corona virus btn
corona virus btn
Loading

প্রথমবার চাকরির পরীক্ষায় ক্রিকেটার ঈশান, আকাশদীপ, সুদীপরা...

প্রথমবার চাকরির পরীক্ষায় ক্রিকেটার ঈশান, আকাশদীপ, সুদীপরা...

প্রথমবার চাকরির পরীক্ষায় ঈশান পোড়েল, আকাশদীপরা। চাকরিপ্রার্থী সুদীপ চট্টোপাধ্যায় বোলারের ভূমিকায়। আইপিএলে সুযোগ পাওয়া শাহ?

  • Share this:

#কলকাতা: একজন শুক্রবার পাড়ি দেবেন নিউজিল্যান্ড। ভারতীয় এ দলের হয়ে খেলতে। চারজনের গন্তব্য নাগপুর। শনিবার থেকে রঞ্জি ম্যাচ খেলবেন। কেউ আবার ক্লাব ম্যাচ খেলতে খেলতেই হাজির। দু- একজন আবার ভিন রাজ্য থেকেও যোগ দিয়েছেন। তবে প্রত্যেকের বৃহস্পতিবার টার্গেট ছিল একটাই। সবাই চাকরিপ্রার্থী। ঈশান পোড়েল, কৌশিক ঘোষ, আকাশদীপ, শাহবাজ আহমেদ, অয়ন, সুদীপ চ্যাটার্জিরা চাকরি পাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে হাজির হয়েছিলেন সল্টলেকে সৌরভের একাডেমি মাঠে। খেলোয়াড় কোটায় চাকরি পাওয়ার জন্য ট্রায়াল দিতে হাজির ক্রিকেটাররা।

ইনকাম ট্যাক্স খেলোয়াড় কোটায় কয়েকজন ক্রিকেটারকে নেবে। একজন পেসার, একজন স্পিনার ও একজন ব্যাটসম্যানের চাকরি পাওয়ার কথা। প্রাথমিক আবেদনের পর বাছাই করে পরীক্ষায় ডাকা হয়েছিল বাংলার বেশ কিছু ক্রিকেটারকে। ভিন রাজ্যেরও কয়েকজন ক্রিকেটার হাজির ছিলেন ট্রায়ালে। আয়কর দপ্তরের কর্মরত ক্রিকেটাররা ছাড়াও হাজির ছিলেন উচ্চপদস্থ অফিসাররা। তাদের সামনেই কয়েক ঘণ্টা ধরে ট্রায়াল দিলেন ঈশান পোড়েল, আকাশদীপরা। এই লড়াইয়ে বিপক্ষ টিমের ক্রিকেটারদের নয়, বাংলার ক্রিকেটাররাই একে অপরকে টক্কর দিলেন। কারণ শূন্যপদ মাত্র তিনটি আর ট্রায়ালে হাজির ১০-১২ জন ক্রিকেটার। তাই ট্রায়ালে আকাশদীপ বনাম ঈশান পোড়েল। কৌশিক বনাম সুদীপ। অয়ন বনাম শাহাবাজদের লড়াইটা জমলো বেশ। অনূর্ধ্ব ১৯ খেলা ক্রিকেটারও দাদাদের সঙ্গে সমানে টক্কর দিলেন। ট্রায়াল শেষে ঈশান জানান, জীবনের প্রথমবার চাকরি পরীক্ষা দিতে এলাম। একটু নার্ভাস ছিলাম। আশা করি ভালোই পরীক্ষা দিয়েছি। এই পরীক্ষা হলের বদলে, ক্রিকেট মাঠে হওয়াতে অনেকটা সুবিধে হয়েছে। অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ জয়ী ক্রিকেটারের দাবি, ভারতীয় এ দল কিংবা বাংলার হয়ে খেলার সময় আগে থেকেই প্ল্যান থাকে। সেখানে কোচ, টিম ম্যানেজমেন্টের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। আর চাকরির পরীক্ষায় অফিসারদের সামনে ট্রায়াল দেওয়াটা অন্যরকম অভিজ্ঞতা। ঈশানের সঙ্গে টক্কর দেওয়া বাংলা সতীর্থ আকাশদ্বীপের মতে, ঈশানের সঙ্গে লড়াইটা জমল বেশ। তবে অভিজ্ঞতার দিক থেকে ঈশান অনেক এগিয়ে। চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে তাই ও একটু আমার চেয়ে এগিয়ে। তবে আমি সেরাটা দিয়েছি।    ইরন2

 আসলে ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে চাকরি পাওয়াটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু ক্রিকেট খেলে জীবন-জীবিকা চালানো সম্ভব নয় ঘরোয়া ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে। বর্তমানে সরকারি চাকরিতে খেলোয়াড়দের কোটা অনেকটাই কমেছে। অফিস টুর্নামেন্টগুলো প্রায় বন্ধ হওয়ার মুখে। ফলে সেভাবে এখন আর চাকরিও হয় না। তাই কালেভদ্রে এজি বেঙ্গল, কাস্টমস, ইনকাম ট্যাক্স, রেলের মতো দপ্তর গুলিতে খেলোয়াড় কোটায় চাকরি বেরোলেই আবেদনের হিড়িক পড়ে যায়।বাংলা দল থেকে বাদ পড়া সুদীপ চট্টোপাধ্যায়কেও মোহনবাগানের হয়ে খেলতে খেলতেই ট্রায়ালে আসতে হয়। এমনকি কস্মিনকালে বোলিং না করা সুদীপও চাকরির জন্য হাত ঘুরিয়ে স্পিন করেন ২২ গজে।ইরন1

আইপিএলে বিরাট কোহলির দলে সুযোগ পাওয়া শাহবাজ আহমেদকেও চাকরির ট্রায়াল দিয়ে নাগপুর উড়ে যেতে হয় বাংলার হয়ে রঞ্জিত খেলার জন্য। শাহবাজ জানান, চাকরির ট্রায়াল প্রথমবার দিলাম। রঞ্জিত বল করা এরথেকে অনেক সহজ। এমনকি আইপিএলের নিলামের সময় এত টেনশন হয়নি আজ যতোটা হল। বাংলা দল থেকে বাদ পড়া সুদীপ কোনও কথা না বললেও নেটে তার ব্যাট করা দেখে স্পষ্ট বোঝা যায় চাকরির জন্য কতটা মরিয়া তিনি। উত্তরপ্রদেশের থেকে আসা এক ক্রিকেটারও ঈশানদের সঙ্গে ট্রায়ালে লড়াই দিলেন শেষ পর্যন্ত। পরীক্ষা শেষে চাপা টেনশন নিয়ে নিজেদের গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দিলেন সব ক্রিকেটার। কারণ পরীক্ষার ফল বেরোনোর জন্য অপেক্ষা করতে হবে আরো কয়েকটা দিন।তখনই জানা যাবে কে কে চাকরি পেলেন।

First published: January 9, 2020, 11:58 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर