খেলা

?>
corona virus btn
corona virus btn
Loading

বেইতিয়া জাদুতে ডার্বির রং সবুজ-মেরুন, বাগান ফুটবলারদের রাখার আশ্বাস মুগ্ধ গোয়েঙ্কার

বেইতিয়া জাদুতে ডার্বির রং সবুজ-মেরুন, বাগান ফুটবলারদের রাখার আশ্বাস মুগ্ধ গোয়েঙ্কার

নাওরেম, বেইতিয়ায় নাস্তানাবুদ লাল-হলুদ। চব্বিশ মাস বাদে ডার্বি জয় মোহনবাগানের। বাগান ফুটবলারদের রাখার আশ্বাস মুগ্ধ গোয়েঙ্কার।

  • Share this:

#কলকাতা: ম্যাচ শেষে যুবভারতীর টানেল দিয়ে বেরিয়ে আসছিল বিধ্বস্ত চেহারাগুলো। কোচ আলেজান্দ্রো থেকে স্প্যানিয়ার্ড কোলাডো, ক্রেসপি মার্তিরা। আই লিগ অধরা ছিল। আলেজান্দ্রো জনতার কাছে অমাবস্যার চাঁদ ছিল এই ডার্বিটুকুই। বছর শুরুতে সেখানেও ধাক্কা। আর মোহনবাগান?ম্যাচ শেষের ঘন্টাখানেক বাদেও যুবভারতীতে অকাল দেওয়ালি। জায়গায় জায়গায় বাগান সমর্থকদের থোকা থোকা ভিড়। বেইতিয়া, মোরান্তেদের গাড়ি ঘিরে বাঁধনছাড়া উচ্ছ্বাস।

এক, দুই নয়। সময়ের নিরিখে চব্বিশ মাসের ব্যবধানে ডার্বিতে জয় এল বাগানে। দ্বিতীয়ার্ধের একটা স্পেল ছাড়া বছর শুরুর বড় ম্যাচে বাগানেরই বাড়বাড়ন্ত। ম্যাচের শুরুর দিকটা দুই তরফেই প্রতিপক্ষকে মেপে নেওয়ার সাবধানী খেলা। আর তারপরেই মাঝমাঠের রাশ নাওরেম, বেইতিয়াদের দখলে। পিন্টু মাহাত, লালরিনডিকাদের তখন হিমশিম অবস্থা। কমলপ্রীত, ক্রেসপিদের নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা করছেন নাওরেম ও বেইতিয়া। ভিকুনার দলের ইন্দো-স্প্যানিশ জুটির ঝাঁঝেই আলেজান্দ্রোর ক্লোজডোর স্ট্র্যাটেজির দফারফা। মাঝমাঠে বাকি কাজটুকু করে দিচ্ছেন শেখ সাহিল। অন্য দিনের তুলনায় নিষ্প্রভ থাকলেও দৌড়ঝাঁপে খামতি ছিল না বাগানের আরেক স্প্যানিয়ার্ড গনজালেজের।

এরইমধ্যে বেইতিয়ার গোলে স্কোরলাইন মোহনবাগান ১, ইস্টবেঙ্গল ০। লাল-হলুদের ভরসা বলতে তখন ডিকার টুকটাক সেটপিস। দ্বিতীয়ার্ধে পাপা বাবাকরের গোলে ব্যবধান বেড়ে ২-০। সবুজ-মেরুন গ্যালারি তখন স্বপ্নে বুঁদ। এরইমধ্যে পরিবর্ত এডমুন্ডের থ্রু থকে মার্কোসের গোলে স্কোরলাইন মোহনবাগান ২, ইস্টবেঙ্গল ১।কিবুর দলে এই এক সমস্যা। ম্যাচ গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ক্লান্তিতে দাঁড়িয়ে পড়ছে দলটা। এই সুযোগটাই নিলেন আলেজান্দ্রো। ঝাঁঝ বাড়ালেন আক্রমণে। বছর শুরুর ডার্বিতে এই সময়টুকুই যা ইস্টবেঙ্গলকে ইস্টবেঙ্গল লাগল। এই সময়ে যা সুযোগ পেয়েছিলেন মার্কোস, কাশিম, মেহতাব সিংরা। কাজে লাগাতে পারলে চাপে পড়তে পারত এগিয়ে থাকা মোহনবাগান।ইস্টবেঙ্গলের ডিফেন্স থেকে আপফ্রন্ট সবেতেই এবার কোয়ালিটি ফুটবলারের খামতি। কোলাডো এবার আগের মরশুমের স্রেফ ছায়া।

বড় কোনও অঘটন না ঘটলে শতবর্ষেও আই লিগ অধরাই লাল-হলুদে। বরং আশায় বুক বাঁধতে পারেন বাগান সমর্থকরা। কিবুর ছেলেরা ফর্ম ধরে রাখতে পারলে দুই মরশুমের ব্যবধানে আই লিগ ফিরতে পারে গঙ্গাপাড়ের ক্লাবে। উনিশের যুবভারতী উস্কে দিয়ে গেল বাগানের সেই আশটুকুই। আসলে সাফল্য আনতে মাঠের ভেতরের সঙ্গে বাইরের সমন্বয়টা খুব জরুরী। কোয়েসের জমানায় সেখানেই টাল খাচ্ছে ইস্টবেঙ্গল। বিদেশি কোটায় পরিবর্ত জরুরি জেনেও আলেজান্দ্রোর গোয়ার্তুমিতে আই লিগে মশাল নিভু নিভু।

ম্যাচ শেষে আক্ষেপ ঝরে পড়ছিল ইস্টবেঙ্গল শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকারের গলায়, ‘‘ মঙ্গলবার কোয়েস কর্তা সুব্রত নাগ এলে জানাব। এই বিদেশি নিয়ে চললে আরও হার অপেক্ষা করে আছে। বদলি চাই-ই-চাই।’’

4122_5e2487809a16c_f2aa3077-7ff1-466f-8e66-93d53576c3d0

মউ সইয়ের পর যুবভারতী এসেই বাগানের জয় দেখে উচ্ছ্বসিত এটিকে কর্ণধার সঞ্জীব গোয়েঙ্কা ও উৎসব পারেখ। যুবভারতীর টানেলে দাঁড়িয়ে গোয়েঙ্কার ঘোষণা,‘‘মোহনবাগানের এই দলের সিংহভাগ ফুটবলারকেই পরের মরশুমে এটিকে-মোহনবাগানে রাখার ইচ্ছে।’’ বাগানের হবু সচিব সৃঞ্জয় বোস ও অর্থসচিব দেবাশিস দত্ত আবার পুরো কৃতিত্বটাই দিচ্ছিলেন ফুটবলারদের।বরং ডার্বি হারের পরেও আলেজান্দ্রোর বডি ল্যাঙ্গোয়েজে অবাক ক্রীড়ামহল। সাংবাদিক সম্মেলনে এসে আলেজান্দ্রো সবাইকে চমকে দিয়েই বলেন,‘‘গত দেড় দশকে না কী তাঁর এই দল সেরা।’’

স্প্যানিশ কোচের কথায় চোঁট টিপে মুচকি হাসি শুরু হয়ে গেছে লাল-হলুদের অন্দরেও। বাগান কোচ কিবু বরং অনেক বেশি বাস্তববাদী, খোলামেলা। দলের ডার্বি জয়ে খুশি হলেও মেনে নিলেন ,‘‘চ্যাম্পিয়ন হতে গেলে পারফর্ম্যান্সে আরও উন্নতি দরকার।’’ ডার্বি জিতেও কিবুর পা মাটিতেই। পরের মরশুমে তাঁর চাকরি নিয়ে বাগানকর্তাদের আশ্বাসবাণী না থাক, দিনের শেষে সবুজ-মেরুন জনতার মন ছুঁয়ে গেছেন কিবু ভিকুনা-ই।

PARADIP GHOSH

Published by: Siddhartha Sarkar
First published: January 19, 2020, 10:49 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर