‘লেগেছে লেগেছে আগুন!’ জ্বলছে বঙ্গ ক্রিকেট, ফের এক মরশুম ব্যর্থ, ময়নাতদন্তে সামনে বিস্ফোরক অভিযোগ

‘লেগেছে লেগেছে আগুন!’ জ্বলছে বঙ্গ ক্রিকেট, ফের এক মরশুম ব্যর্থ, ময়নাতদন্তে সামনে বিস্ফোরক অভিযোগ

আরেকবার ব্যর্থতাই বাংলা ক্রিকেটের সঙ্গী।

আরেকবার ব্যর্থতাই বাংলা ক্রিকেটের সঙ্গী।

  • Share this:

#কলকাতা: "লেগেছে লেগেছে লেগেছে আগুন। আয় তোরা দেখে যা না, জ্বলছে জ্বলছে দ্যাখ। সব পরীদের ডানা। প্রচন্ড তাপ। কি কান্ বাপ। কি কান্ড বাপ।"- বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় ছবি বসন্ত বিলাপের এই গানের লাইনগুলোই এখন প্রাসঙ্গিক বঙ্গ ক্রিকেটে। শুধু পরীরের জায়গায় বাংলার ক্রিকেটার ও সাপোর্ট স্টাফদের নাম লিখতে হবে। ব্যাস তাহলেই বাংলার ক্রিকেটের আসল চেহারাটা বোঝানো সম্ভব হবে।

করোনা পরবর্তী পরিস্থিতিতে রনজি ট্রফি বাতিল হওয়ায় শুধুমাত্র সৈয়দ মুস্তাক আলি এবং বিজয় হাজারে ট্রফি আয়োজন করেছিল বিসিসিআই। সাদা বলের এই দুই ফর্ম্যাটেই চূড়ান্ত ব্যর্থ বাংলা ক্রিকেট। কলকাতায় খেলেও কোনও টুর্নামেন্টেই গ্রুপ পর্যায়ে টপকাতে পারেনি অরুণলালের ছেলেরা। সদ্য শেষ হওয়া বিজয় হাজারে ট্রফিতে চন্ডিগড়, সৌরাষ্ট্র এমনকি হরিয়ানার কাছে হারতে হয়েছে। এরপরই প্রশ্নের মুখে বাংলার ক্রিকেটারদের ভবিষ্যৎ। প্রশ্ন উঠে গেছে অরুণলাল সহ গোটা কোচিং স্টাফদের নিয়ে। বাংলা ক্রিকেটের ড্রেসিংরুমের কঙ্কালসার চেহারাটা বেরিয়ে এসেছে প্রকাশ্যে। চলছে দোষারোপ পাল্টা দোষারোপ। এমনকি স্বজনপোষণের অভিযোগ উঠছে। সিএবিতে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে একাধিক গলদ।

 সর্বপ্রথম প্রশ্ন উঠছে দল নির্বাচন নিয়ে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্তার দাবি, আনফিট ক্রিকেটারদের জোর করে দলে নেওয়া হয়েছে। ফিটনেস পরীক্ষায় পাস না করলেও একাধিক ক্রিকেটারকে দলে রেখে দেওয়া হয়েছে। এমনকি কালীঘাট ক্লাবের কর্তা প্রভাব খাটিয়ে নিজের ছেলেকে দলে ঢুকিয়েছেন। দীর্ঘদিন চোট নিয়ে দলের বাইরে থাকা ঋত্বিক রায়চৌধুরীর নির্বাচন নিয়ে রয়েছে হাজার প্রশ্ন।

 দ্বিতীয় অভিযোগ, ঈশান পোড়েল, অর্ণব নন্দী, ঋত্বিক রায়চৌধুরী, মুকেশ কুমার, অভিষেক রমনদের মত ক্রিকেটাররা ইয়ো ইয়ো টেস্ট টেস্টে পাস না করেও নির্বাচক এবং কর্তাদের চাপে দলে জায়গা করে নিয়েছেন। ফিটনেস ট্রেনার লকডাউনে যাঁদেরকে নিয়ে কাজ করেছেন তাঁদের বেশিরভাগই দলে সুযোগ পাননি। সুযোগ পাওয়া বেশিরভাগ ক্রিকেটাররা সেভাবেই নিজেদের তৈরি করেননি প্রি সিজনে।

তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ, সিনিয়র ক্রিকেটারদের দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শ্রীবৎস গোস্বামী, অভিমুন্য ঈশ্বরণ, রমন, ঋত্বিক চট্টোপাধ্যায়ের মত ক্রিকেটাররা বারবার দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় দিয়েছেন। মানসিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এমনকি সিএবির একাংশের দাবি, ড্রেসিংরুমে সিনিয়র ও জুনিয়রদের মধ্যে একটা বিভেদ রয়েছে।

চতুর্থ অভিযোগ, নির্বাচক কমিটির যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন কিছু কর্তা। এমনকি মরশুম শুরুতে সিএবি আয়োজিত বেঙ্গল টি-টোয়েন্টি চ্যালেঞ্জ প্রতিযোগিতায় সফল হওয়া ক্রিকেটারদের বাংলা দলে সুযোগ হয়নি। প্রয়াস রায় বর্মণ, সুদীপ ঘরামি, অরিত্র চট্টোপাধ্যায়ের মতো ক্রিকেটাররা স্কোয়াডে থাকলেও ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি। সন্দীপন দাসের মত ক্রিকেটারদের নেওয়া হয়নি।

পঞ্চম অভিযোগ, কোচ অরুণলাল এবং সাপোর্ট স্টাফদের বিরুদ্ধে। অরুণলালের কোচিং পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন দলের অনেক জন। দলে থাকা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সাপোর্ট স্টাফের মতে, লালজি জোর করে অনেক কিছু চাপিয়ে দেন। অনেক পরামর্শই শুনতে চান না। এমনকি ম্যাচ রিডিং করার ক্ষেত্রেও নিজের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত মনে করেন। পিচ বুঝতে পারেন না। শুধু ফিটনেসে জোর দিতে গিয়ে ভালো ক্রিকেটারদের দলে নেওয়া যায়নি। অন্যদিকে দলের অপারেশনাল ম্যানেজার জয়দীপ মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেও ক্ষুব্ধ সিএবি কর্তারা। সৌরভ ঘনিষ্ঠ হওয়াতে তাঁকে মুখের উপর কিছু বলতে না পারলেও তার কর্ম পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। রণদেব বসু, উৎপল চট্টোপাধ্যায়, সৌরাশিস লাহিড়ীর মত তাবড় তাবড় ক্রিকেটাররা দলের সঙ্গে থাকলেও কোনও সুফল মিলছে না। একাংশের কর্তাদের দাবি, দলে অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট হচ্ছে। শুধু পাইয়ে দেওয়ার জন্যই প্রাক্তন ক্রিকেটারদের দলের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে।

এমনকি প্রশ্ন উঠেছে সৌরভের তৈরি করা ভিশন ২০২০ প্রজেক্টের কার্যকারিতা নিয়ে। প্রাক্তন ভারতীয় তারকা ভিভিএস লক্ষ্মণের মত ক্রিকেটার থাকলেও কোনও সুফল মিলছে না বলে অভিযোগ। ভবিষ্যতের ক্রিকেটার তৈরি করার বদলে শুধু সিনিয়র দলকেই নিয়ে কাজ করছেন লক্ষ্মণ। ভিশনের দায়িত্বে থাকা বাকি কোচরাও জুনিয়র ক্রিকেটারদের পেছনে সময় দিচ্ছেন না বলে সিএবি অন্দরে খবর। ইতিমধ্যেই সোমবার হরিয়ানার বিরুদ্ধে হারের পর অরুণলালকে ডেকে পাঠান সিএবি প্রেসিডেন্ট। বেশ কিছুক্ষণ আলোচনা হয়। এত সুবিধা পাবার পরও কেন সাফল্য নেই সেই প্রশ্ন করা হয় কোচকে। সূত্রের খবর অরুণলালও নাকি কয়েকজন ক্রিকেটার এবং নির্বাচক কমিটিকে এক হাতে নিয়েছেন।

 এ সবের মধ্যেই সিএবি প্রেসিডেন্ট ,সচিবের বিরুদ্ধে কিছু কর্তার অভিযোগ, ভবিষ্যতে টিম গড়ার লক্ষ্যে নজর না দিয়ে ভুল করেছে সিএবি। কিছু মানুষকে তোষামোদ করে চলা হচ্ছে বলে দাবি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্তার। অনুষ্টুপ মজুমদারকে অধিনায়ক নির্বাচন করা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এমনকি বাংলার সাপ্লাই লাইনের বেশির ভাগটাই রেলে চাকরি নিয়ে চলে যাওয়ার কেন তাদেরকে আটকানো হয়নি সেই নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। পদে থাকা কর্তাদের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তবে অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ নিয়েই এবারের মত শেষ বোর্ডের ঘরোয়া ক্রিকেট মরশুম। আরেকবার ব্যর্থতাই বাংলা ক্রিকেটের সঙ্গী।

ERON ROY BURMAN

Published by:Debalina Datta
First published:

লেটেস্ট খবর