2011 World Cup: এক দশক পূর্ণ, বর্তমানে কী করছেন বিশ্বকাপ-জয়ী দলের সদস্যরা?

2011 World Cup: এক দশক পূর্ণ, বর্তমানে কী করছেন বিশ্বকাপ-জয়ী দলের সদস্যরা?

2011 World Cup: এক দশক পূর্ণ, বর্তমানে কী করছেন বিশ্বকাপ-জয়ী দলের সদস্যরা?

কেমন আছেন বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্যরা? কী করছেন তাঁরা? আসুন জেনে নেওয়া যাক!

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: 'ধোনি ফিনিশেস ইট অফ ইন স্টাইল'। রবি শাস্ত্রীর (Ravi Shastri) সেই ধারভাষ্য আজও প্রতিটি ভারতবাসীর মনে গেঁথে রয়েছে। ২০১১ সালের ২ এপ্রিল। সে দিন ভারতীয় ক্রিকেট দলের ২৮ বছরের অধরা স্বপ্ন পূরণ হয়েছিল। ওয়াংখেড়ের মাটিতে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিতে নিয়েছিল ভারত। আজ এক দশক পূর্ণ হল। কেমন আছেন বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্যরা? কী করছেন তাঁরা? আসুন জেনে নেওয়া যাক!

মহেন্দ্র সিং ধোনি (MS Dhoni)

ভারতের অন্যতম সফল অধিনায়ক। তাঁর নেতৃত্বে বিশ্বজয়ের স্বপ্ন পূরণ করেছিল ভারত। ২০১৩ সালে তাঁর নেতৃত্বেই চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জেতে ভারতীয় দল। রয়েছে ২০০৭ সালের টি টোয়েন্টি খেতাবও। গত বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে সন্ন্যাস নেন তিনি। বর্তমানে চেন্নাই সুপার কিংসের অধিনায়ক মাহি।

সচিন তেন্ডুলকর (Sachin Tendulkar)

বিশ্বকাপ জেতার পর আরও ১০ টি ওয়ানডে খেলেছিলেন ক্রিকেট ঈশ্বর। ২০১৩ সালে ক্রিকেটকে বিদায় জানান।। এর পর থেকে নানা ধরনের সামাজিক কাজে যুক্ত রয়েছেন। বর্তমানে করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন তিনি।

বীরেন্দ্র সেওয়াগ (Virender Sehwag)

এইরকম মাপের ওপেনারকে আজও খুঁজে পায়নি ভারতীয় দল। বিশ্বের আক্রমণাত্মক ব্যাটসম্যানদের তালিকায় এখনও অন্যতম নাম বীরেন্দ্র সেওয়াগ। ২০১৫ সাল পর্যন্ত ভারতের হয়ে খেলেছেন তিনি। ধারাভাষ্যকার হিসেবে প্রায় নজরে আসনে। Twitter-এও সেওয়াগের মস্তানি লক্ষ্য করা যায়। সম্প্রতি রোড সেফটি ওয়ার্ল্ড সিরিজে (Road Safety World Series) খেলেছেন তিনি।

গৌতম গম্ভীর (Gautam Gambhir)

ফাইনালে তাঁর অবদান আজও ভোলা যায় না। ২০১৮ সালে ক্রিকেট থেকে অবসর ঘোষণা করার পর সক্রিয় ভাবে রাজনীতিতে পা রাখেন। এখন BJP-এর সাংসদ। তাঁর নেতৃত্বে ২০১২ ও ২০১৪ সালে IPL খেতাব জিতেছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স। আপাতত রাজনীতি নিয়েই ব্যস্ত রয়েছেন।

বিরাট কোহলি (Virat Kohli)

বর্তমানে ভারতীয় ক্রিকেটের মুখ তিনি। সে দিনের বিরাট আজ কিং কোহলি। ভারতীয় দলের অধিনায়ক। ধোনি পরবর্তী ভারতীয় দলের সাফল্যের পিছনে এই মানুষটির ভূমিকা অপরিসীম। ব্যাট হাতে গড়ে চলেছেন একের পর এক রেকর্ড। তাঁর নেতৃত্বে সম্প্রতি ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে (World Test Championship) পৌঁছেছে ভারতীয় দল। আসন্ন IPL-এ রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে খেলতে দেখা যাবে তাঁকে।

যুবরাজ সিং (Yuvraj Singh)

২০১১ সালের বিশ্বকাপে প্লেয়ার অফ দ্য টুর্নামেন্ট হয়েছিলেন তিনি। এর পর ক্যানসার আক্রমণ করে। সেই যুদ্ধ জয় করে ফের দলে যোগ দিয়ছিলেন। কিন্তু নিয়মিত খেলতে পারেননি। পুরোনো ফর্মেও দেখা যায়নি তাঁকে। ২০১৯ সালে অবসর ঘোষণা করেন। নানা ধরনের ব্র্যান্ড, ক্যানসার ক্যাম্পেইনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। সম্প্রতি রোড সেফটি ওয়ার্ল্ড সিরিজে (Road Safety World Series) খেলেছেন যুবরাজ।

সুরেশ রায়না (Suresh Raina)

গত বছর একের পর এক দুঃখের খবর নিয়ে এসেছে করোনা। এর মাঝেই এক সন্ধ্যায় প্রথমে ধোনি ও পরে রায়না অবসর ঘোষণা করেন। ২০১৮ সালের আগে ভারতীয় দলের হয়ে একের পর এক ম্যাচ খেলেছেন সুরেশ রায়না। বর্তমানে IPL-এ চেন্নাইয়ের হয়ে খেলেন।

ইউসুফ পাঠান (Yusuf Pathan)

বিশ্বকাপের পর শুধুমাত্র ছয়টি ওয়ানডে খেলেন তিনি। এর পর IPL ম্যাচে দেখা যায় তাঁকে। মাসখানেক আগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি রোড সেফটি ওয়ার্ল্ড সিরিজে (Road Safety World Series) খেলেছেন।

হরভজন সিং (Harbhajan Singh)

২০১৬ সালে দেশের হয়ে শেষ ম্যাচ খেলেছিলেন। তবে IPL-এ এখনও খেলে চলেছেন। মুম্বইয়ের পর চেন্নাইয়ের দলেও দেখা গিয়েছিল তাঁকে। খেলার পাশাপাশি মাঝে মাঝে ধারাভাষ্যকারের ভূমিকাতেও দেখা যায় হরভজনকে।

রবীচন্দ্রন অশ্বিন (Ravichandran Ashwin)

বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম সেরা স্পিনার তিনি। অস্ট্রেলিয়া হোক বা ইংল্যান্ড টেস্ট। উভয় ক্ষেত্রেই ভারতের জয়ে বড় অবদান রয়েছে তাঁর। তবে ২০১৭ সাল থেকে লিমিটেড ওভার কেরিয়ারে ভাটা পড়ে। ভারতীয় টেস্ট স্কোয়াডের পারমানেন্ট মেম্বার হয়ে গিয়েছেন তিনি।

পীযূষ চাওলা (Piyush Chawla)

বিশ্বকাপের সময়ই নিজের শেষ ওয়ানডে ম্যাচ খেলেন। পরে ২০১২ সালে বেশ কয়েকটি T20 ম্যাচ খেলেছিলেন। তবে এখনও IPL খেলে চলেছেন। আপাতত আসন্ন IPL টুর্নামেন্টে তাঁকে দেখার অপেক্ষা।

জাহির খান (Zaheer Khan)

সেবার বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী ছিলেন তিনি। তবে যুগ্মভাবে। ২০১৫ সাল পর্যন্ত দলের হয়ে খেলেন। এর পর অবসর নেন। ক্রিকেট ধারাভাষ্যে হাত পাকানোর পর মুম্বই ইন্ডিয়ানস দলের ডিরেক্টর পদে যোগ দিয়েছেন। বর্তমানে তরুণ প্রতিভাদের তুলে আনাই তাঁর কাজ।

আশিস নেহরা (Ashish Nehra)

বার বার নানা চোটের শিকার হয়েছেন। তবে কোনওদিন গতির সঙ্গে আপোস করেননি এই পেসার। ২০১৮ সালে ক্রিকেটকে বিদায় জানান। বর্তমানে RCB-এর বোলিং কোচের পাশাপাশি একজন সফল ধারাভাষ্যকার তিনি।

মুনাফ পটেল (Munaf Patel)

বিশ্বকাপের পর মাত্র ছয়টি ম্যাচ খেলেন। ২০১৬ সালে কয়েকটি ম্যাচ খেলতে দেখা গিয়েছিল মুনাফ পটেলকে। এর পর ২০১৬ সালের IPL-এ গুজরাত লায়ন্সের (Gujarat Lions) হয়ে খেলেন। ২০১৮ সালে ক্রিকেটকে বিদায় জানান। তার পর থেকে গ্রামের বাসিন্দাদের পাশে দাঁড়ান। বর্তমানে স্থানীয়দের নানা কাজে সাহায্য করেন তিনি। সম্প্রতি রোড সেফটি ওয়ার্ল্ড সিরিজে (Road Safety World Series) খেলেছেন তিনি।

শ্রীসন্থ (S Sreesanth)

বিশ্বকাপ জয়ের দু'বছর পর ২০১৩ সালে স্পট ফিক্সিংয়ের জন্য ক্রিকেট থেকে ব্যান করা হয়েছিল তাঁকে। পরবর্তী সময়ে ডোমস্টিকে ক্রিকেটে ভালো পারফর্ম করেন। সইদ মুস্তাক আলি ট্রফি (Syed Mushtaq Ali Trophy) ও বিজয় হাজারে ট্রফিতেও (Vijay Hazare Trophy) নিজের রাজ্যের হয়েও প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

Published by:Simli Raha
First published: