত ‘মোহনবাগানের মেয়ে’। এও যেন সেই সিনেমারই রিয়েল লাইফ কানেকশন। এঁদের জীবনের থিমসঙ এখন ‘আমাদের স্বপ্ন মেরুণ, নাড়ির যোগ সবুজ ঘাসে’ এই কথা মেনে এক স্বপ্ন দেখে এক জীবন ভালোবেসে এগিয়ে চলার গান গাইছেন দুটি নতুন জীবন৷ যাঁরা একে অপরকে ভালোবেসে , নিজেদের ক্লাবকে ভালোবেসে জীবনের বড় ময়দানে খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন একই দলের হয়ে ৷

মোহনবাগান অন্ত প্রাণ সিঙ্গুরের ছেলে জয়। প্রায় দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে মাঠে যান। শহরে হোক বা শহর থেকে দূরে প্রিয় ক্লাবের খেলা থাকলে বান্ধবীকে বাইকে বসিয়ে মাঠে যাবেনই।পণ ছিল, বিয়েটাও করবেন মোহনবাগানেরই মেয়েকে। পাত্রীর খোঁজে নেমে পরিচয় আইটিআই-এর ছাত্রী গঙ্গাধরপুরের মানালির সঙ্গে। জয়ের মতোই মোহনবাগান অন্ধভক্ত মানালিও। মোহনবাগান গ্যালারির সুপারহিট জুটি জয়-মানালি।

Photo Courtesy- Facebook Photo Courtesy- Facebook

ব্যারেটো, ওডাফা থেকে সোনি, বেইতিয়া। মাঠে সবুজ-মেরুন ম্যাজিকের ঝিকিমিকি। আর গ্যালারিতে  জয়-মানালির ঝলমলে সেলিব্রেশন। সময়ের সঙ্গেই কখন যেন সবুজ-মেরুনের সঙ্গে মিলে-মিশে একাকার হয়ে গিয়েছে ওদের প্রেম-ভালবাসা। মোহনবাগান জিতলে আউটট্রাম ঘাটে আইসক্রিম, ফুচকায় দেদার আনন্দ। আর ক্লাব হারলে কারণ ছাড়াই ঝগড়া, কথা বন্ধ প্রেমিক যুগলের। এইভাবেই বেশ চলছিল।

আরও পড়ুন - #IndvsBan: জয়ের ধারা অব্যহত, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ১৮ রানে জিতল হরমনপ্রীত এন্ড কোং

টোয়েন্টি টোয়েন্টির ফেব্রুয়ারিতে এসে পরিণতি পেল জয়-মানালির ‘সবুজ-মেরুন’ ভালবাসা। সবুজ-মেরুনের ডোরে বাঁধা ছিল যে প্রেম, তার পরিণতিও মোড়া রইল প্রিয় ক্লাবের জার্সির রংয়ে। বিয়ের কার্ড থেকে বৌভাত। বরযাত্রী, কনেযাত্রী থেকে আমন্ত্রিত অতিথি। দাপিয়ে বেড়াল সবুজ-মেরুন। সবুজ-মেরুন আলোয় বাসর সাজানো থেকে নিমন্ত্রণের মেনু। সবেতেই সেই মোহনবাগানের জোরালো উপস্থিতি। সানাইয়ের বদলে বিয়ের অনুষ্ঠানে বাজল ক্লাবের থিম সঙ। মোহনবাগান অন্তপ্রাণ জয় হাইত বলছিলেন,‘‘উপায় থাকলে বিয়ের মন্ত্রটাও বদলে দিতাম। তবে পুরোহিতকে বলে বিয়ের মন্ত্রে জুড়ে দেওয়া হয়েছিল ‘জয় মোহনবাগান’ স্লোগান।’’ শতাব্দী পেরিয়ে ভারতীয় ফুটবলের ঐতিহ্য বয়ে বেড়াচ্ছে মোহনবাগান। পাল তোলা নৌকার মতোই রোজের জীবনে প্রেম-ভালোবাসার জোয়ারে ভাসতে ভাসতেই এগিয়ে চলুক জয়-মানালির দাম্পত্য সংসার। নবদম্পতির নতুন জীবনে শুভেচ্ছা রইল আমাদেরও।

PARADIP GHOSH

First published: February 24, 2020, 8:06 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर