• Home
  • »
  • News
  • »
  • sports
  • »
  • জাতীয় দলের হয়ে সাফল্যেই এগিয়ে মারাদোনা, স্বীকার করেন মেসি ভক্তরাও

জাতীয় দলের হয়ে সাফল্যেই এগিয়ে মারাদোনা, স্বীকার করেন মেসি ভক্তরাও

Photo-File

Photo-File

আর্জেন্টিনা দলের প্রাক্তন ম্যানেজার সিজার লুইস মেনোত্তিও অতীতে একটি সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, 'সব সময় নিজের দলের রাশ হাতে নিয়ে নিত মারাদোনা৷'

  • Share this:

    #বুয়েনস আয়ার্স: মেসি না মারাদোনা, একই দেশের দুই ভিন্ন সময়ের ফুটবল কিংবদন্তির মধ্যে কে সেরা? এই বিতর্কে বার বার জড়িয়েছেন ফুটবল ভক্তরা৷ ক্লাব ফুটবলের পরিসংখ্যান দেখলে খাতায় কলমে হয়তো মারাদোনাকে অনেকটা পিছনে ফেলে দেবেন এই প্রজন্মের লিওনেল মেসি৷ কিন্তু আর্জেন্টিনার জার্সিতে দিয়েগো মারাদোনার অবদান মেসি ভক্তরাও অস্বীকার করতে পারেন না৷ চারটে বিশ্বকাপ খেলেও যে মহার্ঘ ট্রফি মেসির এখনও অধরা, কার্যত একক কৃতিত্বে আর্জেন্টিনাকে সেই বিশ্বকাপ এনে দিয়েছিলেন দিয়েগো৷

    ফুটবল বিশেষজ্ঞরা কার্যত নির্দ্ধিধায় স্বীকার করে নেন, গড়পড়তা দল নিয়েই ১৯৮৬ সালে মেক্সিকোয় বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছিল আর্জেন্টিনা৷ কিন্তু তফাত গড়ে দিয়েছিলেন মারাদোনাই৷ দেশকে জিতিয়েছিলেন বহু প্রতীক্ষিত বিশ্বকাপ৷ হাত দিয়ে করা গোলের বিতর্ক ভুলিয়ে দিতে নিয়েছিলেন মিনিট পাঁচেক৷ কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেই ম্যাচে পাঁচজনকে কাটিয়ে করা তাঁর অবিশ্বাস্য গোলকেই শতাব্দীর সেরা বলে স্বীকৃতি দিয়েছিল ফিফা৷

    সেই বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার করা ১৪টি গোলের মধ্যে দশটি গোলে অবদান ছিল মারাদোনার৷ হয় তিনি নিজে গোল করেছিলেন, নয়তো সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছিলেন৷

    চার বছর পর ফের আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুলেছিলেন মারাদোনা৷ বিশ্বকাপ থেকে নিষিদ্ধ ড্রাগ নেওয়ার অভিযোগে নির্বাসিত হওয়ার কলঙ্ক গায়ে মেখেও ফুটবল প্রেমীদের মনে মণিকোঠায় জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি৷ ক্লাব ফুটবলে মেসির তুলনায় মারাদোনার সাফল্য় হয়তো অনেকটা সাদামাঠা৷ তবে ক্লাব ফুটবলের ক্ষেত্রেও বরাবরই যেন দুর্বল দলকে সেরার সেরা করার চ্যালেঞ্জ নিতে ভালবাসতেন ফুটবলের ঈশ্বর৷ তাই ইতালির তুলনামূলক ছোট ক্লাব নেপোলিকে সাফল্য এনে দেওয়ার চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলেন তিনি৷ সফলও হয়েছিলেন৷ ১৯৮৬-৮৭ এবং ১৯৮৯-৯০- দু' বার নেপোলিকে ইতালি সেরা করেছিলেন মারাদোনা৷ মেসির নিন্দুকরা বলেন, ক্লাব ফুটবলে বার্সেলোনায় নিজের প্রজন্মের অন্যতম সেরাদের পাশে নিয়েই যাবতীয় সাফল্য পেয়েছেন মেসি৷ কিন্তু মারাদোনার সেই বিলাসিতা ছিল না৷ আর জাতীয় দলের হয়ে মেসির ব্যর্থতা এখন ফুটবল প্রেমীদের কাছেও রহস্যের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ ২০১৪ সালে ব্রাজিল বিশ্বকাপে ফাইনালে উঠেও লজ্জার হারের সাক্ষী থাকতে হয়েছিল মেসিকে৷ বিশ্বকাপ দূরে থাক, কোপা আমেরিকার মতো ট্রফি এখনও দেশকে এনে দিতে ব্যর্থ তিনি৷

    আর্জেন্টিনা দলের প্রাক্তন ম্যানেজার সিজার লুইস মেনোত্তিও অতীতে একটি সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, 'সব সময় নিজের দলের রাশ হাতে নিয়ে নিত মারাদোনা৷' সেই কারণেই হয়তো গড়পড়তা বা ছোট দলের খেলোয়াড়দেরও উদ্বুদ্ধ করতে পারতেন ফুটবলের ঈশ্বর৷ ফুটবল মাঠ থেকে কলঙ্কের দাগ মেখে বিদায়, বদরাগী মেজাজ, মাঠের বাইরে বিতর্কিত জীবনযাপন, কোচিং জীবনে ব্য়র্থতা- এসমস্ত কিছু সত্ত্বেও বোধহয় সবার থেকে আলাদা ছিলেন দিয়েগো আর্মান্দো মারাদোনা৷ তাঁর আকস্মিক প্রয়াণে কাঁদছে গোটা ফুটবল বিশ্ব৷

    Published by:Debamoy Ghosh
    First published: