গোটা শরীরে বলের আঘাত, তাও অবিচল পূজারা, কুর্নিশ গাভাসকারের

গোটা শরীরে বলের আঘাত, তাও অবিচল পূজারা, কুর্নিশ গাভাসকারের
photo/bcci twitter

পূজারার কথা ভুলে যাবেন না। আমি নিশ্চিত মাঝের সময়টা ও যদি খেলাটা না ধরত তাহলে ভারতের জয় পাওয়াটা সহজ হত না।

  • Share this:

    #ব্রিসবেন: শুভমান গিল, ঋষভ পন্থ এই দুই তরুণ ক্রিকেটার ভারতকে দুর্দান্ত জয় এনে দিয়েছেন টেস্ট সিরিজে। প্রথমজন অল্পের জন্য শতরান পাননি। দ্বিতীয়জন শেষ পর্যন্ত মাঠে থেকে দলের জয় নিশ্চিত করেছেন। দুজনেই তরুণ ইন্ডিয়ার আদর্শ বিজ্ঞাপন। কিংবদন্তি সুনীল গাভাসকার অবশ্য মনে করিয়ে দিতে চান আর একজন ব্যাটসম্যানের লড়াই। চেতেশ্বর পূজারা। অর্ধশতরান করেছেন, নিজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে মন্থরঅর্ধশতরান। কিন্তু সানি মনে করেন ওই সময়টা চেতেশ্বর যদি রুখে না দাঁড়াতেন, তাহলে কিন্তু টিম ইন্ডিয়ার জয় পাওয়া মুশকিল ছিল। কিংবদন্তি বলেন,"পূজারার কথা ভুলে যাবেন না। আমি নিশ্চিত মাঝের সময়টা ও যদি খেলাটা না ধরত তাহলে ভারতের জয় পাওয়াটা সহজ হত না। স্টার্ক,কামিন্স,হ্যাজেলউড টানা ওঁর শরীর লক্ষ্য করে বল করে গিয়েছে। হেলমেটে লেগেছে,গ্লাভসে লেগেছে, পাঁজরে লেগেছে। কিন্তু লড়াই ছাড়েনি। অসাধারণ সংকল্প দেখিয়েছে। নতুন বল নেওয়ার আগে পর্যন্ত ভারতের জয়ের রাস্তা নিশ্চিত করেছিল চেতেশ্বর"।

    ঠিকই বলেছেন তিনি। শুধু সানি নন, অজয় জাদেজা থেকে শুরু করে গ্লেন ম্যাকগ্রা, শেন ওয়ার্ন প্রত্যেকেই পূজারার প্রশংসা করেছেন। দেশের স্বার্থে, দলের স্বার্থে সবচেয়ে কঠিন স্পেল তিনি সামলেছেন। শরীরে অসংখ্য আঘাত নিয়েও মাটি কামড়ে পড়েছিলেন। তাঁর শরীরে একের পর এক আঘাত করে গতি কমেছে অস্ট্রেলিয়ান পেসারদের। সহজ হয়েছে বাকিদের কাজ। রাহুল দ্রাবিড় ইনিংসটা দেখলে খুশি হতেন। তাঁর অবসর নেওয়ার পর ," দ্যা ওয়াল" তকমা পাওয়ার যোগ্যতা যদি কারও থেকে থাকে তাঁর নাম চেতেশ্বর পূজারা।


    ভারতের ঐতিহাসিক জয়ের পর গিল,পন্থ দের ইনিংস নিয়ে যতটা চর্চা হচ্ছে, পূজারার ইনিংস নিয়ে ততটা চর্চা না হওয়াটাই স্বাভাবিক। তিনি ভারতীয় ক্রিকেটের মেঘনাদ। কিছুটা আড়াল থেকেই লড়াই করে যান। জয়ের বিবরণ লিখতে বসলে যাঁর ইনিংস হেডলাইন দখল করবে না, কিন্তু যাঁর ইনিংস ছাড়া জয় অসম্ভব।দু বছর আগে অস্ট্রেলিয়া সফরে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের মধ্যে তিনটি শতরান করে সবচেয়ে সফল ছিলেন তিনি। এবার হয়তো শতরান করতে পারেননি। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নিজের গুরুত্ব বুঝিয়ে দিয়েছেন।

    Published by:Rohan Chowdhury
    First published:

    লেটেস্ট খবর