World Cup জয়ের দশ বছর, 'একটা ছক্কায় বিশ্বকাপ আসেনি', কাকে বললেন গম্ভীর?

World Cup জয়ের দশ বছর, 'একটা ছক্কায় বিশ্বকাপ আসেনি', কাকে বললেন গম্ভীর?

সেদিন গৌতম গম্ভীর ৯৭ রানের দুরন্ত ইনিংস না খেললে ভারতের হয়তো বিশ্বকাপ জয় সম্ভব হত না।

সেদিন গৌতম গম্ভীর ৯৭ রানের দুরন্ত ইনিংস না খেললে ভারতের হয়তো বিশ্বকাপ জয় সম্ভব হত না।

  • Share this:

    #নয়াদিল্লি:

    দেখতে দেখতে দশ বছর কেটে গেল। ২০১১-র ২ এপ্রিল ২৮ বছর পর ফের বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে তুলেছিল ভারতীয় ক্রিকেট দল। সেই বিশ্বজয়ের ১০ বছর পেরিয়েছে। তবে এখনও ভারতীয় ক্রিকেট সমর্থকদের মনে সেই সুখস্মৃতি টাটকাই রয়েছে বলা যায়। গোটা দেশ সেদিন আনন্দে মেতে উঠেছিল। এক লহমায় যেন দেশের হাজার সমস্যা উবে গিয়েছিল কর্পূরের মতো। দৈনন্দিন দুঃখ-দুর্দশা, লড়াইয়ের কথা ভুলে মানুষ মেতে উঠেছিল ১১ জনের বিশ্বজয়ের গৌরবে। ক্রিকেট মানে এদেশে তো ধর্ম। ক্রিকেটাররা ঈশ্বর। তাই এখানে এমনটাই তো স্বাভাবিক। সেদিন বিশ্বকাপ ফাইনালে শ্রীলংকার বিরুদ্ধে সচিন তেন্ডুলকার ও বীরেন্দ্র শেহবাগের মতো তারকা ব্যাটসম্যান দ্রুত প্যাভিলিয়নে ফিরেছিলেন। তবুও ভারতীয় দলের ক্রিকেটাররা নিজেদের উপর বিশ্বাস হারাননি। তারই পুরস্কার ছিল ওই বিশ্বকাপ জয়।

    সেদিন গৌতম গম্ভীর ৯৭ রানের দুরন্ত ইনিংস না খেললে ভারতের হয়তো বিশ্বকাপ জয় সম্ভব হত না। তবে ওই বিশ্বকাপ ফাইনালে তাঁর ৯৭ রানের প্রয়োজনীয় ইনিংসের থেকেও বেশি কথা হয় ধোনির শেষ বলে ছক্কা নিয়ে। সেই ছক্কা যা ভারতের বিশ্ব জয়ের ছবি হয়ে উঠেছে গত ১০ বছরে। ওয়াংখেড়ের স্ট্যান্ডে সেই ছক্কা আছড়ে পড়তেই গোটা দেশ মেতে উঠেছিল আনন্দে। আর কোথায় যেন ধোনির সেই ছক্কার ছায়ায় ঢাকা পড়েছিল গম্ভীরের ৯৭ রানের ইনিংসের প্রয়োজনীয়তা। সেটাই মেনে নিতে পারেননি গম্ভীর। বারবার তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, তাঁর ৯৭ রানের ইনিংস ছাড়া ভারতের ওই বিশ্বজয় সম্ভব ছিল না। ১০ বছর পরও এই নিয়ে আক্ষেপ রয়েছে গম্ভীরের। এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেছেন, ''ওই একটা ছক্কা কিন্তু আমাদের বিশ্বকাপ জেতায়নি। মনে রাখতে হবে, বিশ্বকাপ জয়ের পেছনে গোটা দলের অবদান ছিল।''

    গত বছর একটি ক্রিকেট সংক্রান্ত খবরের ওয়েবসাইট বিশ্বকাপ জয়ের ৯ বছর পূরণ হওয়ায় ধোনির সেই ছক্কার ছবি পোস্ট করেছিল। তারা ক্যাপশনে লিখেছিল, এটা সেই শট যা গোটা দেশকে আনন্দে মাতোয়ারা করে তুলেছিল। গম্ভীর এদিন সেই ছবির প্রসঙ্গ তুললেন। তারপর বললেন, ''ওই জয়টা ছিল প্রতিটা টিম মেম্বারের কঠোর পরিশ্রমের ফসল। এমনকী সাপোর্ট স্টাফদের পরিশ্রমও কম ছিল না। একটা ছক্কা কখনওই দলকে বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন করাতে পারে না।'' বরাবরই তিনি ঠোঁটকাটা। সোজা কথা সপাটে বলতে তিনি সাবলীল। এদিন গম্ভীর বলেছেন, ''আপনাদের এখনও মনে হয় কোনও একজন ক্রিকেটার তাঁর ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স দিয়ে বিশ্বকাপ জেতে পারে? যদি তেমনটাই হত তাহলে ভারত এখনও পর্যন্ত সবগুলো বিশ্বকাপ জিতত। এটা আমাদের দুর্ভাগ্য যে দেশ শুধুমাত্র কিছু ব্যক্তির পুজো করছে। আমি কখনওই ব্যক্তিপুজোয় বিশ্বাসী নই। দলগত খেলায় দলই শেষ কথা। বিশ্বকাপ ফাইনালে আপনি জাহির খানের অবদান কী করে ভুলতে পারেন! প্রথম স্পেলে লাগাতার তিনটে মেডেন ওভার করেছিল ও। যুবরাজ সিং কোয়ার্টার ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে দুরন্ত খেলেছিল। সেটা ভুলতে পারেন? দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সচিন তেন্ডুলকার সেঞ্চুরি করেছিলেন। সেটা অস্বীকার করতে পারেন? কিন্তু আমরা বারবার ওই একটা ছক্কার কথাই মনে করি। ২০১১ বিশ্বকাপে যুবরাজ সিং ম্যান অফ দ্য টুর্নামেন্ট হয়েছিল। আমরা ওর কথা তো বলি না। বলি শুধু একটা ছক্কার কথাই।''

    Published by:Suman Majumder
    First published: