দেশ 'গড়ছে' বিজেপি, 'রামকার্ড' আর ধর্মীয় তাসে বাংলা দখলের ডাক যোগীর!

দেশ 'গড়ছে' বিজেপি, 'রামকার্ড' আর ধর্মীয় তাসে বাংলা দখলের ডাক যোগীর!

যোগীর অভিযোগ

বাংলার ভোটপর্বজুড়ে বেশ কয়েকটি সভা করার কথা তাঁর। আর প্রতিটি সভাতেই যোগীর অস্ত্র যে হবেন 'রাম', তা তাঁর এদিনের সভা থেকেও স্পষ্ট।

  • Share this:

    #বাঁকুড়া: একুশের ভোটযুদ্ধের মুখে আবারও বাংলায় পা রেখে সেই ধর্মীয় তাসকেই ঢাল করলেন যোগী আদিত্যনাথ। পুরুলিয়ার সভা সেরে বাঁকুড়ার রাইপুর তার অন্যথা করলেন না উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী। বললেন, 'বিজেপির জন্যই আজ বাংলায় রামনাম হচ্ছে। আর সেই ভয়েই মমতাকে চন্ডীপাঠ করতে হচ্ছে, মন্দিরে ছুটতে হচ্ছে। বাংলায় তো আসল পরিবর্তন বিজেপি করেই দিয়েছে।' বাংলায় নির্বাচনে বিজেপির তারকা প্রচারকের তালিকায় শুরুর দিকেই নাম রয়েছে যোগীর। বাংলার ভোটপর্বজুড়ে বেশ কয়েকটি সভা করার কথা তাঁর। আর প্রতিটি সভাতেই যোগীর অস্ত্র যে হবেন 'রাম', তা তাঁর এদিনের সভা থেকেও স্পষ্ট।

    কিছুদিন আগেই মালদায় সভা করেছিলেন যোগী আদিত্যনাথ। মালদায় পরিবর্তন যাত্রার সমাপ্তি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। বাংলায় পা রেখে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানিয়ে সেই যে রাম নিয়ে তৃণমূলকে আক্রমণ করা শুরু করেছেন যোগী। এদিনও সেই ধারাই বজায় রাখলেন। বললেন, ‘সংস্কৃতির পীঠস্থান বাংলা। কিন্তু সেই বাংলার অবস্থা এখন কেমন তা সবার জানা। অরাজকতা চলছে, অপরাধ বেড়েছে। সেই জন্যই বাংলায় পরিবর্তন আনতে হবে।’ তাঁর সংযোজন, ‘রাম নাম সর্বত্র বিরাজমান। রাম নাম অপছন্দ করলে তাঁর কোথাও জায়গা নেই।’

    এর আগে নির্বাচনী প্রচারে এসে যোগীর গলায় উঠে এসেছিল গো হত্যা প্রসঙ্গও। যোগী বলেছিলেন, 'গো হত্যা বন্ধ করতেও আমরা অনেক পরিকল্পনা করছি। উত্তরপ্রদেশের মধ্যে কেউ গো হত্যা করতে পারে না। ২০১৭ সালে আমাদের সরকার এসেছিল। তারপরেই এসব বন্ধ করা হয়। বিজেপিকে ক্ষমতায় আনুন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বেআইনি কষাইখানা বন্ধ হবে, গোরু পাচার বন্ধ হবে।'

    বাংলাকে যে বিজেপি প্রকৃতপক্ষেই পাখির চোখ করছে, তা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যোগীর কথাতেও। বিজেপির তারকা প্রচারক বলেন, 'পশ্চিমবঙ্গের ভোটের প্রচারে আমি নিজেই শরিক হতে চেয়েছিলাম। সবাই ভেবেছিল, আমার সভায় ভিড় হবে না। কিন্তু আমি হেলিকপ্টার থেকে দেখছিলাম, কর্মীদের সভায় আসার জন্য আটকানো হচ্ছে। কিন্তু এখন আমার সভায় জনসমুদ্র। আমি জানতাম, সব বাধা টপকে কর্মীরা সভায় আসবেন। কেউ আটকাতে পারবে না।'

    বাংলায় মহিলাদের সুরক্ষা নিয়েও এদিন দুটি সভাতেই সরব হয়েছেন যোগী। তাঁর দাবি, বাংলাতে একেবারেই সুরক্ষিত নন। বাংলায় মহিলাদের উপর অত্যাচার চলছে। আর পুলিশ প্রশাসন পক্ষপাত দুষ্ট আচরণ করছেন। এইসব কোনওভাবেই চলতে দেওয়া যায় না।' যদিও তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষের কটাক্ষ 'হাথরসের ঘটনা তো আমরা দেখলাম। উত্তরপ্রদেশে প্রতিদিন হাথরসের মতো ঘটনা ঘটে। আর সে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কিনা নারী নিরাপত্তা নিয়ে কথা বলছেন! এর থেকে হাস্যকর আর কিছু হতে পারে না।'

    First published: