Fakhar Zaman: ১৯৩ করা ফখর জামানকে বোকা বানিয়ে রান আউট! বিতর্কে কুইন্টন ডি কক

Fakhar Zaman: ১৯৩ করা ফখর জামানকে বোকা বানিয়ে রান আউট! বিতর্কে কুইন্টন ডি কক

ফখর জামানকে আউট করে ডি ককের উল্লাস৷

ক্রিকেটের আইন বলছে, ইচ্ছাকৃত ভাবে মনোসংযোগ ব্যাঘাত ঘটিয়ে বা ভুল ইঙ্গিত করে অথবা বাধা দিয়ে কোনও ফিল্ডার কোনও ব্যাটসম্যানের আউট করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেন আম্পায়াররা৷

  • Share this:

    #ওয়ান্ডারার্স: রবিবারই একদিনের ক্রিকেটে অসাধারণ ইনিংস খেলে নয়া রেকর্ড গড়েছেন পাকিস্তানের (Pakistan) ব্যাটসম্যান ফখর জামান (Fakhar Zaman)৷ দক্ষিণ আফ্রিকার (South Africa) বিরুদ্ধে রান তাড়া করতে নেমে ১৯৩ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন এই বাঁ হাতি ব্যাটসম্যান৷ যা একদিনের ক্রিকেটে রান তাড়া করে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ স্কোর৷ মাত্র ১৫৫ বলে এই ইনিংস খেলেন তিনি৷ ফখরের অসামান্য ইনিংসের সৌজন্যেই দক্ষিণ আফ্রিকার দেওয়া ৩৪২ রানের টার্গেটের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল পাকিস্তান৷ শেষ পর্যন্ত অবশ্য ১৭ রানে হারতে হয় পাকিস্তানকে৷

    পাক ইনিংসের শেষ ওভারে রান আউট হন ফখর জামান৷ আর এই রান আউটকে ঘিরেই শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক৷ আর এক্ষেত্রে পাক সমর্থক সহ গোটা বিশ্বের ক্রিকেটপ্রেমীদের একটা বড় অংশের কাছেই ভিলেন হয়ে উঠেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার উইকেট কিপার কুইন্টন ডি কক৷

    ওয়ান্ডারার্সে দ্বিতীয় একদিনের ম্যাচে জয় পাওয়ার জন্য শেষ ওভারে পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল ৩১ রান৷ ফখর জামান অবিশ্বাস্য ওই ইনিংস না খেললে অবশ্য খেলা অনেক আগেই শেষ হয়ে যেত৷ পাকিস্তানের জয়ের সম্ভাবনা ক্ষীণ থাকলেও ফখর জামান দ্বিশতরান করতে পারেন কি না, সেদিকেও নজর ছিল ক্রিকেটপ্রেমীদের৷ ৫০ তম ওভারের প্রথম বলে স্ট্রাইকে ছিলেন পাক ওপেনারই৷ লং অফের দিকে বল মেরেই দু' রানের জন্য ছোটেন তিনি৷ ফখর যখন দ্বিতীয় রান সম্পূর্ণ করতে পড়িমড়ি করে স্ট্রাইকিং এন্ডে ফিরছেন, তখনই বিতর্কের সূত্রপাত৷ কারণ লং অফে বলটি ধরে উইকেটকিপারের দিকেই থ্রো করেন লুঙ্গি এনগিদি৷ অথচ দক্ষিণ আফ্রিকার উইকেটকিপার হাত দিয়ে এমন ইঙ্গিত করেন, যাতে মনে হয় বলটি নন স্ট্রাইকিং এন্ডে অর্থাৎ উইকেটের উল্টো প্রান্তে ছুড়েছেন ফিল্ডার৷

    দক্ষিণ আফ্রিকার কিপার এই ইশারা করছেন দেখেই নিশ্চিন্ত হয়ে দৌড়ের গতি কমিয়ে দেন ফখর জামান৷ বরং উল্টো প্রান্তে তাঁর সতীর্থ ব্যাটসম্যান ক্রিজে পৌঁছতে পারলেন কি না, ঘাড় ঘুরিয়ে তা দেখার চেষ্টা করেন পাকিস্তানি ওপেনার৷ আর সেই সুযোগেই তাঁকে রান আউট করে দেন ডি কক৷ কারণ ততক্ষণে ফিল্ডারের ছোড়া বল সরাসরি তাঁর হাতে চলে এসেছে৷

    আর এই ঘটনার পরই ডি ককের সমালোচনায় সরব হয়েছেন বহু ক্রিকেটপ্রেমী৷ অনেকেই অভিযোগ করেছেন, ফখরের নজর ঘুরিয়ে দিতেই চালাকি করে ভুল ইঙ্গিত করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার কিপার৷ আউট হয়ে যাওয়ায় ৭ রানের জন্য দ্বিশতরান হাতছাড়া হয় ফখর জামানের৷ পাকিস্তানের জয়ের সামান্যতম আশাটুকুও শেষ হয়ে যায়৷ আম্পায়াররা অবশ্য ফখর জামানকে সঙ্গে সঙ্গেই আউট দিয়ে দেন৷

    তবে ক্রিকেটের আইন বলছে, ইচ্ছাকৃত ভাবে মনোসংযোগ ব্যাঘাত ঘটিয়ে বা ভুল ইঙ্গিত করে অথবা বাধা দিয়ে কোনও ফিল্ডার কোনও ব্যাটসম্যানের আউট করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেন আম্পায়াররা৷ আইসিসি-র ক্রিকেট আইনেই এর বিশদে ব্যাখ্যা দেওয়া আছে৷ মাঠে থাকা আম্পায়াররাই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন৷ এ ক্ষেত্রে কোনও ব্যাটসম্যান তো আউট হবেনই না, উল্টে ব্যাটিং টিম পেনাল্টি হিসেবে ৫ রান পাবে৷ শুধু তাই নয়, ওই বলটিও ডেড বল ঘোষণা করা হবে৷ যার অর্থ বাড়তি এক বল পাবে ব্যাটিং টিম৷

    সেই হিসেবে আম্পায়াররা যদি ডি ককের ওই ইশারাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে ঘোষণা করে ফখর জামানের আউটের সিদ্ধান্ত বাতিল করতেন, তাহলে ওই একসঙ্গে ৭ রান পেত পাকিস্তান (দৌড়ে ২ রান, সঙ্গে ৫ রান পেনাল্টি)৷ বলটিও বাতিল হত৷ ফলে জয়ের জন্য হিসেব দাঁড়াত ৬ বলে ২৪৷ ফলে, মাঠে থাকা দুুই আম্পায়ারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে৷ ফখর জামান আউট হওয়ার পরেও শেষ ওভারে ১৪ রান তুলেছিল পাকিস্তান৷ কুইন্টন ডি কক সত্যিই অসাধু উপায়ে ফখর জামানকে বোকা বানিয়ে আউট করলেন কি না, তাই নিয়েই এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে৷

    Published by:Debamoy Ghosh
    First published:

    লেটেস্ট খবর