করোনায় প্রায় পথে বসতে চলেছে ইংলিশ ক্রিকেট বোর্ড !

বিরাট আর্থিক চাপে ইংলিশ ক্রিকেট বোর্ড

কোমর ভেঙে গিয়েছে কুলীন ইংলিশ বোর্ডের। এই ক্ষতি কীভাবে মেটানো যাবে ভেবে পাচ্ছে না তাঁরা। ইংল্যান্ড এবং ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের রিপোর্ট অনুযায়ী ২০২০ সালে প্রায় ১৬৬ কোটি ৭০ লক্ষ ৩০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে

  • Share this:

    #লন্ডন: মারণ করোনা ভাইরাসের কারণে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষের মৃত্যু লেগেই আছে। এই যন্ত্রণা থেকে কবে মুক্তি পাওয়া যাবে জানা নেই। যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন একদিকে হয়তো বেঁচে গিয়েছেন। কিন্তু যাঁরা জীবিত আছেন, তাঁদের ভবিষ্যৎ আগামীদিনে কোনদিকে যেতে বসেছে সবাই অন্ধকার। বাকি সব ক্ষেত্রের মত বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি সহ্য করতে হয়েছে ক্রীড়াজগৎকে। একটা বছর প্রায় সব কিছুই বন্ধ ছিল। মাঠে বল গড়ায়নি। কিন্তু মনে হয়েছিল এই বছর আটকে থাকা সব টুর্নামেন্ট করে লোকসান মেটাতে পারবে ক্রীড়াবিশ্ব। কিন্তু কোথায় কী? ভাইরাসের হানায় আরও অন্ধকারে খেলার দুনিয়া।

    ধরা যাক ইংলিশ ক্রিকেট বোর্ডের কথা। এত পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি নিজেদের ইতিহাসে কখনও সহ্য করতে হয়নি ইসিবি - কে। প্রায় কোমর ভেঙে গিয়েছে কুলীন ইংলিশ বোর্ডের। এই ক্ষতি কীভাবে মেটানো যাবে ভেবে পাচ্ছে না তাঁরা। ইংল্যান্ড এবং ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের রিপোর্ট অনুযায়ী ২০২০ সালে প্রায় ১৬৬ কোটি ৭০ লক্ষ ৩০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে তাঁদের। করোনার কারণেই এমন ক্ষতি বলে জানিয়েছে ইসিবি। জৈব সুরক্ষা বলয় তৈরির খরচ তো রয়েছেই, সঙ্গে ইংল্যান্ড বোর্ড ‘দ্য হান্ড্রেড’ নামক একটি নতুন ক্রিকেট লিগ তৈরির পিছনে প্রচুর টাকা বিনিয়োগ করেছিল। সেই লিগ স্থগিত করে দেওয়া হয় করোনার জন্য। এর ফলেই অইন মর্গ্যানদের বোর্ডের এত টাকার ক্ষতি হয়েছে।

    ইংল্যান্ডের সব ধরণের খেলা মিলিয়ে এই ক্ষতি ১০৩৫ কোটির বেশি। গ্রীষ্মে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সিরিজগুলো আয়োজন করতে না পারলে অবস্থা আরও খারাপ হতে পারত। ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান অর্থনৈতিক কর্মকর্তা স্কট স্মিথ বলেন, “খুব কঠিন বছর ছিল এটা। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলে এবং অতিমারির সময় বেশ কিছু সফল সিদ্ধান্তের কারণে আরও বড় আর্থিক ক্ষতি এড়ানো গিয়েছে। তবে এই ক্ষতি আমাদের ভবিষ্যৎকে সমস্যায় ফেলতে পারে। আশা করছি এই গ্রীষ্মে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট এবং মাঠে দর্শক ফিরলে ক্ষতি পূরণ করতে কিছুটা সাহায্য করবে।”

    বেশ কিছু বিনিয়োগের পরিকল্পনা থাকলেও আপাতত তা করবে না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইংল্যান্ডের বোর্ড। এই গ্রীষ্মে জো রুটরা খেলবেন নিউজিল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান এবং ভারতের বিরুদ্ধে। ইংল্যান্ডের মেয়েদের দল খেলবে ভারত এবং নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে। ইসিবি খরচ কমাতে আগেই নিজেদের স্টাফ সংখ্যা প্রায় অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছিল। ৫০ জনের মতো কর্মীর চাকরি গিয়েছে এই বিশাল ক্ষতির কারণে।

    তবে ইংলিশ বোর্ড মনে করছে যেহেতু তাঁদের দেশে এই মুহূর্তে ভাইরাসের দাপট আগের তুলনায় অনেকটাই কম, তাই আগামীদিনে বেশ কিছু ক্রিকেট টুর্নামেন্ট নিজেদের দেশের মাটিতে আয়োজন করতে পারবে তাঁরা। তালিকায় আইপিএলের বাকি ৩১ টি ম্যাচকেও রাখা হয়েছে।

    Published by:Rohan Chowdhury
    First published: