গরু কার? দারুণ মজার প্রক্রিয়ায় গরুই প্রমাণ করল তার মালিক কে! 

আরও সিদ্ধান্ত হয় দুই পক্ষকেই আগাম জরিমানা ৩০০০০ টাকা জমা দিতে হবে, আর এই গরু যার বাড়িতে প্রবেশ করবে তার জরিমানার টাকা ফিরিয়ে দেওয়া হবে ও বাকি টাকা গ্রামের করোনা আক্রান্তের জন্য খরচ করা হবে।

আরও সিদ্ধান্ত হয় দুই পক্ষকেই আগাম জরিমানা ৩০০০০ টাকা জমা দিতে হবে, আর এই গরু যার বাড়িতে প্রবেশ করবে তার জরিমানার টাকা ফিরিয়ে দেওয়া হবে ও বাকি টাকা গ্রামের করোনা আক্রান্তের জন্য খরচ করা হবে।

  • Share this:

#বীরভূম: গোরুর ইচ্ছাতেই বাজিমাত। বীরভূমের প্রত্যন্ত গ্রামে গোরুর ইচ্ছাতেই মনিব ফিরে পেল হারানো মান। বীরভূমের কাকরতলা থানা এলাকায় কদমডাঙ্গা গ্রামের ঘটনা। স্থানীয় দিনমজুর আজিজুল শেখ ওই গ্রামের বাসিন্দা প্রতিবেশী রাজ্য ঝাড়খণ্ডের কাঠিজুরির এক আদিবাসের কাছ থেকে বেশ কয়েক দিন আগে চাষের কাজের জন্য একটি গরু কেনেন। এদিকে আবার প্রায় ওই একই সময়ে বীরভূমের সদাইপুর থানার সগর গ্রামের ফরিদ চৌধুরীর চুরি যায় একটি গোরু। ওই ফরিদ চৌধুরীর মেয়ের শ্বশুরবাড়ি আবার ওই কাঁকড়তলা থানার  কাদমডাঙ্গা গ্রামে।

ওই  গ্রামেরই আজিজুল শেখের নতুন গরু কেনার খবর জামাইয়ের মাধ্যমে এসে পৌঁছায় সদাইপুরের ফরিদ চৌধুরীর কাছে। তিনি দাবি করেন আজিজুলের বদলই হল তার চুরি যাওয়া গোরু। এই নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিবাদের সৃষ্টি হয়। এদিকে গ্রামবাসীরা বলতে থাকেন আজিজুলই চোরাই বলদ কিনেছে। আজিজুল কাঁকড়তলা থানার কদমডাঙা গ্রামের উচপদস্থ ব্যক্তি হওয়ায় লজ্জায় অস্বস্তিতে পড়তে হয় তাঁকে। গ্রামের লোকজনদের মধ্যে এই নিয়ে সালিশি সভা বসে পাঁচজনকে ডেকে। এই সমস্যার সমাধান করতে সালিশি সভায় শেখ পলাশ নামে এক গ্রামবাসী একটি প্রস্তাব দেয়। দুটি গ্রামের প্রবেশদ্বারে গরুটিকে ছেড়ে দেওয়া হবে, বদলটি যার ঘরে যাবে সেই পাবে বলদের মালিকানা৷ এমনটাই প্রস্তাব দেন গ্রামের ওই বাসিন্দারা। আরও সিদ্ধান্ত হয় দুই পক্ষকেই আগাম জরিমানা ৩০০০০ টাকা জমা দিতে হবে, আর এই গরু যার বাড়িতে প্রবেশ করবে তার জরিমানার টাকা ফিরিয়ে দেওয়া হবে ও বাকি টাকা গ্রামের করোনা আক্রান্তের জন্য খরচ করা হবে। এই প্রস্তাবে গোরুর দুই দাবিদার ও গ্রামের মানুষজন রাজি হয়ে যায় ।

এরপর যখন গরুটিকে একটি ছোট্ট লরিতে চাপিয়ে প্রথমে বীরভূমের সদাইপুরের ফরিদ চৌধুরীর গ্রামে ছেড়ে দেওয়া হলে গরুটি দিশে হারা হয়ে যায়। তারপর কাঁকড়তলা থানা একাকার কামডাঙ্গা গ্রামে বলদ ছাড়তেই বলদটি সোজা আজিজুলের বাড়ি চলে যায়।  শেখ আজিজুল বলেন, “ওই বলদ চাষের জন্য আমি ঝাড়খণ্ড থেকে ২৩ হাজার টাকায় কিনেছিলাম। কিন্তু গ্রামের জনৈক বাসিন্দা তার শ্বশুরকে ডেকে নিয়ে এসে বলে বলদ বাকি তাদের। আমি প্রথমে কিছুটা অপ্রস্তুতে পড়েছিলাম। কারণ আমার গায়ে চোরের তকমা সেঁটে দেওয়ার তোড়জোড় শুরু হয়েছিল। বাধ্য হয়ে আমি গ্রামবাসী এবং বিক্রেতাকে ডেকে পাঠাই। গ্রামবাসীরা যে সিদ্ধান্ত দেয় সেটাই আমি মেনে নিই। শেষ পর্যন্ত প্রমাণ হল আমার কেনা বলদ চোরাই নয়”। শেখ পলাশ বলেন, “গরু নিয়ে বিবাদ মেটাতে আমরা ওই অভিনব সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। আমাদের সিদ্ধান্তে কাজ হয়ে যায়। আমরা ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করে সোসাইটিতে রেখে দিয়েছি। গ্রামের কারও করোনা হলে ওই টাকা ব্যয় করা হবে”।

Published by:Pooja Basu
First published: