সি এ বি নিয়ে উদ্বিগ্ন নয় বারাসতের সুবর্ন পত্তন, বিভ্রান্ত মায়ানমারের পূর্নবাসিতরা

সি এ বি নিয়ে উদ্বিগ্ন নয় বারাসতের সুবর্ন পত্তন, বিভ্রান্ত মায়ানমারের পূর্নবাসিতরা
  • Share this:

RAJARSHI ROY

#বারাসত: বার্মিজ হও অথবা এদেশ ছাড়ো। এই স্লোগানের সামনে দাঁড়িয়ে ১৯৬৪ সাল থেকে ভারতে ফিরে আসতে শুরু করে বর্মা অধুনা মায়ানমারের ভারতীয়রা। তৎকালীন প্রধান মন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধির উদ্যোগে সেই সময় তাঁদের এদেশে স্থায়ীভাবে বসবাসের ব্যবস্থা করা হয়। সব কিছু ছেড়ে আসা সে দেশের প্রতিষ্ঠিত মানুষরা সবহারা হন এদেশে। কেউ প্লেনে, কেউ বা জাহাজে, সে সময় এসেছিলেন এদেশে। ১৯৬৪ থেকে ১৯৭৭ সালের মধ্যে যাঁরা সেই সময় ভারতে এসেছেন তাঁদের আড়াই কাঠা জমিতে দু’কামরার ঘর মর্টগেজ হিসাবে দিয়েছিল সরকার। সঙ্গে ব্যবসা করার জন্য ৫০০০ টাকাও লোন হিসাবে দেওয়া হয়।

বর্তমানে বারাসতের সুবর্ণ পত্তন, ইরাবতি কলোনি, গোবরডাঙ্গা ও লিলুয়া প্রভৃতি জায়গায় এমন কলোনি রয়েছে। বারাসাত সুবর্ণ পত্তনের বাসিন্দাদের দাবি, তাঁরা তো দেশের নাগরিক হিসাবে মায়ানমার থেকে এসেছেন। তবু শিক্ষিকা শোভা গুহর দাবি, মায়ানমারে তাঁর নিজস্ব স্কুল ছিল। ভারতে থাকবেন বলে পরিবারের সঙ্গে এদেশে চলে এসেছেন। তাঁর প্রশ্ন এতদিন ধরে তিনি এদেশ আছেন, কিন্তু সরকার থেকে কোনও জমি বা পুনর্বাসনের সাহায্য তাঁরা পাননি। সে সময় এদেশে আসার পাসপোর্টে ভারতীয় হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া ছিল। শোভা গুহর প্রশ্ন, নতুন করে মায়ানমার থেকে কেউ এলে তিনি কি এদেশের নাগরিকত্ব পাবেন? লোকসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ঘোষণা, মায়নমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের কোনও নাগরিকত্ব দেওয়া হবে না। ফলে সে দেশে এখনও অসংখ্য বাঙালি রয়েছেন। তাঁরা ভারতে আসতে চাইলে কি হবে? তা নিয়ে বিভ্রান্ত তাঁরা। আবার বাবা মায়ের হাত ধরে উত্তম দাস কিংম্বা ইন্দ্রনী চক্রবর্তী এসেছেন সেই বছর ছয় বয়সে। তাঁরা প্রশ্ন তুলছেন, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে সংখ্যাগুরু মানুষকে বাদ দেওয়া এই নাগরিকত্ব বিলে প্রতিবেশী অন্য রাষ্ট্রের কথা কেন নেই? মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী এ রাজ্যে এন আর সি হতে দেবেন না বলেছেন ৷ এই ঘোষণাকে সমর্থন জানিয়েছেন তাঁরা। কিন্তু মানুষে মানুষে বিভেদ করা হচ্ছে এই আইনে। তবে সুবর্ণ পত্তনের আর এক বাসিন্দা দিলীপ দে’র দাবী মায়নমারের বাঙালিদের এই বিল থেকে ভয় পাওয়ার কিছুই নেই। কারণ বাঙালিরা মায়নমারে সংখ্যাগুরু নয়।

First published: 04:55:05 PM Dec 10, 2019
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर