একান্ত আড্ডায় ‘আশিয়ানের ইঞ্জিন’ ডগলাস

একান্ত আড্ডায় ‘আশিয়ানের ইঞ্জিন’ ডগলাস
  • Share this:

Paradip Ghosh

#কলকাতা: নীতুদার সঙ্গে দেখা করে বলেছেন দু’তিন মিনিট হলেও তিনি খেলতে চান। আরও একবার হলেও ইস্টবেঙ্গল জার্সিটা গায়ে চড়িয়ে মাঠে নামতে চান তিনি। বলছেন এরপর মৃত্যু হলেও আক্ষেপ নেই। কিন্তু তার আগে একবার ইস্টবেঙ্গলের জার্সি গায়ে পরতেই হবে৷ তিনি হতে পারেন পারেন ব্রাজিলীয়। কিন্তু লাল-হলুদের সঙ্গে সম্পর্কটা অমোঘ। তাই তো অবলীলায় বলে দিতে পারেন কথাগুলো। তাই তো ইস্টবেঙ্গল ছাড়ার পরেও ডগলাসের গায়ে সেই লাল-হলুদ।

আই লিগে নবাগত ট্রাউ এফসি-র কোচ হয়ে এবার শহরে আসা। মণিপুরের ক্লাবের কোচ হতে পারেন কিন্তু লাল-হলুদকে ভুলবেন কী করে? নিউজ18-র সঙ্গে আড্ডা জুড়ে শুধুই ইস্টবেঙ্গল আর ইস্টবেঙ্গল। মুসা-ওকোরো থেকে হালফিলের কোলাডো-আলেজান্দ্রোর ইস্টবেঙ্গল। অনর্গল আশিয়ানের ইনজিন। তিনি লাল-হলুদ জার্সি ছাড়া ইস্তক আই লিগ ঢোকেনি ক্লাবে। রাগ না দুঃখ, ধরা গেল না। বিড়বিড় করছিলেন ব্রাজিলিয়। ‘‘এখনকার ফুটবলারদের সেই আবেগ নেই। ক্লাবের পরিকাঠামো বদলেছে। ভারতীয় ফুটবলে এখন টাকা উড়ছে। কিন্তু জেতার জন্য সেই তাগিদটাই তো নেই।’’ প্রিয় দলের খেলা দেখতে বুধবার কল্যাণী ছুটে গিয়েছিলেন ডগলাস। ব্রাজিলিয়র মন মজেছে কোলাডোয়। আলেজান্দ্রোর কোচিংয়েরও প্রশংসা আশিয়ানজয়ী ফুটবলারের গলায়।

বৃহস্পতিবার অবশ্য সকাল থেকেই মনটা খারাপ। বারবার চোখ বোলাচ্ছিলেন মোবাইলের স্ক্রিনে। পনেরো বছর আগে এই দিনটাতেই তো হারিয়েছিলেন বন্ধু ক্রিশ্চিয়ানো জুনিয়রকে। সকালে ইস্টবেঙ্গল তাঁবুতে গিয়ে জুনিয়রের ছবির সামনে দাঁড়িয়ে প্রার্থনা করে এসেছেন। জুনিয়র প্রসঙ্গ উঠছতেই গলা ভারি হয়ে যায় ডগলাসের। প্রসঙ্গ ঘুরিয়ে লাল-হলুদে ঢুকতেই আবারও চনমনে ডগলাস। বলে ফেললেন,‘‘ইস্টবেঙ্গলে কোচিং তো স্বপ্ন। জানেন তো আমি খুব জেদি। একদিন লাল-হলুদে কোচিং করাবই। মিলিয়ে নেবেন।’’ কিন্তু শুধু লাল-হলুদ কেন? ইস্টবেঙ্গলের পাশে মোহনবাগান, মহমেডান জার্সিতেও তো সাফল্য এসেছে সমান। ঠোঁটের কোণে চিলতে হাসি ডগলাসের। ছোট্ট উত্তর,‘‘ওই যে বললাম মরার আগে একবার ইস্টবেঙ্গল জার্সিটা পড়তে চাই। তারপর মরলেও কষ্ট নেই। পার্থক্যটা বুঝলেন তো?’’ বুঝলাম ঘাটিয়ে লাভ নেই। ইনজিন এখনও লাল-হলুদেরই।

First published: 09:11:56 PM Dec 05, 2019
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर