Farooq Engineer: 'আগে ছিলাম ব্লাডি ইন্ডিয়ান, আইপিএল শুরুর পর ইংরেজরা আমাদের জুতো চাটে'

ব্রিটিশদের কাছে ভারতীয়রা এখন ভাল। কারণ জানালেন ফারুক ইঞ্জিনিয়ার।

ব্রিটিশদের কাছে ভারতীয়রা এখন ভাল। কারণ জানালেন ফারুক ইঞ্জিনিয়ার।

  • Share this:

    #লন্ডন:

    তিনি বরাবরই ঠোঁটকাটা। আর তাঁর এই ঠোঁটকাটা স্বভাবের জন্যই বহুবার বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবুও ভারতীয় দলের প্রাক্তন ক্রিকেটার ফারুক ইঞ্জিনিয়ার দমে যাননি। তাঁর যখন যেটা বলা উচিত বলে মনে হয়েছে তিনি বলেছেন। কখনো জাতীয় নির্বাচকদের একহাত নিয়েছেন। কখনো আবার ভারতীয় দলের অধিনায়ক বিরাট কোহলি ও তাঁর স্ত্রী অনুষ্কা শর্মা সম্পর্কে বেফাঁস মন্তব্য করে ফেলেছেন। কিন্তু নিজের এই ঠোঁটকাটা স্বভাবে কোনও পরিবর্তন করেননি তিনি। সম্প্রতি ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড ৯ বছরের পুরনো একটি পুরনো টুইটের বিচার করে যুব ক্রিকেটার আলি রবিনসনকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে ব্যান করেছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত রবিনসনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলার ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকবে। ২০১২ সালে এশিয়ার মানুষ, মহিলা ও মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আপত্তিজনক পোস্ট করেছিলেন রবিনসন। ইংল্যান্ডে বসবাসকারী ভারতীয় দলের প্রাক্তন ক্রিকেটার ফারুক ইঞ্জিনিয়ার এবার এই মামলায় নিজের বক্তব্য রেখেছেন।

    ফারুক ইঞ্জিনিয়ার মনে করেন, ব্রিটিশদের এই বর্ণবিদ্বেষী মন্তব্যের পরম্পরা অনেকদিনের। রবিনসনের উপর নিষেধাজ্ঞা জারির পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এমন সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, রবিনসনের লঘু পাপে গুরু দণ্ড হয়েছে। এদিন ফারুক ইঞ্জিনিয়ার কিন্তু রবিনসন মামলায় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীকেও ছেড়ে কথা বললেন না। তাঁর দাবি, এই ধরনের মামলায় দেশের প্রধানমন্ত্রীর নাক গলানো একেবারেই ঠিক নয়। কারণ দেশের ক্রিকেট সংস্থা যেটা ঠিক মনে হয়েছে সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভুল করে কেউ যদি শাস্তি না পায় তাহলে উদাহরণ তৈরি হয় না। এদিন ফারুক ইঞ্জিনিয়ার বলেছেন, ''রবিনসনের শাস্তি কমানোর জন্য অনেকেই বলছেন। কিন্তু আমি বলব ১৮ বছর বয়সেও কোনও মানুষের চেতনা না জাগলে আর কবে জাগবে! ''

    ফারুক আরও বলেন, ''আমি যখন ল্যাঙ্কাশায়ারে কাউন্টি খেলতে এসেছিলাম তখন অনেকেই আমাকে জিজ্ঞেস করতেন আমি ভারতীয় কিনা! এর পর আমার ইংরেজি উচ্চারণ নিয়ে ব্রিটিশরা মজা করত। তার পর কিছুদিনের মধ্যেই ওরা বুঝল যে আমার ইংরেজি ওদের থেকে খারাপ নয়। আমি ব্যাটেও জবাব দিয়েছি ওদের।'' তিনি আরও বলেন, ''ইংল্যান্ডের টেস্ট দলের প্রাক্তন ওপেনার জিওফ্রে বয়কট প্রকাশ্যে ভারতীয়দের ব্লাডি ইন্ডিয়ানস বলতেন। অনেকেই হয়তো এখন সেটা স্বীকার করবে না। কিন্তু আমার বলতে কোনও ভয়ডর নেই। আইপিএল শুরু হওয়ার পর ভারতীয়রা হঠাৎ করেই ব্রিটিশদের কাছে খুব ভাল হয়ে গেল। ওদের দেশের অনেক ক্রিকেটার আইপিএলে খেলতে আসে। এখন ব্রিটিশ ক্রিকেটাররা ভারতীয়দের জুতো পর্যন্ত বেঁধে দেয়। অনেক ব্রিটিশ ক্রিকেটার এখানে টিভি শোয়ের ধারাভাষ্যকার হিসেবে কাজ করে। টাকার জন্য এখন ওরা আমাদের জুতো চাটছে।''

    Published by:Suman Majumder
    First published: