Ranji Trophy 2019-20: সৌরভের মতোই রঞ্জি ফাইনালে অভিষেক হতে চলেছে সুদীপের

Ranji Trophy 2019-20: সৌরভের মতোই রঞ্জি ফাইনালে অভিষেক হতে চলেছে সুদীপের

সোমবার থেকে রাজকোটে রঞ্জি ট্রফির ফাইনাল। সৌরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে বাংলা। ফাইনালে বাংলার হয়ে অভিষেক হতে চলেছে ওপেনার সুদীপ ঘরামির ৷

  • Share this:

#রাজকোট: ৩০ বছর আগে ইডেনে বাংলার হয়ে রঞ্জি ফাইনালে অভিষেক হয়েছিল সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের। ফের একবার ঘরোয়া ক্রিকেটে ভারত সেরা হওয়ার হাতছানি বাংলার সামনে। এবারও সৌরভের মতোই বাংলার জার্সিতে রঞ্জি ফাইনালে অভিষেক হতে চলেছে প্রতিভাবান সুদীপ ঘরামির।

অভিষেক রমনের জায়গায় ফাইনালে খেলবেন অনূর্ধ্ব-২৩ দলের ক্রিকেটার সুদীপ ঘরামির। দলে আরেকটি পরিবর্তনও নিশ্চিত। শ্রীবৎস গোস্বামীর পরিবর্তে প্রথম একাদশে ঋদ্ধিমান সাহা। বাকি তিন পেসার, দুই স্পিনার নিয়ে রাজকোটে নামতে চলেছে বাংলা দল। ব্যাটিং অর্ডার নিয়ে বেশি পরীক্ষা-নিরীক্ষা ফাইনালে করতে চান না কোচ অরুণলাল।ওপেনিংয়ে অধিনায়ক অভিমুন্য ঈশ্বরণের সঙ্গী সুদীপ ঘরামি। তিন নম্বরে সুদীপ চট্টোপাধ্যায়। আঙ্গুলের চোট এখনও পুরোপুরি ঠিক না হলেও কেরিয়ারের শততম রঞ্জি ম্যাচ খেলতে তৈরি মনোজ তিওয়ারি। চার নম্বরে ব্যাট করবেন তিনি। ভারতীয় দল থেকে ফেরা ঋদ্ধিমান পাঁচ নম্বরে। বাংলার ব্যাটিং অর্ডারে ছয় নম্বরে নামবেন অনুষ্টুপ মজুমদার। তারপর যথারীতি শাহবাজ ও অর্ণব।

অফ ফর্মে থাকা বাংলার অধিনায়ক অভিমুন্যকে ভিডিও বার্তা দিলেন সৌরভ। ব্যাটিংয়ের ভুলত্রুটি শুধরে দেন মহারাজ। অধিনায়ক অভিমুন্য জানান, "একটা চাপা টেনশন আছে ফাইনালের আগে। তবে দলের সবাই জানে নিজেদের দায়িত্ব সম্বন্ধে। প্রথমবার অধিনায়ক হয়ে যদি চ্যাম্পিয়ন হতে পারি তাহলে সবচেয়ে ভালো লাগবে।"১৯৮৯-৯০ মরশুমে রঞ্জি ফাইনালে বাংলার হয়ে ম্যাচের সেরা হয়েছিলেন অরুণলাল। সেই লালজি এখন বাংলা দলের দায়িত্বে।

ফাইনালের আগে দলের ছেলেদের বারবার বুঝিয়েছেন এরকম পরিস্থিতিতে কীভাবে মাথা ঠান্ডা রাখতে হয়। ফোকাস ধরে রাখার জন্য তিনি মিটিংয়ে বারবার বার্তা দিয়েছেন। দলের পারফরম্যান্সে খুশি হলেও রাজকোটের উইকেট নিয়ে খুশি নন অরুণলাল। ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে ছিটেফোঁটাও ঘাস নেই। তবুও নিজের ফাস্ট বোলারদের ওপর ভরসা রাখছেন লালজি। অরুণ লালের দাবি, "পূজারা, জয়দেব উনাদকাটদের নিয়ে ভাবার সময় নেই। আমার দল সেরা পারফরম্যান্স করতে পারলেই চ্যাম্পিয়ন হব।"

এদিকে রঞ্জির শততম ম্যাচ খেলতে নামার আগে বাড়তি সতর্ক মনোজ। শেষ ম্যাচে দুই ইনিংসে তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে উইকেট ছুঁড়ে প্যাভিলিয়নে ফিরতে হয়েছিল। তাই ফাইনাল ম্যাচের আগে নিজেকে যেন গুটিয়ে রেখেছেন প্রাক্তন অধিনায়ক। সব উত্তর ২২ গজে দিতে চান মনোজ। প্রাক্তন অধিনায়কের স্পষ্ট মন্তব্য, "একজন সিনিয়র হিসেবে এই ম্যাচে আমায় বাড়তি দায়িত্ব নিতে হবে। এমন পারফরম্যান্স করব যাতে ম্যাচের সেরা হতে পারি।"

       

অন্যদিকে চেতেশ্বর পূজারার অন্তর্ভুক্তিতে দলের ব্যাটিং গভীরতা বেড়েছে বলেই মনে করেন সৌরাষ্ট্র কোচ কারসন ঘাউড়ি। রঞ্জি ফাইনালের পরেই কোচিং থেকে অবসর নেবেন তিনি। তাই সৌরাষ্ট্র দল তৈরি কোচকে গুরুদক্ষিণা হিসেবে রঞ্জি ট্রফি দিতে। চেনা রাজকোটে কিছুটা অ্যাডভান্টেজ নিয়েই নামবে সৌরাষ্ট্র। তবে পুজারাদের চিন্তায় রাখছে ফাইনালের পরিসংখ্যান। ২০১৩ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত তিনবার ফাইনালে উঠে তিনবারই হারতে হয়েছে সৌরাষ্ট্রকে।

     

রঞ্জি ট্রফির ফাইনাল শুরুর আগেই মাঠের বাইরে দুই দলের ঠান্ডা লড়াই শুরু। দুদিন অনুশীলনেই স্থানীয় নেট বোলার নিয়ে সমস্যায় পড়তে হলো বাংলা দলকে। শনিবার কোনও নেট বোলার পাওয়া যায়নি। অনেক ফোন চালাচালির পর রবিবার মাত্র তিন জনকে পাঠানো হয়। বাংলা দলের অভিযোগ এই তিনজনের বয়স মাত্র ১২। ফাইনালের আগের দিনে এই নেট বোলারদের বিরুদ্ধে খেলে কোনও লাভ হবে না ব্যাটসম্যানদের। তবেই এইসব নিয়ে বেশি ভাবছে না বঙ্গ টিম ম্যানেজমেন্ট। কলকাতা থেকে দুইজন বাঁহাতি ফাস্ট বোলার নিয়ে আসা হয়েছে দলের সঙ্গে। গরমের কারণে দলের বোলারদের ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে অনুশীলনে ব্যবহার করা হয়েছে। টিম হোটেলে ফিরে পূজারাদের ব্যাটিং ভিডিও দেখে ক্লাস করেছেন ঈশান পোড়েল,আকাশদীপরা। বিপক্ষ ক্রিকেটারদের ভুলত্রুটি গুলি বারবার দেখে নিজেদের গেমপ্ল্যান তৈরি করছে বাংলা। সব মিলিয়ে ফাইনালের আগে নিজেদের ফোকাস ধরে রাখতে বদ্ধপরিকর বাংলা শিবির।

Eeron Roy Barman

First published: March 8, 2020, 7:40 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर