মমতাও চণ্ডীপাঠ করছে, বিজেপি তো পরিবর্তন করেই দিয়েছে : যোগী আদিত্যনাথ

মমতাও চণ্ডীপাঠ করছে, বিজেপি তো পরিবর্তন করেই দিয়েছে : যোগী আদিত্যনাথ

''আসার সময় হেলিকপ্টার থেকে দেখলাম, বিভিন্ন জায়গায় বিজেপি সমর্থকদের আটকাচ্ছে ওরা।''

''আসার সময় হেলিকপ্টার থেকে দেখলাম, বিভিন্ন জায়গায় বিজেপি সমর্থকদের আটকাচ্ছে ওরা।''

  • Share this:
    #বলরামপুর: হরিরাম মাহাতো, কামিনী টুডু, মোনিকা কোঙার। রাজনৈতিক হিংসায় প্রাণ হারানো তিন বিজেপি কর্মীর পরিবারের সদস্য তাঁরা। মঙ্গলবার পুরুলিয়ার বলরামপুরের সভামঞ্চ থেকে তাঁদের কথাই সবার আগে বললেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তিনি বললেন, ''টিএমসির গুণ্ডাবাহিনী আইন মানে না। তবে আমরাও বলে রাখছি, আমাদের কর্মীদের রক্ত ব্যর্থ হবে না। শহিদদের আত্মত্যাগ আমরা ভুলব না। শহিদদের পরিবারকে আমরা ন্যায়বিচার দেব। দুমাস পর বিজেপি বাংলায় ক্ষমতায় আসলে তৃণমূলের গুণ্ডাদের খুঁজ বের করে শাস্তি দেব। আর দুমাস পরই বাংলায় আসছে ভাজপা সরকার। আমি তার আভাস পাচ্ছি। তৃণমূলের অরাজকতার দিন শেষ। বাংলাকে শেষ করে দিয়েছে তৃণমূল। তবে আর না। মমতার সরকারকে বাংলার জনগণ উত্খাত করে ছাড়বে।'' যোগীর মুখে আগের সফরের কথাও শোনা গেল। বললেন, ''২০১৯-এ পুরুলিয়ায় এসেছিলাম। সেবার পুরুলিয়ায় আমার কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ার সবরকম চেষ্টা করেছিল তৃণমূল। আমার হেলিকপ্টার নামতে দেয়নি। সেবার আমি ৩৫ কিমি সড়কপথে এখানে এসেছিলাম। তার পরই ঠিক করেছিলাম, ২০২১-এ পুরুলিয়া থেকেই নির্বাচনী প্রচার শুরু করব। বলরামপুরে এসে দেখলাম এখনও একই আছে সব এখানে। তৃমমূলের সন্ত্রাস চলছে। দুর্নীতিও চলছে দেদার। এবার এসব বন্ধ করার প্রতিজ্ঞা নিয়েছি। বদল করেই ছাড়ব। আসার সময় হেলিকপ্টার থেকে দেখলাম, বিভিন্ন জায়গায় বিজেপি সমর্থকদের আটকাচ্ছে ওরা। ভেবেছিল আমার সভায় লোক হবে না। এসে দেখে যাও আমার সভায় কেমন জনসমুদ্র। বিজেপি সমর্থকর সব বাধা ভেঙে সভায় এসেছে। কর্মীকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন।'' এর পরই সরাসরি মমতাকে আক্রমণ করেন যোগী। বলেন, ''দিদি রামের নাম শুনলেই রেগে যায়। ২০১৪-এর আগে এই দেশে একটা প্রজন্ম ছিল, যারা মন্দিরে গেলে ভাবত সেকুলারিজম নষ্ট হয়ে যাবে। এখন মন্দিরে যেতে হয় মমতার মতো অনেককে। চণ্ডীপাঠ করেন মমতা। এটাই নতুন ভারত। তা হলে বিজেপি তো পরিবর্তন এনেই দিয়েছে। রাহুল গান্ধীও নির্বাচনের সময় মন্দিরে যান। একবার তো মন্দির গিয়ে নমাজ পড়ার মতো বসেছিলেন রাহুল। পুজারী বলেন, এটা মন্দির। ঠিক করে বসুন। আসলে সেকুলারিজম দেখাতে গিয়ে নিজেদের সংস্কৃতিই ভুলে যান ওরা।'' বাংলায় এসে উত্তরপ্রদেশ মডেলের উদাহরণ টানেন যোগী। বলেন, ''চার বছর ধরে ভাজপা রয়েছে উত্তরপ্রদেশে। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার সুবিধা পেয়েছেন ৪০ লাখ মানুষ। এক লাখ ৫৬ হাজার মানুষ গ্যাসের কানেকসন পেয়েছে। ছয় কোটি মানুষ আয়ুস্মান ভারতের সুবিধা পায়। ২ কোটি ৪২ লাখ কৃষক প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধির সুবিধা পেয়েছেন। উত্তরপ্রদেশ তো অনেক বড় রাজ্য। সেখানে হলে বাংলায় কেন উন্নয়ন হবে না। কেন বারবার গরীব মানুষকে কেন্দ্রের সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকতে হবে! বাংলায় গোমাতা চুরি হয়। উত্তরপ্রদেশে গরুকে মারতে দিই না আমরা। এখানে গরুর উপর যত অত্যাচার! বাংলায় তো অনুপ্রবেশের ছড়াছড়ি। এখানে গরীব মানুষের রেশন খেয়ে নেয় অনুপ্রবেশকারীরা। বাংলায় এসব অন্যায়ের অবার শেষ হওয়া দরকার।''
    Published by:Suman Majumder
    First published: