মেষপালক থেকে রাজ্য দলের ক্রিকেটার, লাদাখ থেকে প্রথম কেউ পেলেন সুযোগ

মেষপালক থেকে রাজ্য দলের ক্রিকেটার, লাদাখ থেকে প্রথম কেউ পেলেন সুযোগ

Skalzang Kalyan Dorje from Ladakh got chance for first time in Jammu Kashmir team

কোনও কিছুর প্রতি অসম্ভব প্যাশন থাকলে স্বপ্ন একদিন সফল হবেই ৷ Skalzang Kalyan Dorje-র অসাধারণ কাহিনী কোনও রূপকথার থেকে কম নয়৷

  • Share this:

    #লাদাখ: লাদাখের স্কালজাঙ্গ দোর্জে (Skalzang Kalyan Dorje) ক্রিকেট দুনিয়ার কোনও বড় নাম নয়, কিন্তু প্রথম লাদাখের ক্রিকেটার হিসেবে জম্মু -কাশ্মীর দলে সুযোগ পাওয়ার ঘটনা নিঃসন্দেহে এক বড় বিপ্লব৷ ক্রিকেটার হওয়ার আগে তিনি বৌদ্ধ ভিক্ষু, পিটি টিচার, পর্বতারোহী -র প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজ করতেন৷ আবার একটি বেসরকারি সংস্থায় তিনি কাজও করেছেন কিছুদিন৷ সেখান সেলসম্যান হিসেবে জিনিস বিক্রি করতেন তিনি৷ কিন্তু কিছুভাবেই তাঁর ক্রিকেটের প্রতি প্রেম কমেনি৷ আর সেই লক্ষ্যে অবিচল থেকেই জম্মু-কাশ্মীর দলে সুযোগ পেলেন তিনি৷

    ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে প্রকাশিত খবরে দেওয়া সাক্ষাৎকার অনুযায়ি একটা সময় তিনি মেষপালকের কাজও করতেন৷ তিনিই লাদাখ থেকে আসা প্রথম ক্রিকেটার যিনি রাজ্য দলে সুযোগ পেলেন৷ ৩১ বছর বয়সী অলরাউন্ডার সৈয়দ মুস্তাক আলি টুর্নামেন্টে জম্মু-কাশ্মীরের জার্সিতে খেলেছেন৷ যদি রনজি টুর্নামেন্ট স্থগিত না করে দেওয়া হত তাহলে তিনিই লাদাখের প্রথম ক্রিকেটার যিনি প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট খেলতেন৷

    লাদাখ আলাদা কেন্দ্র শাসিত এলাকা হওয়ার পর ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ লাদাখ তৈরি হয়েছে ৷ কিন্তু বিসিসিআইয়ের কাছে এটা স্বীকৃত অ্যাসোসিয়েশন নয়৷

    জম্মু-কাশ্মীর ক্রিকেট দলের অধিনায়ক পারভেজ রসুলও স্কালজাঙ্গের কৃতিত্বে দারুণ খুশি৷ তিনি জানিয়েছেন গত মরশুমে নতুন প্রতিভা খুঁজতে তাঁরা লাদাখে গিয়েছিলেন৷ সেখানে ৪-৫ জন ভালো ক্রিকেটারের সন্ধান পান তাঁরা৷ তারমধ্যে স্কালজাঙ্গও ছিলেন৷ তিনি জম্মু-কাশ্মীরের কয়েকজন ক্রিকেটারকে আউট করে দিয়েছিলেন৷ তিনি ভালো বাঁ হাতি স্পিনার -তার সঙ্গে ভালো ব্যাটও করতে পারেন৷ কিন্তু বড় মঞ্চে তাঁকে আরও পরিশ্রম করতে হবে৷

    পশুপালন করতে করতে এইভাবে ক্রিকেটার হওয়ার ঘটনায় সকলেই চমৎকৃত৷ তিনি শারীরিক ভাবে দারুণ ফিট৷ ১৯৯৯ সালে ১০ বছর বয়স থেকে তিনি ক্রিকেট খেলেন৷ তাঁর কাকা বেঙ্গালুরুর মহাবোধি সোসাইটিতে থাকতেন৷ তিনি কাকার সঙ্গে সেখানে গিয়েছিলেন৷ তখন ১৯৯৯ সালের ইংল্যান্ডের ক্রিকেট বিশ্বকাপ হত৷ সেই থেকেই ক্রিকেটের প্রতি প্রেম শুরু৷ তিনি ছোটদের সঙ্গে ক্রিকেট খেলতেন৷ এরপর ধীরে ধীরে তাঁর ক্রিকেটের প্রতি টান বাড়তে থাকে৷ ২০১১ সালে তিনি ক্রিকেট খেলা ছেড়ে শারীরশিক্ষার ট্রেনিং নেন পাশাপাশি পর্বতারোহণের শিক্ষাও নেন৷

    লাদাখের স্থানীয় টুর্নামেন্টে অংশও নেন৷ তাঁর এই লড়াই একেবারে অন্যরকমের ৷ তাঁর এইভাবে রাজ্য দলে সুযোগ পাওয়া ক্রিকেট মহলে সকলের প্রশংসা পাচ্ছে৷

    Published by:Debalina Datta
    First published:

    লেটেস্ট খবর