দক্ষিণবঙ্গ

corona virus btn
corona virus btn
Loading

বাঁচতেই গুলি চালিয়েছিল জীবনতলার মোস্ট ওয়ান্টেড অপরাধীরা, ওদের আসল পরিচয় জানলে চমকে যাবেন

বাঁচতেই গুলি চালিয়েছিল জীবনতলার মোস্ট ওয়ান্টেড অপরাধীরা, ওদের আসল পরিচয় জানলে চমকে যাবেন
জমা হওয়া অস্ত্রশস্ত্র।

এই নিয়ে বিজেপি এবং তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে কাদা ছোঁড়াছুড়ি শুরু হয় সকাল থেকে।

  • Share this:

সোমবার রাত্রি নটা থেকে রীতিমতো সরগরম জীবনতলা থানা এলাকার কুরিয়াভাঙা গ্রাম। দুষ্কৃতীদের ধরতে গিয়ে গ্রামের তিন জন গুলিবিদ্ধ হয়।তিনজনকেই রাত্রিবেলা চিকিৎসার জন্য কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। যার বুকে গুলি লেগেছিল তিনি এখনও আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।  সেই রাত থেকেই রাজনৈতিক চাপান-উতোর তৈরি হয়। ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক সওকাত মোল্লা দাবি করেন,   তাঁকে খুন করতে এসেছিল বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। সেই নিয়ে বিজেপি এবং তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে কাদা ছোঁড়াছুড়ি শুরু হয় সকাল থেকে।

ওই রাত থেকেই দুষ্কৃতীরা পলাতক ছিল। গ্রামের লোকেদের বক্তব্য অনুযায়ী, গ্রামের কুতুবুদ্দিন শেখের বাড়িতে আট থেকে নয় দিন ধরে তিনজন অপরিচিত ব্যক্তি থাকছিল। সোমবার সন্ধ্যাবেলা কুতুবউদ্দিন কে তার জ্যাঠতুতো দাদা নুর ইসলাম শেখ, ওই ব্যক্তিদের পরিচয় জানতে চাইলে, কুতুবউদ্দিন বলে - ওই তিনজন হলদিয়াতে মানুষ খুন করে এসে ওখানে লুকিয়ে রয়েছে। ওরা ওদের খাওয়া দাওয়া বাবদ দশ হাজার টাকা কুতুবউদ্দিনকে দিয়েছে।ও আর এই তিনজনকে কুতুবুদ্দিনের কাছে রেখে গিয়েছে ওর ভগ্নিপতি শাহজাহান মোল্লা।

বিষয়টি জানার পর গ্রামের সবাই ওই তিনজনকে ধরে পুলিশে দেওয়ার পরিকল্পনা শুরু করে। সেই সুযোগে কুতুবউদ্দিন ওদেরকে ওঁর মাছের ভেড়ির আলাঘরে পাঠিয়ে দেয়। সেখানে গ্রামের মানুষেরা রড বাস নিয়ে মারতে উদ্যত হয়, ওই তিনজনকে। তখন ওই তিনজন প্রাণ বাঁচাতে এলোপাথাড়ি গুলি ছুঁড়তে ছুঁড়তে এলাকা থেকে পালিয়ে যায়।

 মঙ্গলবার সকালে তিনজনকে তালদি স্টেশন এর কাছে ধরে ফেলে জনসাধারণ। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ এসে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যাওয়ার জন্যই ওই তিনজন প্রাণে বেঁচে যায়। পুলিশ ওদেরকে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে, থানায় নিয়ে যাওয়ার পরে আসল কাহিনি সামনে আসে।

 গত ১১ই অক্টোবর হুগলী বৈদ্যবাটিতে বিষ্ণু মাল নামে এক যুবককে কেটে টুকরো টুকরো করে খুন করে পালিয়ে আসে এই তিনজন। এদের নাম বিশাল দাস ,বিপ্লব বিশ্বাস ও রথীন সিংহ।পুলিশের হাত থেকে বাঁচার জন্যই এরা ক্যানিংয়ের মধুখালীর জাকির পূরকাইতের বাসন্তী থানা এলাকার মাছের ভেড়ির আলা ঘরে এসে থাকছিল।

মাঝে মাঝে এরা হুগলিতে যায় কোনও না কোনও প্রোমোটারের কাছ থেকে টাকা আনতে।ইদানিংকালে মোটরসাইকেলে পুলিশি টহল ও তল্লাশি শুরু হওয়ার জন্যই জাকির,শাজাহানের মাধ্যমে কুতুবের বাড়িতে স্থানান্তরিত করে এদেরকে।   স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব থেকে বিধায়ক নিজেরা এদের বিরুদ্ধে যে খুনের চক্রান্তের অভিযোগ তুলছিল, পুলিশ সূত্রে খবর, সেই অভিযোগের কোনো সত্যতা এখনো পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসেনি।   বারুইপুর পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (জোনাল) ইন্দ্রজিৎ বসু জানান ' বিশাল ও তার সাগরেদরা স্বীকার করেছে, তারা প্রাণে বাঁচার জন্য গুলি চালিয়েছিল।ওদেরকে ধরার পর ওরা জেরায় স্বীকার করেছে হুগলী বৈদ্যবাটিতে খুনের কথা এবং মাথাটি যে এখনো পাওয়া যায়নি ,সেটিরও তথ্য দিয়েছে পুলিশের কাছে। ওদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে একটি সেভেন এম এম পিস্তল ও একটি ওয়ান সটার। সঙ্গে কয়েকটি কার্তুজ সাতটি মোবাইল ও দুটি সিম কার্ড।'   এই বিশাল এই ভাবে ধরা পড়ে যাবে,সেটা না ভেবেছিল চুঁচুড়া থানার পুলিশ বা বারুইপুর জেলা পুলিশ।বিশাল আবার ধরা পড়া মানে পুলিশের কাছে একটা বড় সাফল্য।

Published by: Arka Deb
First published: November 4, 2020, 1:07 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर