৩০ বছর পর রঞ্জি জয়ের হাতছানি, ইডেনের ভিকট্রি ল্যাপে চোখে স্বপ্ন অনুষ্টুপ-ঈশানদের

৩০ বছর পর রঞ্জি জয়ের হাতছানি, ইডেনের ভিকট্রি ল্যাপে চোখে স্বপ্ন অনুষ্টুপ-ঈশানদের

সেই ইডেন। সেই কর্ণাটক। সেই ফাস্ট বোলারের দাপাদাপি।

  • Share this:

#কলকাতা: ১৩ বছর পর রঞ্জি ট্রফির ফাইনালে বাংলা। কর্ণাটকে হারিয়ে ৩০ বছর পর অভিমন্যুদের সামনে রঞ্জি চ্যাম্পিয়ন হওয়ার হাতছানি। আর এই জয়ের নায়ক অনুষ্টুপ মজুমদার।

সেই ইডেন। সেই কর্ণাটক। সেই ফাস্ট বোলারের দাপাদাপি। যেন ১৩ বছরের ইতিহাসের পূণরাবৃত্তি দেখল ক্রিকেটের নন্দনকানন। সেবার বল হাতে নায়ক ছিলেন রণদেব বসু, আর ব্যাটে মনোজ তিওয়ারি। এবারের নায়ক ব্যাটে অনুষ্টুপ, আর বল হাতে ঈশান-মুকেশ-আকাশদীপরা। কে এল রাহুলদের কর্ণাটককে ১৭৪ রানে হেলায় হারিয়ে রঞ্জির ফাইনালে টিম বাংলা। প্রথম ইনিংসে ঈশান পোড়েলের পর, দ্বিতীয় ইনিংসে একাই কর্নাটককে ভাঙেন মুকেশ কুমার।

ঈশান পোড়েল বলেন, ‘এটা আমাদের টিম গেমের জয়। সবাই মিলেই সাফল্য পেয়েছি।’ মুকেশ কুমার জানান, ‘নির্দিষ্ট জায়গায় বল করতে পেরে সাফল্য পেয়েছে। আমরা প্রত্যেকে খুশি হই প্রত্যেকের সাফল্যে।’ দেড়দিনের বেশি হাতে সময়। তার আগেই বাংলার বাজিমাত। ফাইনালে উঠতে কর্ণাটকের টার্গেট ছিল ৩৫২। চতুর্থ ইনিংসে ঈশান-আকাশদীপদের আগুনে বোলিংয়ের সামনে এই রান করাই ছিল কঠিনতম কাজ। কারণ চলতি রঞ্জি মরশুমে বাংলার বিরুদ্ধে কোনও দল ২৫০-এর বেশী করতে পারেনি। আর কর্ণাটক কখনও এত রান তাড়া করে জেতেনি। শূন্য রানে কে এল রাহুলকে ফিরিয়ে তৃতীয় দিনেই জয়ের স্বাদ এনে দেন ঈশান। আর চতুর্থ দিনটা ছিল মুকেশ কুমারের। প্রথম ইনিংসে ১২২-এর পর, দ্বিতীয় ইনিংসে ১৭৭ রানে অলআউট কর্ণাটক। ঈশানের ঝুলিতে ২ উইকেট।

বোলারদের দাপটে ম্যাচ জিতলেও, ম্যাচের নায়ক ব্যাট হাতে অনুষ্টুপ। প্রথম দিন ৬৭ রানে বাংলার ৬ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর, টেল এন্ডারদের নিয়ে বাংলার ইনিংস একার কাঁধে টেনেছেন ‘রুকু’। দ্বিতীয় ইনিংসেও বাংলার ব্যাটিং বিপর্যয়ের মধ্যে সপ্রতিভ ছিলেন অনুষ্টুপই। ম্যাচ শেষে অনুষ্টুপ মজুমদার জানান, ‘ঘরোয়া ক্রিকেটের সব ট্রফি আমি জিতেছি। একমাত্র রঞ্জি ট্রফি জিততে পারিনি। আর একটা ম্যাচ জিততে পারলে সেই অধরা স্বপ্ন পূরণ হবে। ব্যাট হাতে চাপের মুখে বারবার রান করতে পেরে আত্মবিশ্বাস আরও বেড়ে গিয়েছে।’

অধিনায়ক অভিমুন্য বলেন, ‘দলের ১১ জন সবকিছু করতে পারে। একজনের ব্যর্থতা অন্যজন দ্বিগুণ পারফরম্যান্স করে ঢেকে দেয়। এটাই দলের ইউএসপি।’ ঘরের মাঠে সেমিফাইনাল জয়। ইডেনের টুয়েলভ ম্যান অবশ্যই দর্শকরাই। সারাক্ষণ ঈশান-অনুষ্টুপদের নামে চিৎকার চার্জ-আপ করে দিয়েছিল গোটা দলকে। তাই ম্যাচের শেষেই ইডেনে ভিকট্রি ল্যাপ ক্রিকেটারদের। সেলফি আর অটোগ্রাফের আবদার মিটিয়ে বাংলা দল ও ধন্যবাদ জানায় গোটা স্টেডিয়ামকে।

ম্যাচ শেষ হতেই ফাইনাল নিয়ে আলোচনা শুরু। কারণ এখান থেকে আর খালি হাতে ফিরতে নারাজ টিম বাংলা। ট্রফি জয়ের স্বপ্ন এখান থেকেই দেখা শুরু অরুণলালের ছাত্রদের। ফাইনালের জন্য বাংলা দলে ঢুকলের ঋদ্ধিমান সাহা, সুদীপ ঘরামিরা। নিউজিল্যান্ড থেকে ফিরেই দলের সঙ্গে যোগ দিচ্ছেন ঋদ্ধি। চোট থাকায় দলে নেই কৌশিক ঘোষ। দলের সাফল্যে উচ্ছ্বসিত সিএবি কর্তারা। হোয়াটসঅ্যাপ কলে দলকে শুভেচ্ছা জানান শামি। শুভেচ্ছা এসে পৌঁছেছি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের কাছ থেকেও। সিএবি প্রেসিডেন্ট অভিষেক ডালমিয়া জানান, ‘দলের পারফরমেন্সে আমরা খুশি। তবে এখনই ইন্সেন্টিভ ঘোষণা করছি না। ফাইনাল চ্যাম্পিয়ন হলে সারপ্রাইজ থাকবে।’

ERON ROY BURMAN

First published: March 3, 2020, 8:46 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर